kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্মার্টফোনের দাপটে কোণঠাসা ডিজিটাল ক্যামেরা

সিইপিজেডে লেন্স উৎপাদন বন্ধ করল সানকো

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সিইপিজেডে লেন্স উৎপাদন বন্ধ করল সানকো

মাত্র দুই বছর আগেও শুধু লেন্স তৈরিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম কম্পানি ছিল চট্টগ্রাম ইপিজেডের জাপানি মালিকানাধীন ‘সানকো অপটিক্যাল’। কিন্তু সেই ক্রম অগ্রসরমান কম্পানি গত দুই বছর ধরে ক্যামেরা লেন্স উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে কম্পানির বার্ষিক উৎপাদন এবং রপ্তানিতে। কম্পানির হিসাবে গত দুই বছরে সানকোর ব্যবসায়িক পরিধি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির জোয়ার আনলেও স্মার্টফোনের আবির্ভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ডিজিটাল ক্যামেরা। এ কারণেই ব্যবসায়িকভাবে মার খেয়ে গেছে অনেক নামিদামি লেন্স উৎপাদনকারী কারখানা।

সানকো সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাসে সর্বমোট ১৬ লাখ লেন্স তৈরি হতো সানকো কারখানায়। এ সময় বিভিন্ন মডেলের প্রায় ৩৫০ আইটেম লেন্স তৈরি করে সানকো। এর মধ্যে বিশ্বসেরা নাইকন, সনি, মিনোল্টা, কনিকা ও অলিম্পাস ব্র্যান্ডের ক্যামেরার লেন্সসহ ফুজি এবং কম্পিউটার (ঈড়সঢ়ঁঃধৎ) গোপন নিরাপত্তা ক্যামেরার (সিসিটিভি) লেন্স, রিকোহ ব্র্যান্ডের ফটোকপিয়ারের লেন্স এবং অলিম্পাস ব্র্যান্ডের মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্টের লেন্স, বাইনোকুলার লেন্স ও ইপসন ব্র্যান্ডের স্ক্যানার লেন্স তৈরি হয় সানকোর কারখানায়। এর ফলে ২০১৪ সালেও সানকো সর্বমোট ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৬০ কোটি টাকার লেন্স রপ্তানি করেছে। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে বর্তমানে মাসে আট লাখ থেকে ৯ লাখ লেন্স উৎপাদন হচ্ছে জাপানি এই কারখানায়। উৎপাদন কমার ফলে রপ্তানিও কমে ১০ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেন্স তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চীনের এশিয়া অপটিকসের পরেই সানকোর অবস্থান ছিল। বর্তমানে সানকোতে লেন্সের মডেল আগের চেয়ে প্রায় ১০০টি বেড়ে সাড়ে চার শ আইটেম উৎপাদন হলেও রপ্তানি ও উৎপাদনের সংখ্যাগত পরিমাণ কমেছে মূলত ক্যামেরা লেন্স উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণে। কারণ উৎপাদিত লেন্সের অর্ধেকই হতো ডিজিটাল ক্যামেরার লেন্স। ফলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ায় সিইপিজেডে অবস্থিত এই সানকো গ্রুপের তিনটি কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা এক হাজার ৬০০ থেকে কমে বর্তমানে ৯০০-তে নেমে এসেছে। যা আরো কমতে পারে।

জানতে চাইলে সানকো অপটিক্যালের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও হিসাব) বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফিল্ম ক্যামেরা থেকে ডিজিটাল ক্যামেরার বিপ্লবের কারণে ২০০১ সাল থেকে আমরাও অ্যানালগ ক্যামেরার পরিবর্তে ডিজিটাল ক্যামেরার লেন্স উৎপাদন শুরু করি। কিন্তু বর্তমান স্মার্টফোনের যুগে ডিজিটাল ক্যামেরাও হুমকির মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ায় সানকো কারখানায় ২০১৪ সাল থেকে ডিজিটাল ক্যামেরার লেন্স উৎপাদন একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তা উৎপাদন ও রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে। ’

স্মার্টফোনের প্রভাবে ডিজিটাল ক্যামেরা বিক্রি কমে গেছে জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিকস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অরভিয়া লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম সমীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিজিটাল ক্যামেরা বলতে গেলে এখন চলেই না। বর্তমানে পেশাদার এবং বিভিন্ন ইভেন্ট কাভার করছে এমন তরুণরা ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনছে। অথচ একসময় ছোট আকারের ডিজিটাল ক্যামেরার বেশ ভালোই বিক্রি ছিল। কিন্তু ভালো মানের স্মার্টফোন সহজলভ্য হয়ে যাওয়ার পরে আলাদা করে আর কেউ ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে চায় না। ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা দামের চায়নিজ ফোনেও এখন ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকে।


মন্তব্য