kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাণিজ্যিক সাফল্য শিবপুরে

দেশে উৎপাদিত হচ্ছে মাল্টা

সুমন বর্মণ, নরসিংদী   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেশে উৎপাদিত হচ্ছে মাল্টা

ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ মাল্টা স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয়। ফলটি আমাদের দেশে অন্যতম জনপ্রিয়ও বটে।

কিন্তু চাহিদার পুরোটাই আমদানিনির্ভর। এ ক্ষেত্রে সুখবর হলো, এ ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছে লটকন আর লেবুর জন্য খ্যাত নরসিংদীর শিবপুরের কৃষকরা। সংশ্লিষ্টদের আশা, দেশে উৎপাদিত মাল্টাই একসময় দেশের দাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে। সরেজমিন ঘুরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন জাতের সবজির পাশাপাশি লটকন আর লেবু চাষে সফলতার পর শিবপুরের কৃষকরা এবার ঝুঁকছে মাল্টা চাষের দিকে। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় প্রথমবারের মতো এর ফলনও হয়েছে বেশ। এতে আশাবাদী হয়ে উঠেছে স্থানীয় কৃষকরা। তারা জানায়, আমদানিযোগ্য এ ফল চাষ প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে অল্প দিনের ব্যবধানে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি মাল্টা-১ জাতটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা আসে। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র পর্যন্ত সময়ে গাছে ফুল আসে এবং কার্তিক মাসে ফল আহরণ উপযোগী হয়। এ জাতের ফলের পুষ্প প্রান্তে পয়সার মতো সামান্য নিচু বৃত্ত বিদ্যমান। শাঁস হলুদাভ, রসালো, খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। গাছপ্রতি ৩০০-৪০০ ফল ধরে। হেক্টরপ্রতি ফলন হয় প্রায় ২০ টন। কম বৃষ্টিবহুল সুনির্দিষ্ট গ্রীষ্ম ও শীতকাল বিশিষ্ট শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু মাল্টা চাষের উপযোগী।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিবপুরের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র ২০১১ সালে বারি মাল্টা-১ জাতের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করে। প্রায় আড়াই বছর নিবিড় পরিচর্যা ও গবেষণার পর সফলতা আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাল্টা চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগী হয় শিবপুর উপজেলা প্রশাসন। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে সিলেট জেলার জৈন্তাপুরের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত বারি মাল্টা-১ জাতের প্রায় ১৫ হাজার চারা বিতরণ করা হয়। উপজেলার ৩০০ বাগানের পাশাপাশি ব্যক্তিপর্যায়ে এক হাজার মানুষকে এসব চারা দেওয়া হয়। এতে সহযোগিতা করে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। গাছগুলোতে থোকা থোকা মাল্টা দেখে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। সবুজ মাল্টা পরিপক্ব হয়ে হলুদাভ হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি শিবপুরের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কৃষকরা মাল্টা চাষ করেছে। উপজেলার ইটাখোলার মুনসেফেরচরের জাহাঙ্গীর আলমের মাল্টা বাগানে গিয়ে অভিভূত হতে হলো। বাগানটি এ উপজেলায় মাল্টা চাষের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা জানান দিচ্ছে।

বাগান ঘুরে দেখাতে দেখাতে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের দেওয়া চারায় আমি এক বিঘা জমিতে মাল্টা বাগান করেছি। মাল্টার ফলন এমন হবে, ভাবতেও পারিনি। প্রতিটি গাছে ১৫০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত ফল ধরেছে। সামনে আশা করি আরো ভালো ফলন হবে। ’ তিনি জানান, মাল্টা চাষে তেমন খরচ নেই। কীটনাশক, খুঁটি ও শ্রমিকের খরচ বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা গেছে। বাগানে ফলনও হয়েছে ভালো। তিনি আশা করছেন, অন্তত ৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। আগামীতে ফলন ও লাভ আরো বাড়বে বলে তাঁর বিশ্বাস। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কালের কণ্ঠকে জানান, শিবপুরে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করা হয়েছে।

 


মন্তব্য