এসইজেডে বিনিয়োগ করলে অগ্রাধিকার-332574 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


এসইজেডে বিনিয়োগ করলে অগ্রাধিকার

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এসইজেডে বিনিয়োগ করলে অগ্রাধিকার

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের আর্থিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতেই এই এসইজেড স্থাপন করেছে। আর যেসব বিনিয়োগকারী এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ করবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সব ধরনের সেবা দেওয়া হবে।’

গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিল্প খাতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. তৌফিক-ই-ইলাহী। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য রহমান মুর্শেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পেট্রোলিয়াম এবং খনিজ সম্পদ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম।

সেমিনারে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছে। আর জ্বালানি খাতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিকে বর্তমান সরকার সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করছে।’

জ্বালানি উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরো ১০০টি নতুন কূপ খনন করবে, যার মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া ভারতের ত্রিপুরা ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির চেষ্টাও চলছে।’

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় গভীর সমুদ্র এলাকায় কূপ খননে বিদেশি  প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ কম। এর পরও বর্তমান সরকার সমুদ্র এলাকায় নতুন নতুন কূপ অনুসন্ধানে কাজ করছে।’

পুরনো লাইনগুলো সংস্কার ও এ খাতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান তৌফিক-ই-ইলাহী।

মূল প্রবন্ধে ড. মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতি গত কয়েক দশক ধরে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। তবে গতি অব্যাহত রাখতে হলে রপ্তানিমুখী পণ্যে আরো বহুমুখীকরণ করতে হবে।’

ড. মোহাম্মদ তামিম আরো বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির বড় একটা অংশ নির্ভর করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। তাই রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে ফার্মাসিউটিক্যাল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।’

ড. তামিম জানান, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিল্প খাতের অগ্রগতি অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও জমির দুষ্প্রাপ্যতা প্রভৃতি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে এলএনজিসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ, কয়লা আমদানি এবং সরকারি ক্রয় নীতিমালায় সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষত অবকাঠামো খাত, সমুদ্র বন্দর, রেলওয়ে এবং জ্বালানির সঞ্চালন লাইন সংস্কারের ক্ষেত্রে পিপিপির আওতায় বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   

হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন ড. এম শামসুল আলম, বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি এ এইচ আহসান সানী এবং বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) পরিচালক ইমরান করিম অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য