kalerkantho


ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পর্যটক বাড়বে এশিয়ায়

বাণিজ্য ডেস্ক   

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পর্যটক বাড়বে এশিয়ায়

বিশ্বভ্রমণে চীনারা যেমন এগিয়ে, তেমনি নিজ দেশে পর্যটক টানার ক্ষেত্রেও সাফল্য দেখাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দ্বার রুদ্ধ করার বার্তা দিচ্ছেন, তখন এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় এশিয়া। এ অঞ্চলের কম্পানিগুলো এবং কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে এশিয়া শুধু পর্যটন খাত নয়, শিক্ষা বিনিয়োগেও লাভবান হতে পারে। কারণ এতে মুসলিম বিশ্বের শুধু পর্যটন স্রোত নয়, অনেক শিক্ষার্থীকেও টানা যাবে এ অঞ্চলে। বিশেষ করে আরব দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে যায় পড়ালেখার উদ্দেশ্যে, তারা এখন বিকল্প খুঁজবে। আর সেই বিকল্প হতে পারে এশিয়ার দেশগুলো। এর পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটনও লাভবান হতে পারে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও আদালতের এক রায়ে এ আদেশ ইতিমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় উৎসাহী পর্যটনসমৃদ্ধ এশিয়া। এশিয়ার সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া গ্রুপের সিইও টনি ফার্নান্দেজ এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘আশিয়ান সদস্যভুক্ত ১০টি দেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যখন পর্যটকদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে তখন এশিয়া ভ্রমণপিয়াসুদের আরো কাছে টানতে পারে।

’ এশিয়ার অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া। ২০১৬ সালে দেশটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রায় দুই লাখ পর্যটক আসে। এ ছাড়া মেডিক্যাল ট্যুরিজম ও হালাল ট্যুরিজমের জন্যও অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ মালয়েশিয়া।

থাইল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে তাঁদের পর্যটক বাড়াবে। ট্যুরিজম অথরিটি অব থাইল্যান্ডের গভর্নর ইয়ুথসাক সুপাসর্ন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের পর্যটনে একটি বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষ করে চিকিৎসার্থে আরবের প্রচুর সংখ্যক লোক এ দেশে আশে। আমরা আশা করছি যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে আমাদের পর্যটক বাড়বে। ’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে পর্যটন মৌসুম আসছে, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে এশিয়ার অনেকেই এখন বিকল্প ভাববে। সিঙ্গাপুর ডাইনেস্টি ট্রাভেলের পাবলিক রিলেশনস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক অ্যালিসিয়া শেহ বলেন, ‘আপনি যখন অবকাশ যাপনের কথা ভাববেন, নিশ্চয়ই আপনি মানসিক শান্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেবেন। এ মুহূর্তে কেউই চাইবে না যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে। এ মুহূর্তে মানুষ মার্চ-এপ্রিলের ভ্রমণ নিয়ে ভাবছে। ফলে তারা এ ঝামেলাপূর্ণ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইবে না। এমনকি সিঙ্গাপুরের অনেক নাগরিকও এখন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইবে না ভ্রমণের উদ্দেশ্যে, বরং তারা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা বা এশিয়ার মতো বিকল্প খুঁজবে। ’ এএফপি।


মন্তব্য