kalerkantho


সংকুচিত ভিত্তিমূল্য গুরুত্ব পায়নি নতুন ভ্যাট আইনে

ড. মো. আব্দুর রউফ   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সংকুচিত ভিত্তিমূল্য গুরুত্ব পায়নি নতুন ভ্যাট আইনে

বর্তমান এবং নতুন ভ্যাট আইনের পার্থক্যের ক্ষেত্রে একটি বিষয় হলো সংকুচিত ভিত্তিমূল্য। আমাদের জানা দরকার সংকুচিত ভিত্তিমূল্য বলতে আমরা কী বুঝি। আমরা জানি ভ্যাট আদায় করা হয় পণ্য ও সেবার ওপর। পণ্য ও সেবা বিক্রির সময় বিক্রয়মূল্যের ওপর ভ্যাটের হার প্রয়োগ করে ভ্যাটের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। আমাদের দেশে ভ্যাটের হার মূলত ১৫ শতাংশ। কিন্তু ১৫ শতাংশের বাইরেও আমাদের দেশে আরো অনেক কার্যকর ভ্যাটের হার রয়েছে। বর্তমান ভ্যাট ব্যবস্থায় ১৫টি সেবার ওপর ৯টি ভ্যাটের হার রয়েছে। এই সেবাগুলো হলো নন-এসি রেস্তোরাঁ, মোটরগাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, ডকইয়ার্ড, কন্ট্রাক্টর, ভূমি উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ, আসবাবপত্রের বিপণন, স্বর্ণকার ও রৌপ্যকার, জোগানদার, পরিবহন ঠিকাদার, বিদ্যুৎ বিতরণ, নিলামকৃত পণ্যের ক্রেতা, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, নিজস্ব ব্র্যান্ডেড তৈরি পোশাক বিক্রয় এবং তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবা। হারগুলো হলো ১.৫, ২.২৫, ৩, ৪, ৪.৫, ৫, ৬, ৭.৫ এবং ১০। এসব সেবার ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ ভিত্তির ওপর ভ্যাটের হার প্রয়োগ না করে হ্রাসকৃত ভিত্তির ওপর ভ্যাটের হার প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ভ্যাটের হার কমে যায়।

এ জন্য এ ধরনের মূল্যকে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য বলা হয়। সংকুচিত ভিত্তিমূল্য আমাদের দেশের ভ্যাট ব্যবস্থার একটি বিচ্যুতি।

সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের ফলে ভ্যাট ব্যবস্থা বিকশিত হতে পারে না। ভ্যাট ব্যবস্থার রেয়াত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ভ্যাট ব্যবস্থা একটি যন্ত্রের মতো কাজ করতে পারে না। তাই ভ্যাট ব্যবস্থায় একটি ভ্যাটের হার হওয়া বাঞ্ছনীয়।

নতুন ভ্যাট আইনে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য রাখা হয়নি। সব ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার হবে ১৫ শতাংশ। তবে যাদের বার্ষিক বিক্রি ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের কাজ ভ্যাটমুক্ত থাকবে। যাদের বার্ষিক বিক্রি ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত তারা ৩ শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদান করবে। আর সবাই ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করবে। নতুন ভ্যাট আইনে শুধু একটি ক্ষেত্রে সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। তা হলো সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ। জমির মালিক ডেভেলপারকে দিয়ে তার জমিতে বিল্ডিং তৈরি করায় এবং জমির মালিক ও ডেভেলপার চুক্তি অনুসারে ফ্ল্যাট ভাগ করে নেয়। এই কাজকে নতুন ভ্যাট আইনে সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার হবে ৭.৫ শতাংশ। নতুন ভ্যাট আইনে বলতে গেলে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য থাকবে না। তাই ভ্যাট ব্যবস্থা আরো ভালোভাবে কাজ করবে। প্রতি স্তরে উপকরণ কর রেয়াত নেওয়া সম্ভব হবে। নতুন ভ্যাট আইনের বিধান আগের ভ্যাট আইনের তুলনায় অধিকতর সহজ এবং ব্যবসাবান্ধব।    (চলবে)

লেখক : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব

roufvat@gmail.com


মন্তব্য