kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মন্দা থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার

অন্যান্য   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মন্দা থেকে বের হতে পারছে না পুঁজিবাজার

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা কোনো ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি না থাকলেও মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে দেশের পুঁজিবাজারে। কোনোমতেই এই মন্দা থেকে বের হতে পারছে না বাজার।

অব্যাহতভাবে কমেই চলেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচক ও লেনদেন। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের মন্দা অবস্থার কোনো ব্যাখ্যা নেই। বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কমেছে। আর স্বল্পমেয়াদি বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা মিথ্যা তথ্য ও গুজবে কান দিয়ে মুনাফার আশায় কম্পানি পরিবর্তন করছে, আর নির্দিষ্ট কিছু কম্পানির দিকেই ঝুঁকছে। এতে কয়েক দিন কম্পানিগুলোর দাম বাড়লেও পরবর্তী সময়ে পড়ে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থা ব্যাখ্যারও অযোগ্য। কারণ ব্যাখ্যা করার মতো কোনো বিষয় পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিলেও ধারাবাহিকভাবে মূল্য হারাচ্ছে। ’

আবু আহমেদ আরো বলেন, ‘বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম। আর যেসব বিনিয়োগকারী বাজারে আছে, তারা মিথ্যা তথ্য ও গুজবের সময় কম্পানি পরিবর্তন করছে। লভ্যাংশ দেবে কিংবা দাম বাড়বে কোনো কম্পানির এমন তথ্য শুনলেই সবাই ওইদিকে ছুটছে। এতে কয়েক দিন কম্পানিটির দাম বাড়ে, কিন্তু কিছুদিন পর আবার দাম পড়ে যায়। ’

গতকাল পর্যন্ত পুঁজিবাজারে টানা পাঁচ দিন সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনও। গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস ও চলতি সপ্তাহের তিন দিনই কমেছে সূচক। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ২৮ পয়েন্ট। লেনদেন কমেছে ২২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৬২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ২৫ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকেই সূচক কমেছে। টানা চার মিনিট সূচক কমার পর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত সূচক বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবেই সূচকের পতন ঘটেছে। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৪৮৪ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৭ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৭১৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩২৫টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১০৮টি, কমেছে ১৭০টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

দাম বাড়ার শীর্ষে রয়েছে—রূপালী লাইফ, সান লাইফ, এক্সিম প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ডেল্টা লাইফ, এল আর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১, ওয়াটা কেমিক্যাল, সন্ধানী ইনস্যুরেন্স, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা ও জাহিন স্পিনিং। দাম কমার শীর্ষে রয়েছে—জিলবাংলা সুগার, হাওয়া ওয়েল টেক্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, গ্লোবাল হেভি, জিপিএইচ ইস্পাত, বাটা সু, জুট স্পিনার্স, বিডি ল্যাম্পস, গ্রামীণফোন ও লিবরা ইনফিউশন।

সিএইতে লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার। তবে সূচক কমেছে ৪৬ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫১ কোটি তিন লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ৪৫ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচক দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৪১২ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ২৪৩টি কম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৭৪টি, কমেছে ১৩৫টি ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কম্পানির শেয়ারের দাম।


মন্তব্য