kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে অর্থপাচার যাচাইয়ে কমিটি

ফারজানা লাবনী   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে অর্থপাচার যাচাইয়ে কমিটি

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির নামে বড় মাপের কিছু ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান অর্থপাচার করছে। আর এ কাজে তাদের সহায়তা করছে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

অনেকে আবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজস্ব সুবিধা নিয়ে কম দামে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করে তা কারখানায় ব্যবহার না করে গোপনে বিক্রি করছে। হাতিয়ে নিচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ।

এসব দুর্নীতি রোধে এবং প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে রাজস্ব সুবিধা দিতে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘বড় মাপের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে ব্যবহূত প্লান্ট, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি-সংক্রান্ত নীতিমালা’ প্রকাশ করে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আমদানিকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না তা নজরদারি করতে গঠন করা হয়েছে ছয় সদস্যের একটি কমিটি। যাতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিও রয়েছেন।

ছয় সদস্যের এ কমিটিতে আছেন এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি), শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি, এনবিআর প্রথম সচিব (শুল্কনীতি) এবং এফবিসিসিআইয়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি।

নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্লান্ট, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে একটি বড় মাপের শিল্পপ্রতিষ্ঠান শুল্ক ও করের রেয়াতি সুবিধা পেতে এনবিআর নির্ধারিত আবেদনপত্রে আবেদন করতে হবে। এনবিআরের নির্ধারিত আবেদনপত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য ছয় সদস্যের কমিটি যাচাই করবে। সব তথ্য খতিয়ে দেখার পর কমিটির সদস্যরা রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করলেই কেবল অর্থমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য সারসংক্ষেপে পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান রেয়াতি সুবিধা পাবে। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী রেয়াতি সুবিধার পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। অন্যদিকে কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি রেয়াতি সুবিধার পাওয়ার অনুপযুক্ত হলে তা বাতিল করা হবে। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত শুল্ক ও কর দিয়েই আমদানিকৃত পণ্য ছাড় করাতে হবে।

নীতিমালা অনুসারে, একবার মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করার ন্যূনতম এক বছর পরে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী চালান আমদানি করতে পারবে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কমিশনারের কাছে নন-জুুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে যে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি খালাসের দিন থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে যথাযথভাবে স্থাপন করা হবে। এ নিয়ম ভঙ্গ করলে শুল্ক আইন অনুসারে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির শুল্ক ও কর পরিশোধে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। একইভাবে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি অন্য কাজে ব্যবহার হলে বা মালিকানা পরিবর্তন হলে এনবিআর প্রযোজ্য হারে শুল্ক ও কর আদায় করবে। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি পৃথক চালানে বিভিন্ন বন্দরের মাধ্যমে এলে তাতে কী পরিমাণ শুল্ক ও করের রেয়াতি সুবিধা পাবে তা ছয় সদস্যের কমিটি নির্ধারণ করবে। যা অর্থমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনে কার্যকর হবে।

এর আগে মূলধনী যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ বা প্লান্ট আমদানি-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এবারে প্রথমবারের মতো দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে এফবিসিসিআইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বড় মাপের বিনিয়োগ তরান্বিত করতে এবং প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে রাজস্ব সুবিধা দিতে জারি করা নীতিমালায় ছয় সদস্যের কমিটি বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করি এতে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা সুফল পাবে। ’

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিনিয়োগ বা ব্যবসাসংশ্লিষ্ট সরকারী নীতিনির্ধারণে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এ প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাঁদের সমস্যা ও সুবিধার কথা সহজে সরকারি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে। হয়রানি এড়াতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা সহজে কাজ করতে পারবে। অসৎ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।

নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্লান্ট, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা পেতে বড় মাপের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এনবিআর নির্ধারিত আবেদনপত্রে আবেদন করতে হবে। এখানে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, মূসক (মূল্য সংযোজন কর) নিবন্ধন নম্বর, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, বিনিয়োগ বোর্ডের নিবন্ধন নম্বর, আমদানি নিবন্ধন নম্বর, রপ্তানি নিবন্ধন নম্বর, আমদানিকৃত বা আমদানি করা মেশিনারি বা প্লান্ট বা ইক্যুইপমেন্টের বিবরণ, কী ধরনের শিল্প স্থাপন করা হবে, স্থাপিত শিল্পে কী ধরনের পণ্য উত্পাদিত হবে, বার্ষিক মোট উত্পাদন ক্ষমতা, মোট বিনিয়োগের পরিমাণ, যে কাস্টমস স্টেশনের মাধ্যমে মেশিনারি আমদানি হবে, আমদানিকৃত পণ্যের এইচএস কোড, প্রকল্প প্লান্টের ডিজাইন বা লে আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্ট্রাকচার, পাইপ, অ্যাঙ্গেল, ক্যাবলের বিবরণ উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া আবেদনের সঙ্গে ইনভয়েস, প্রোফরমা, ঋণপত্র, নকশা, লে আউট প্ল্যান, প্রকল্পপত্র, টার্নকি, চুক্তিপত্রের দলিলাদিও ছয় সদস্যের কমিটির কাছে জমা দিতে হবে।


মন্তব্য