kalerkantho


পলিনেটে বিষমুক্ত বেগুন চাষ

এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর)   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পলিনেটে বিষমুক্ত বেগুন চাষ

উৎপাদিত বেগুন তুলছেন রহিমা খাতুন। ছবি : কালের কণ্ঠ

এ দেশে বেগুন নিঃসন্দেহে একটি জনপ্রিয় সবজি। কিন্তু সেই বেগুন খাওয়া আর বিষ খাওয়া নাকি একই কথা। কারণ বেগুন চাষে প্রতিদিনই বিষ প্রয়োগ করতে হয়। ফলে বেগুন খেতে ভয় পান অনেকেই। তবে আশার কথা হলো, পলিনেট ঘরে বেগুন চাষ করলে আর বিষ প্রয়োগ করা লাগবে না। মানুষ নিশিন্তে বেগুন খেতে পারবেন। বেগুনের সঙ্গে বিষের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বারবাকপুর মাঠে পলিনেট ঘরে প্রদর্শনী প্লটে বিষমুক্ত বেগুন চাষে সফল হয়েছেন কৃষক। ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সবজি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র পলিনেট দিয়ে ঘেরা স্থানে এই বেগুন চাষের ব্যবস্থা করে। গাছে ফোঁটায় ফোঁটায় পদ্ধতিতে সেচ ও এর আগে পলিনেট ঘরে বেগুনের চারা উৎপাদন করা হয়।

বারবাকপুর গ্রামের মোকলেছুর রহমানের স্ত্রী কিষানি রহিমা খাতুন পাঁচ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তার মধ্যে আড়াই শতক জমিতে পলিনেট দিয়ে ঘর করে চাষ করেছেন। রহিমা জানান, প্রতিবেশী মনোয়ারা খাতুনের পলিনেট ঘরে উৎপাদন করা চারা দিয়ে আড়াই শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তার আড়াই শতক জমি সাদা পলিনেট দিয়ে ঘর করা। ক্ষেতে এক দিনও কোনো প্রকার বিষ দেওয়া হয়নি বলে খরচও অনেক কম হয়েছে। গাছে ফোঁটায় ফোঁটায় সেচ দেওয়ায় ৯০ দিনে পানি লেগেছে এক হাজার লিটার। অথচ, বাকি আড়াই শতক জমির বেগুন ক্ষেতে সপ্তাহে দুই দিন বিষ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সেচের জন্য পানি লেগেছে পাঁচ হাজার ৩০০ লিটার। রহিমা খাতুন  জানান, পলিনেট ঘরে চাষ করা বেগুনের উৎপাদন ২৫-৩৫% বেশি হয়েছে। বিষমুক্ত এই বেগুনের দামও বেশি। পলিনেট ঘরে চাষের বেগুন একটাও বাদ যায় না কিন্তু প্রচলিত চাষের ক্ষেতে সপ্তাহে দুই দিন বিষ দেওয়ার পরও ৩০% পোকা লাগার কারণে বাদ যায়। ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সবজি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের জুনিয়র হর্টিকালচারিস্ট বদিউজ্জামান জানান, নেটঘেরা বেগুনের ক্ষেতে কোনোক্রমেই পোকার আক্রমণ হবে না। বেগুন হয় পুরোপুরি বিষমুক্ত।



মন্তব্য