kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বেশির ভাগ পণ্যে

পোশাকে ভর করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পোশাকে ভর করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৯ শতাংশ হলেও বেশির ভাগ পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রবিবার দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের যে হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এর মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যেরই লক্ষ্যমাত্রা ছিল নেতিবাচক।

এতে দেখা যায়, মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ৮২ শতাংশ আয় এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে যেসব প্রধান খাত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি এমন সব পণ্যের মধ্যে রয়েছে চিংড়ি, কৃষিপণ্য, সিমেন্ট, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়া, চামড়ার জুতা, পাট ও পাটের ব্যাগ, হোম টেক্সটাইল, বাইসাইকেল এ রকম প্রায় অর্ধশত পণ্য।

ইপিবির দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি (২০১৫-১৬) অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি আয় হয়েছে দুই হাজার ২১২ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এই আয় গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে অর্জিত দুই হাজার ৩১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের চেয়ে ৮.৯২ শতাংশ বেশি। এ সময়  লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আয় হয়েছে দুই হাজার ২১২ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.৩৫ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, মোট পণ্য রপ্তানির ৮১.৯৩ শতাংশ আয় হয়েছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অর্থের হিসাবে তা এক হাজার ৮১২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ৮৬৪ কোটি ডলার এবং ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৯৪৮ কোটি ডলার। আর পোশাক খাতের এই মোট আয় গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্জিত এক হাজার ৬৫৫ কোটি ডলারের চেয়ে ৯.৪৭ শতাংশ বেশি।

এদিকে শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে। এই আয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অর্জিত ২৫১ কোটি ডলারের চেয়ে ১৩.৬০ শতাংশ বেশি।

গত আট মাসের পণ্যে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বিশ্লেষণে দেখা যায়, চিংড়ি রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ কোটি ২২ লাখ ডলার। আর আয় হয়েছে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। প্লাস্টিকে আয় কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এ সময় আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত কোটি ৬১ লাখ ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে আয় কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৮ কোটি ২২ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ২৭ লাখ ডলার। জুতা রপ্তানিতে আয় কম হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আর আয় হয়েছে ৩২ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

তৈরি পোশাক ছাড়া রপ্তানি আয় বেড়েছে এমন পণ্যগুলোর মধ্যে হিমায়িত মাছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আয় হয়েছে তিন কোটি ৫৭ লাখ ডলার। আর লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন কোটি ২২ লাখ ডলার। কাঁচা পাট রপ্তানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। আয় হয়েছে ৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত কোটি ২২ লাখ ডলার। টেরি টাওয়েলের রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যে আয় বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। এ সময় আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ডলার, আর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।


মন্তব্য