ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে চীনকে ছাড়াল-331451 | শিল্প বাণিজ্য | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে চীনকে ছাড়াল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে চীনকে ছাড়াল বাংলাদেশ

প্রয়োজনীয় ডেনিম কাপড়ের জোগান দিতে না পারলেও বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ডেনিমই সেরা বলে জানান এই খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, দেশের ডেনিম পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ৬০ শতাংশ কাপড়ই আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে এ জন্য হতাশ নন তাঁরা। এত সবের পরও ডেনিমের বিশাল বিশ্ববাজারে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশই সেরা ডেনিমের রপ্তানিকারক দেশ।

গতকাল র্যাডিসন  হোটেলে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ডেনিমের প্রসারে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম ডেনিম উৎসবে এমনটাই জানান এ দেশের উদ্যোক্তারা। এবারের উৎসবের নামকরণ হয় ‘ডেনিম ইন ফ্যাশন’। উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী বলেন, ডেনিম দুনিয়ার ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর জন্য যে পর্যায়ের অবকাঠামো, জনবল ও আর্থিক সূচক থাকা দরকার, এর সবই আছে বাংলাদেশে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ডেনিমের সারা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় হলেও প্রথম হতে আমাদের কোনো বাধা নেই। আমাদের সরকার উদ্যোক্তাদের এই খাতে বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের সুধিধাই দিচ্ছে।’ তিনি উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশে ১০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। আরো ৯০টি অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে।

ডেনিম উৎসবের আয়োজকরা জানান, সাশ্রয়ী দাম আর গুণগত মানে সেরা বলে বাংলাদেশের ডেনিম বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে ডেনিম পোশাক বিক্রি করেছে ১৭ কোটি পিসের বেশি। অন্যদিকে চীন একই সময়ে একই বাজারে বিক্রি করে মাত্র সাড়ে ১১ কোটি পিস। এ সময় বাংলাদেশ ডেনিম পোশাক বিক্রি থেকে আয় করেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এনভয় ডেনিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় চাহিদার তুলনায় বাংলাদেশে ডেনিম কম তৈরি করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে ডেনিম কাপড়ের সরবরাহও কম। তবে ডেনিম যেহেতু বারো মাসের পণ্য, তাই বিশ্ববাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের উচ্চমূল্যের ডেনিম তৈরির দিকে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে ফ্যাশনেবল ডেমিনের উত্পাদন আরো বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ডেনিম কাপড় তৈরির জন্য দেশে ২৫টির বেশি কারখানা তৈরি হয়েছে। আরো পাঁচটি কারখানা প্রক্রিয়াধীন। এই খাতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেছেন প্রায় হাজার কোটি ডলার। প্রতিবছর ডেনিম কাপড় উত্পাদনে দেশের সক্ষমতা রয়েছে ৩৬ কোটি গজ। আর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৭২ কোটি গজ। ২০২১ সালের মধ্যে এই চাহিদা ১২০ কোটি গজে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ডেনিমের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ডেনিম অ্যান্ড জিনস বাংলাদেশ ডটকমের কর্ণধার সন্দ্বীপ আগারওয়াল বলেন, বিশ্বব্যাপী ডেনিমের চাহিদা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এবার নিয়ে  পঞ্চমবারের মতো ডেনিম উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ডেনিম টেক্সটাইলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল হক জানান, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ডেনিমের চাহিদা প্রতিবছরই বাড়ছে। তবে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান না থাকায় প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সক্ষমতা হারাচ্ছে। তিনি বলেন, মৌসুম অনুসারে প্রতিবছরই তাদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে মূল্যে সংযোজন হচ্ছে। মিসর, তুরস্ক, কেনিয়াসহ তাঁর প্রতিষ্ঠান তিনটি দেশে কাপড় রপ্তানি করে।

স্কয়ার ডেনিমের উপব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাকির হোসাইন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে ১.৫ মিলিয়ন গজ কাপড় তৈরি করে। ২০১৮ সালের মধ্যে এই উত্পাদনক্ষমতা বাড়িয়ে তিন মিলিয়ন গজ করা হবে। ভারতের নন্দন ডেনিমের পরিচালক ড. ডি কে জেইন বলেন, বাংলাদেশ একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ডেনিম কাপড়ের বাজার। এই দেশের ১৫টিরও বেশি ডেনিম পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাঁদের কাছ থেকে কাপড় আমদানি করে থাকে।

উদ্যোক্তারা জানান, এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের প্রায় ৩২ সেরা ডেনিম উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।

মন্তব্য