kalerkantho


শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্যামসন এইচ চৌধুরীকে স্মরণ

পাবনা প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্যামসন এইচ চৌধুরীকে স্মরণ

পাবনায় প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় দেশবরেণ্য প্রয়াত শিল্পোদ্যোক্তা স্যামসন এইচ চৌধুরীর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার শহরের বৈকণ্ঠপুরে অ্যাসট্রাস বাঙলো বাড়িতে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পাবনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ পালক পরিচর্যা কমিটির আহ্বায়ক শ্যামুয়েল বিশ্বাস। এর আগে প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রার্থনা ও স্মরণসভার শুরুতে পরিবারের পক্ষে স্মৃতিচারণা করেন প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর সহধর্মিণী মিসেস অনিতা চৌধুরী এবং বাইবেল পাঠ করেন মিস সাঞ্চিয়া চৌধুরী জুঁই।

প্রার্থনা উপস্থাপন ও অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত। স্মৃতির প্রতি সম্মান ও পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা অনুযায়ী উৎপাদনমূলক বক্তব্য এবং স্মৃতিচারণা করেন বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ ফেলোশিপের সাধারণ সম্পাদক রেভাঃ লিয়র পি সরকার। এ সময় প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর বড় ছেলে স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যামুয়েল এস চৌধুরী, মেঝ ছেলে স্কয়ার ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, ছোট ছেলে স্কয়ার টয়লেট্রিজ ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টুসহ ঘনিষ্ঠজনরা উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগেও শুক্রবার স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি শিবজিত নাগের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য দেন পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল, পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট রণেশ মৈত্র, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ, স্কয়ার ফার্মার জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন্স) মিজানুর রহমান, পাবনা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক আঁখিনূর ইসলাম রেমন, সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান, আহমেদ উল হক রানা, আখতারুজ্জামান আখতার, এবাদত আলী প্রমুখ।

পাবনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল রহিম লাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সৎ ও দেশপ্রেমিক শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে শোকপ্রস্তাব এনেছিলেন, যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।’

পাবনা ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই স্যামসন এইচ চৌধুরী তাঁর সন্তানদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। সে সময় তিনি নিজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পক্ষে সহযোগিতা আনার জন্য তত্পর ছিলেন। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।’

প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর মানবিক গুণাবলির কথা উল্লেখ করে স্কয়ার ফার্মার জেনারেল ম্যানেজার ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘সে সময় স্কয়ার ফার্মার একটি অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ বাজারে বেশ জনপ্রিয় ছিল। স্যামসন এইচ চৌধুরী ওই সময়ে আমেরিকা সফরের একপর্যায়ে সেখানে একটি মেডিক্যাল জার্নালে ওই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে কম্পানি কর্মকর্তাদের দ্রুত ওষুধটির উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধের পাশাপাশি কম্পানিতে মজুদ ওই ওষুধের সমুদয় কাঁচামাল ধ্বংসের নির্দেশ দেন। সে সময় কম্পানিতে কয়েক লাখ টাকার কাঁচামাল মজুদ ছিল। তাঁর নির্দেশ পেয়ে কম্পানির কর্মকর্তারা সমুদয় কাঁচামাল ধ্বংস করেন এবং ওষুধটি বাজার থেকে তুলে নেন।’

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিজিত নাগ বলেন, ‘শুধু পাবনাবাসীই নয়, পুরো দেশ স্কয়ার এবং স্যামসন এইচ চৌধুরীর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করে। প্রচণ্ড অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার অধিকারী স্যামসন এইচ চৌধুরী দুজন হিন্দু এবং একজন মুসলিম উদ্যোক্তাকে সঙ্গে করে স্কয়ারের গোড়াপত্তন ঘটান। সততা, সময়নিষ্ঠতা, প্রচণ্ড পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে সামান্য পুঁজি নিয়ে তাঁর গড়ে তোলা স্কয়ার এখন দেশ-বিদেশে শিল্পক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হয়ে তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।’



মন্তব্য