kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রেক্সিটে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এশিয়া

বাণিজ্য ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্রেক্সিটে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এশিয়া

ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার সিদ্ধান্ত এশিয়ার অর্থনীতির জন্য ততটুকু ক্ষতিকর হবে না, যতটুকু আশঙ্কা করা হয়েছিল। সম্প্রতি এশিয়া অঞ্চল নিয়ে সর্বশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে এমন কথা জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক।

সংস্থার মতে, মিয়ানমারের নেতৃত্বে আগামী তিন বছর মেকং অঞ্চলের দেশগুলো অত্যন্ত জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। যদিও এ দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড কিছুটা পিছিয়ে থাকবে।

এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুধির শেঠি বলেন, ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ নিয়ে নির্বাচনের পর দেশটির অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক দিক লক্ষ করে বিশ্বব্যাংক এশিয়ার অর্থনীতি নিয়েও আশাবাদী হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ নিয়ে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়। এতে ব্রিটেনে মন্দা ফিরে আশারও আশঙ্কা করা হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। যা এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি জানান, ব্যাংকের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী ব্রেক্সিটের প্রভাব খুব বেশি পড়বে না এশিয়ার অর্থনীতিতে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর উন্নয়নশীল এশিয়ার প্রবৃদ্ধি আসবে ৫.৮ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে এ প্রবৃদ্ধি হবে ৫.৭ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে দিয়ে বলছে, আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে, এতে চীনের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রকারান্তরে এশিয়ার অর্থনীতি শ্লথ হতে পারে।

সংস্থা মনে করে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর মিয়ানমারের অর্থনীতি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এ বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি আসবে ৭.৮ শতাংশ, আগামী বছর ৮.৪ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে প্রবৃদ্ধি আসবে ৮.৩ শতাংশ।

এদিকে এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে আরেক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাড জানায়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভঙ্গুরতা, ভোক্তা চাহিদা হ্রাস পাওয়া, বেশ কিছু দেশে শ্লথ প্রবৃদ্ধি এবং অনেক বহুজাতিক কম্পানির মুনাফা কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বিনিয়োগ প্রবাহে। এতে বিশ্বে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমবে ১০ শতাংশ। তবে এফডিআই সবচেয়ে বেশি কমবে উন্নয়নশীল এশিয়ায় ১৫ শতাংশ। এ অঞ্চলে এফডিআই কমে তা ২০১৪ সালের পর্যায়ে প্রত্যাবর্তন করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিশেষত চীন, ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামে পরিমিত আকারে এফডিআই প্রবাহ বাড়বে এ বছর। এশিয়ায় এফডিআই সবচেয়ে বেশি আসছে কৃষি, ইউটিলিটিজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, খাদ্য ও কোমল পানীয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ খাতে। এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য