kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মন্দা বাজারেও দাপট বিএসআরএমের

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মন্দা বাজারেও দাপট বিএসআরএমের

গত চার দিন ধরেই দেশের দুই পুঁজিবাজারে মন্দার রাজত্ব। প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এই চার দিনে সূচক কমেছে ৮৭ পয়েন্ট।

কিন্তু এই পড়তি বাজারেও চলছে বিএসআরএম লিমিটেডের দাপট। এই সময়ের মধ্যেই কম্পানিটির দাম বেড়েছে ২২ টাকা। দাম বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ।

যদিও এই পুঁজিবাজারে বিএসআরএম রাজত্ব চলছে সেই ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। ৭ ফেব্রুয়ারি চলতি মাসের সবচেয়ে কম দামে লেনদেন হয়েছিল শেয়ারটি। ওই দিন বিএসআরএম লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ারদর ছিল ১১৩ টাকা ৮০ পয়সা। আর ১৬ কার্যদিবসের ব্যবধানে গতকাল সোমবার এই  শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ ২০৪ টাকা ৩০ পয়সায়। শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সা, দরবৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ! অথচ পাশাপাশি একই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন বিএসআরএম স্টিল লিমিটেডের শেয়ার গত এক মাসে বেড়েছে মাত্র ৯ টাকা ৯০ পয়সা। এ ক্ষেত্রে দরবৃদ্ধির হার ১১.৭১ শতাংশ। গতকাল এই শেয়ারটি ৯৪ টাকা ৪০ পয়সায় স্থিতিশীল অবস্থায় দিনের লেনদেন শেষ করেছে।

পড়তি বাজারেও বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারের এই ঊর্ধ্বগতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নজরেও পড়েছে। এ কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দর বাড়ার কারণ জানতে নোটিশ দিয়েছে বিএসআরএম লিমিটেডকে। যথারীতি সংবেদনশীল কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়েছে কম্পানি থেকে। কিন্তু এর পরও গতকাল সোমবার এই কম্পানির শেয়ারপ্রতি দর আগের দিনের চেয়ে ৯ টাকা ১০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এদিন ডিএসইতে সাধারণ সূচক কমেছে ২৪ পয়েন্ট। রবিবার ডিএসইতে সাধারণ সূচক ৩০ পয়েন্ট কমলেও বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারদর এক দিনেই বেড়েছিল ১৭ টাকার বেশি।

সিএসই সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ এপ্রিল পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে তালিকাভুক্ত চট্টগ্রামকেন্দ্রিক এই কম্পানিটি। অন্তর্ভুক্তির প্রথম বছরে ১০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ দেয়। সমাপ্ত ২০১৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ শেয়ার এবং ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় বিএসআরএম লিমিটেড। এ কারণে ১১ ফেব্রুয়ারি কম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কোনো লিমিট ছিল না। ফলে এক দিনেই এই কম্পানির শেয়ার ৩০ টাকা বৃদ্ধি পায়। আগামী ৩ মার্চ রেকর্ড ডেটের কারণে গতকাল সোমবার থেকেই স্পট মার্কেটে গেছে কম্পানির শেয়ার।

দেশে বর্তমানে রড ব্যবসায় মন্দা চলছে। বেসরকারি বিনিয়োগ সেভাবে দৃশ্যমান নয়। তবে সরকারি পর্যায়ে দেশে বেশ বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন নতুন স্টিল রি-রোলিং কম্পানি। ফলে এক বছর আগেও রডের প্রতি টনের মূল্য ছিল ৬২ হাজার, সেখানে কম্পানি ভেদে প্রতি টন রডের বর্তমান বাজারদর ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে। এর মধ্যেও বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারের দাম বাড়ছে তরতর করে। এভাবে দাম বাড়ায় শঙ্কা প্রকাশ করে কবির সিকিউরিটিজ জিইসি শাখার বিনিয়োগকারী রুহুল আমীন বলেন, ‘যেভাবে দাম বাড়ছে, প্রতিদিন ভাবি শেয়ারটি কিনব। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয় ইতিমধ্যেই ওভারপ্রাইস হয়ে গেছে। লোভ করতে গিয়ে পরে না আবার লসের ভাগি হতে হয়। ’ ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার পর শেয়ারটির এত বেশি দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে তিনি মত দেন।

যদিও বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারটিকে ভালো মৌল ভিত্তির শেয়ার হিসেবেই উল্লেখ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. সালেহ জহুর। তিনি গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই কম্পানির এনএভি ভালো। রডের মার্কেট লিডার হওয়ার একটা সুবিধাও পায় তারা। রডের কাঁচামাল বিলেট ভারত থেকে একমাত্র তারাই আনতে পেরেছে। এটাও তাদের কিছুটা এগিয়ে রেখেছে। তবে শুধু বিএসআরএম নয়, তালিকাভুক্ত জিপিএইচ ইস্পাত, আরএসআরএমের শেয়ারও ভালো করছে। তবে লভ্যাংশ প্রদান কিংবা ব্যবসায়িক অবস্থা বিবেচনায়ও বর্তমান বাজারদর একটু বেশিই হয়ে গেছে। ’


মন্তব্য