kalerkantho


রেয়াত ব্যবস্থা সহজ নতুন ভ্যাট আইনে

ড. মো. আব্দুর রউফ

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রেয়াত ব্যবস্থা সহজ নতুন ভ্যাট আইনে

নতুন ভ্যাট আইনে রেয়াতব্যবস্থা নিয়ে আজ আলোচনা করব। রেয়াতব্যবস্থা বা উপকরণ কর রেয়াতব্যবস্থা হলো ভ্যাটব্যবস্থার প্রাণ। ভ্যাটব্যবস্থার আগে যে করব্যবস্থা ছিল সে করব্যবস্থার সঙ্গে ভ্যাটব্যবস্থার পার্থক্য হলো শুধু রেয়াতব্যবস্থার কারণে। ভ্যাটপূর্ব করব্যবস্থার একটা অন্যতম সমস্যা ছিল করের ওপর কর আরোপ হওয়া। করের ওপর কর সংবিধান বা কর দর্শন কোনো পরিমাপেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি করেরই একটি ভিত্তি থাকে; যেমন: আয় বা মুনাফা, বিক্রয়মূল্য ইত্যাদি। কিন্তু কর কখনোই করের ভিত্তি নয়। কিন্তু ভ্যাটপূর্ব করব্যবস্থায় নানা কারণে অনেক ক্ষেত্রে করের ওপর কর আরোপিত হয়ে যেত। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যায়। ধরুন একজন সাবান উত্পাদনকারী সাবান উত্পাদন করার জন্য কাঁচামাল আমদানি করেছেন। আমদানি করার সময় কর পরিশোধ করেছেন।

ধরুন ২০০ গ্রাম ওজনের এক পিস সাবান উত্পাদন করতে মোট ৩০ টাকার কাঁচামাল ব্যববহার করা হয়েছে। ৩০ টাকার মধ্যে ৪.৫ টাকা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর কাঁচামালের মূল্য আছে ২৫.৫ টাকা। কাঁচামাল প্রসেস করে সাবান উত্পাদন করে তিনি ৫০ টাকায় বিক্রি করলেন। বিক্রি করার সময় তিনি ১৫ শতাংশ হারে ৭.৫ টাকা কর দিলেন। অর্থাৎ ৫০ টাকার মধ্যে আগে দেওয়া ৪.৫ টাকা কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ৫০ টাকার ওপর ৭.৫ টাকা কর দেওয়ার সময় করের ওপর কর আরোপিত হলো। নতুন ভ্যাটব্যবস্থায় এই করের ওপর কর অসুবিধা দূরীকরণ করা হয়েছে। ভ্যাটব্যবস্থার নিয়ম হলো ধরুন এই সাবান উত্পাদনকারী তিনি যখন উপকরণ আমদানি করে নিয়ে আসবেন, তখন আমদানির সময় যে ৪.৫ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছেন তা তিনি তার হিসাবে জমা করে নেবেন; অর্থাৎ তিনি তা নিয়ে নেবেন। এভাবে আগে পরিশোধ করা উপকরণ কর নিজের হিসাবে জমা করে নেওয়াকে বলা হয় উপকরণ কর রেয়াত নেওয়া। এবার তিনি উপকরণ প্রসেস করে সাবান প্রস্তুত করবেন। সাবান প্রস্তুত করে তিনি বিক্রি করবেন। বিক্রয় মূল্যের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করবেন। উপকরণ কর রেয়াত নেওয়া আগের ভ্যাট আইনে বেশ জটিল ছিল। নতুন ভ্যাট আইনে অল্প কয়েকটা উপকরণ বাদ দিয়ে প্রায় সব উপকরণের ওপর রেয়াত দেওয়া হবে। তাই রেয়াত নেওয়া হবে খুব সহজ।      (চলবে)

লেখক : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব

roufvat@gmail.com


মন্তব্য