সব শর্ত পূরণ করায় জিএসপি ফিরিয়ে দেবে-331867 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


ইউএস ট্রেড শো উদ্বোধনীতে বাণিজ্যমন্ত্রী

সব শর্ত পূরণ করায় জিএসপি ফিরিয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা বা জিএসপি ফিরে পেতে প্রায় সব শর্তই পূরণ করেছে বাংলাদেশ। তাই এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘জিএসপি ফিরে পেতে সর্বশেষ শর্ত রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার মতো ওয়ার্কার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান করা হয়েছে। প্রায় সব শর্ত পূরণ করায় আমরা আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র এবার তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করে জিএসপি ফিরিয়ে দেবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘ইউএস ট্রেড শো ২০১৬’ উদ্বোধনীতে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) সভাপতি মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা এস বার্নিকাট, এশিয়া প্যাসিফিক কাউন্সিল অব আমেরিকান চেম্বারস অব কমার্স (এপিসিএসি) চেয়ারম্যান জ্যাকসন কক্স প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চমত্কার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মোট বাণিজ্য সাত বিলিয়ন ডলার। আমার বিশ্বাস ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই বাণিজ্য সাত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি ছয় বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’ বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৩ সালের জুন মাসে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করে।

দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সব সূচকেই আজ পাকিস্তান থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। তবে এত কিছুর পরও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দেওয়া প্রায় সব শর্তই পূরণ করা হয়েছে। তবে জিএসপি বন্ধ থাকলেও এ বাজারে এ বছর আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশের বেশি। এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা এস বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ এবং আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯২ সালে দুই দেশের বাণিজ্য যেখানে ১০০ কোটি ডলার ছিল এটা আজ ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আর দুই দেশের বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৮.৫ শতাংশ, যা বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৬ শতাংশ।

ইউএস ট্রেড শো একটি সফল প্রদর্শনী হবে প্রত্যাশা করে বার্নিকাট বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব ও বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান হবে। আর বাণিজ্য বাড়লে দুই দেশের জনগণ উপকৃত হবে।

মন্তব্য