kalerkantho

টাটার বৈশ্বিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগর

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাটার বৈশ্বিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগর

রতন টাটা, চেয়ারম্যান ইমেরিটাস, টাটা সন্স

ভারতীয় ব্যবসা জগতে কিংবদন্তি বলা হয় রতন টাটাকে। যিনি একজন সফল শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী এবং মানবহিতৈষী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। তিনি টাটা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে টাটা গ্রুপের হোলডিং কম্পানি টাটা সন্সের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস।

রতন টাটা স্থাপত্য বিদ্যার ওপর কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেন। তারপর আইবিএমে চাকরির অফার পেলেও তাতে যোগ না দিয়ে পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। ১৯৬১ সালে তিনি টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৯১ সালে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হন, ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময় আবারও ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে জে আর ডি টাটা যখন রতন টাটাকে টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান করেন তখন বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা নেই বলে তাঁর ব্যাপারে অনেকে সংশয় প্রকাশ করলেও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বের ২১ বছরে টাটা গ্রুপের রাজস্ব বাড়ে ৪০ গুণ এবং মুনাফা বাড়ে ৫০ গুণ। তিনিই টাটাকে একটি স্থানীয় কম্পানি থেকে বহুজাতিক ব্যবসায় রূপান্তর করেন।

টাটার আজকের এ অর্জনে অনেকটাই কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। ১৯৯৮ সালে বহুজাতিক এ প্রতিষ্ঠানটি টাটা ইন্ডিকো নামে প্রথম প্যাসেঞ্জার গাড়ি আনে। দুই বছরের মধ্যে গাড়িটি ভারতে ১ নম্বর জায়গা দখল করে। ভারতের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বেভারেজ কম্পানি হিসেবে টাটা টি সারা বিশ্বে টেটলি নামে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যের ১ নম্বর চা কম্পানি এটি। তাঁর সময়েই টাটা মোটরস জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার বাজারে আনে। দেশের সীমা ছাড়িয়ে টাটা স্টিল ইউরোপীয় লিমিটেড নামে ঘাঁটি করে লন্ডনে। নিউ ইয়র্কের পিয়েরে হোটেলও টাটার। ভারতের সবচয়ে বড় স্টিল কম্পানিটি ও বৃহত্তম আউটসোর্সিং ফার্মটিও টাটার। টেলিকম সেক্টরেও টাটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টাটা গ্রুপের ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আসে বিদেশ থেকে।

রতন টাটার ভিশন থেকেই ২০০৮ সালে বাজারে আসে পৃথিবীর সবচেয়ে কম দামের প্রাইভেট কার, টাটা ন্যানো। তখন এর দাম ছিল মাত্র এক লাখ রুপি, যা ভারতে একটি মোটরসাইকেল থেকেও কম দাম। বর্তমানে ১০০টি দেশে ৯৮টি কম্পানির মাধ্যমে টাটা গ্রুপের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। ৩০টি প্রতিষ্ঠান ‘পাবলিকলি লিস্টেড’ হিসেবে আছে। এ তালিকায় আছে টাটা স্টিল, টাটা মোটরস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস, টাটা পাওয়ারসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।

রতন টাটার জন্ম ১৯৩৭ সালে। দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখায় তিনি ভারতের দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক অর্জন করেন। ২০০০ সালে পদ্ম ভূষণ এবং ২০০৮ সালে পান পদ্ম বিভূষণ।

টাটা পরিবার এবং কম্পানিগুলোর ৬৫ শতাংশই চ্যারিটিতে দিয়ে দেওয়া হয়। টাটা গ্রুপের মানবকল্যাণে অনুদান শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা আন্তর্জাতিক সংস্থাতেও যায়। টাটা গ্রুপ হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে পাঁচ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে।

বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে টাটা বানিয়েছে হোম পিউরিফিকেশন সিস্টেম। এটা নামমাত্র মূল্যে (মাত্র ১০০০ রুপি) বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হয়। টাটা গ্রুপ তার কর্মীদের আধুনিক পেনশন সিস্টেম, চিকিৎসাসেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছাড়াও আরো অনেক সুবিধা প্রদান করে। বর্তমানে টাটার রাজস্ব আয় ১১০.৭ বিলিয়ন ডলার। টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া।

 

মন্তব্য