kalerkantho


বিশ্ব জিডিপিতে ৪.৪ শতাংশ যোগ করেছে টেলিকম খাত

বাণিজ্য ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মোবাইল ফোন এখন শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং কৃষি, শিল্প থেকে শুরু করে আর্থসামাজিক খাতে বহুমাত্রিক অবদান রাখছে এ খাত। সম্প্রতি টেলিকম খাতের আর্থিক অবদান নিয়ে ‘মোবাইল ইকোনমি’ ২০১৭ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন জিএসএমএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে টেলিকম খাত থেকে বিশ্ব জিডিপিতে এসেছে ৪.৪ শতাংশ বা ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ জিডিপিতে এ খাতের অবদান বেড়ে হবে ৪.৯ শতাংশ বা ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার। এমনকি মোবাইল ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে গত বছর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয় ২৮.৫ মিলিয়ন মানুষের। এ সংখ্যা ২০২০ সাল নাগাদ বেড়ে হবে ৩০.৯ মিলিয়ন।

২০১৬ সালে মোবাইল ফোন খাত থেকে মোট রাজস্ব আসে ১.০৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যা ২০১৫ সালের চেয়ে ২.২ শতাংশ বেশি। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছর এ খাতে রাজস্ব বাড়ল। রাজস্ব আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি এসেছে উন্নয়নশীল এশিয়া থেকে। বিশেষ করে ভারত ও চীন প্রবৃদ্ধি উৎসাহিত করেছে।

তবে মোবাইল ফোন খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণগত হস্তক্ষেপ ও গ্রাহক প্রবৃদ্ধি কমায় আগামী বছরগুলোতে এ খাত থেকে রাজস্ব আশানুরূপ নাও আসতে পারে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে অপারেটরগুলো মোবাইল ফোন খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে ফাইভজি অবকাঠামো নির্মাণে কম্পানিগুলো বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

জিএসএমএ ডিরেক্টর জেনারেল ম্যাটস গ্র্যানরিড বলেন, মোবাইল ফোন হচ্ছে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যা বর্তমানে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ জনগণের কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, সংযোগ সুবিধা দিচ্ছে, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতির সুবিধা দিচ্ছে এবং মানুষের আর্থসামাজিক সমস্যার সমাধান করছে।

জানানো হয়, এ খাত থেকে ২০২০ সাল নাগাদ দেশগুলো কর বাবদ পাবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। তবে এতে তরঙ্গ বরাদ্দ নিলামের রাজস্ব বাদ দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ২০১৬ সালে ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। আশা করা হচ্ছে, অপারেটরগুলো ফাইভজিকে ঘিরে ২০২০ সাল নাগাদ এ খাতে আরো ৭০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

জিএসএমএ জানায়, ইতিমধ্যে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ।


মন্তব্য