kalerkantho


ভারতের চেয়ে শুল্ক ১৮ গুণ বেশি

দেশে বন্ধ ১২৮ বিড়ি কারখানা

ফখরে আলম, কলকাতা থেকে ফিরে   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দেশে বন্ধ ১২৮ বিড়ি কারখানা

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিড়ির শুল্ক ১৮ গুণ বেশি। ভারতে এক হাজার হাতে তৈরি বিড়িতে শুল্ক মাত্র ১৪ টাকা। মেশিনে তৈরি বিড়িতে শুল্ক ২৬ টাকা; কিন্তু বাংলাদেশে এক হাজার হাতে তৈরি বিড়িতে শুল্ক ২৪৭ টাকা ৫০ পয়সা।

বাংলাদেশ বিড়িশিল্প শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে দেশে বিড়ি কারখানা ছিল ২১৮টি। শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৪৮ লাখ। শুল্ক হার বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে কারখানার সংখ্যা কমে ৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। শ্রমিকের সংখ্যা এখন ২০ লাখ।

বিড়িশিল্প মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে প্রতি হাজারে বিড়ির ওপর শুল্ক ছিল ৩০ টাকা ৯০ পয়সা। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ২৪৭ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হয়েছে।

ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে তৈরি বিড়িতে শুল্ক ধরা হয় প্রতি হাজারে ১৪ টাকা। আর মেশিনে তৈরি প্রতি হাজার বিড়িতে শুল্ক ধরা হয় ২৬ টাকা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প হিসেবে সরকার বিড়ি শ্রমিকদের সহায়তা হিসেবে হাতে তৈরি বিড়ির ওপর কম শুল্ক নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া যেসব কারখানা ২০ লাখ স্টিকের নিচে বিড়ি তৈরি করে তাদের ওপর কোনো শুল্ক ধরা হয় না।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা যায়, কেন্দ্রীয় মূসক, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা তহবিল, বিড়ি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সব কিছু মিলিয়ে প্রতি হাজার বিড়িতে ১৪ টাকা শুল্ক নেওয়া হয়। গড়ে একটি সিগারেটের বিপরীতে ৮টি বিড়ি বিক্রি হয়। বিড়ির চেয়ে সিগারেটে শতগুণ শুল্ক বেশি। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে ১৮ গুণ শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বিড়িশিল্পের এখন যায়যায় অবস্থা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিড়িশিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘গরিব অসহায় মানুষরাই বিড়ি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। আমরা শ্রমিকদের মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি; কিন্তু শুল্কহার বৃদ্ধির কারণে একের পর এক বিড়ি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকার হয়ে পড়ছে হাজার হাজার শ্রমিক। আমরা সরকারের কাছে বিড়ির ওপর যৌক্তিক শুল্ক আরোপের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রায় তিন শ বছরের এই শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে বিড়ি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে আসারও দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম কে বাঙ্গালী বলেন, ‘সিগারেট কম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রতিবছর বিড়ির ওপর বাড়তি শুল্ক ধরায় বিড়ি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে আমাদের ১০ লাখ বিড়ি শ্রমিক বেকার হয়েছে; কিন্তু এদের বিকল্প কর্মসংস্থান না করে বিড়ি কারখানা বন্ধের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা অসহায় বিড়ি শ্রমিকদের বাঁচানোর দাবি জানাচ্ছি।’



মন্তব্য