kalerkantho


ভারত থেকে জাহাজে পণ্য আসছে সিঙ্গাপুর হয়ে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



ভারত থেকে জাহাজে পণ্য আসছে সিঙ্গাপুর হয়ে

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের মুম্বাই বন্দরের সমুদ্রপথের দূরত্ব ২০৮৬ নটিক্যাল মাইল। বিরতিহীনভাবে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চললে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৯ দিন। অথচ ভারত থেকে কনটেইনারে পণ্য বাংলাদেশে আসছে সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে। এ ক্ষেত্রে সময় লাগছে দ্বিগুণ, তেমনি পণ্য আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ভারত-সিঙ্গাপুর-চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে একটি কনটেইনার পৌঁছতে সময় লাগছে কমপক্ষে ১৯ দিন। এর বাইরে সিঙ্গাপুর বন্দরে চট্টগ্রামমুখী জাহাজ ধরতে কমপক্ষে দুই দিন অপেক্ষা করতে হয়। সাধারণ পণ্যবাহী রিজার্ভ জাহাজ ভারতের বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে এলেও কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস নেই। সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস থাকলে বিপুল সময় ও অর্থের সাশ্রয় হতো বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন নাজমুল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভারত আমাদের বড় প্রতিবেশী হলেও সেখান থেকে দেশে সরাসরি কোনো কনটেইনার সার্ভিস নেই। পণ্যভর্তি কনটেইনার চট্টগ্রাম হয়ে দেশে আসছে সিঙ্গাপুর কিংবা শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর হয়ে। এ ক্ষেত্রে বাড়তি সময় লাগছে।' তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পরিচালনায় চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চলমান তিনটি কনটেইনার জাহাজকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হালদিয়া বন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাব বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে আমি জানি।

বন্দর ও শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মুম্বাই বন্দরের সমুদ্রপথের দূরত্ব ২০৮৬ নটিক্যাল মাইল। ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে বিরতিহীনভাবে চললে সেখানে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ৯ দিন। সরাসরি কনটেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু না থাকায় দ্বিগুণ পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মুম্বাই থেকে প্রথমে সিঙ্গাপুর বন্দরে ২৬৩৭ নটিক্যাল মাইল এবং সেখান থেকে ১৮৬৮ নটিক্যাল মাইল পথ ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে পাড়ি দিতে সময় লাগছে প্রায় ১৯ দিন। এর বাইরে সিঙ্গাপুর বন্দর গিয়ে প্রথমে কনটেইনার জাহাজ থেকে নামানো এবং চট্টগ্রামমুখী জাহাজ ধরতে এক থেকে দুই দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি সার্ভিস চালু থাকলে অর্থ ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও কমত প্রচুর। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বেশি হয়ে থাকে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। ভারী যন্ত্রপাতি, গাড়িসহ বড় চালানের ক্ষেত্রে সমুদ্রপথ ব্যবহার হয়ে থাকে। ইদানীং ভারতে পোশাক রপ্তানির যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে সে ক্ষেত্রে সরাসরি সার্ভিস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।'

চট্টগ্রাম-ভারত রুটে বর্তমানে কোনো কনটেইনার সার্ভিস চালু নেই নিশ্চিত করে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বেশ কয়েক বছর আগে ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস লাইন এই রুটে পরিবহন শুরু করলেও তা বেশি দিন চলেনি। পর্যাপ্ত কনটেইনার না পেয়ে সার্ভিস বেশি দিন চালু রাখা সম্ভব হয়নি।' তবে পানগাঁও সার্ভিসকে চট্টগ্রাম-ভারতের হালদিয়া বন্দর চালু করা গেলে এটি বেশ জনপ্রিয় হবে তবে প্রথমেই সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-মুম্বাই এবং চট্টগ্রাম-হালদিয়া রুটে বিচ্ছিন্নভাবে কনটেইনার পরিবহন করছে বেশ কটি শিপিং এজেন্ট। শুধু কনটেইনার পাওয়ার ভিত্তিতে এসব সার্ভিস চলাচল করে থাকে। ইদানীং এই ধরনের কার্গো বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এই ধরনের সার্ভিস প্রদানকারী শিপিং লাইন জিবিএক্স লজিটিক্সে মহাব্যবস্থাপক মেজবাহুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পণ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে আমরা প্রায়ই এই ধরনের সার্ভিস চালাই। সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে হালদিয়া-কলকাতা এবং আবার সিঙ্গাপুর পর্যন্ত রুটে বেশি পণ্য পরিবাহিত হয়। চট্টগ্রাম ছাড়ার সময় খালি কনটেইনার ভর্তি করে হালদিয়া বন্দর যায় সেখান থেকে পণ্য নিয়ে সিঙ্গাপুর যায়। হালদিয়াতে সিঙ্গাপুরমুখী প্রচুর কনটেইনার পাওয়া যায়।'

সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং কম্পানি শিপিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়া ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি কনটেইনার সার্ভিস চালু করেছে। ভারত ও মিয়ানমার ২০১৫ সালের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশ ভর্তুকি দিয়ে সরাসরি কনটেইনার সার্ভিস চালু করেছে। মিয়ানমার থেকে রপ্তানি এবং পূর্বাঞ্চল থেকে আমদানিতে ভর্তুকি দেবে ভারত। জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রথম ছয় মাস শিপিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়াও ভর্তুকি দেবে।

 



মন্তব্য