kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি হামলার নেতিবাচক খবরে পর্যটক কমেছে

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গি হামলার নেতিবাচক খবরে পর্যটক কমেছে

মো. রাফিউজ্জামান, প্রথম সহসভাপতি টোয়াব

কোনো দেশের সরকার পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করলে দুই বছর আগে থেকেই তাদের প্রস্তুতি থাকে এবং সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু আমাদের সরকার পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করার আগে সে ধরনের প্রস্তুতি নেয়নি, ফলে তা সফল হয়নি বলা যায়।

টোয়াবের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে, আর সেই ঘোষণা এসেছে ২০১৫ সালের মার্চে। এত অল্প সময়ে পর্যটন বর্ষ সফল করার প্রস্তুতি নেওয়া যায় না। মূলত এ কারণেই সরকার এ বর্ষকে বাড়িয়ে ২০১৮ পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। ’

রাফিউজ্জামান আরো বলেন, ‘জঙ্গি হামলাও আন্তর্জাতিক পর্যটক সেভাবে না আসার একটি বড় কারণ। পর্যটক আসে সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে। এ ভরা মৌসুমে শোলাকিয়া ও হলি আর্টিজানের ঘটনা আমাদের পর্যটন সম্ভাবনায় পেরেক ঠুকে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বুকিং বেশির ভাগই বাতিল হয়েছে। জাপান, ইতালিসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশই তাদের পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্ক করেছে, ফলে তারা বুকিং বাতিল করে দিয়েছে। ’

রাফিউজ্জামান বলেন, ‘তবে সরকারসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট আমরা যারা আছি এবং মিডিয়া মিলে যদি আবারও দেশের ইমেজকে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরতে পারি তাহলে আবারও পর্যটক পেতে পারি। একটি উদাহরণ দিই, কিছুদিন আগে আমরা ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া যাই বাংলাদেশের পর্যটন প্রচারণায়। সেই সময়ে ম্যানিলায় বোমা বিস্ফোরণে ব্যাপক হতাহত হয়েছিল। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো বিষয় হচ্ছে, ম্যানিলার পত্রপত্রিকায় বা চ্যানেলে এ খবরটি আসেনি, কারণ তারা দেশের জন্য নেতিবাচক খবর দেয় না। তাদের এ অবস্থান দেশের পর্যটনশিল্পের জন্য বড় অবদান রেখেছিল, যা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে আমরা দেখি না। বোমা হামলার এসব ঘটনা ভারতসহ অনেক দেশেই ঘটছে, কিন্তু তাদের মিডিয়ার ভূমিকার কারণে পর্যটকরা ভালো ধারণা পাচ্ছে এবং পর্যটক কমছে না। আমাদের মিডিয়াগুলোর এমন ভূমিকা থাকা দরকার। আমরা দেশ ও ব্যবসার স্বার্থে সব সময় পর্যটকদের দেশে আনার জন্য কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া ও সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ’

তিনি বলেন, ‘পর্যটন দিবস উপলক্ষে সরকার গতানুগতিক দায়িত্বই পালন করেছে। সকালে শোভাযাত্রা আর বিকেলে আলোচনা, এতেই শেষ। অথচ পর্যটন দিবস নিয়ে সরকারের কার্যক্রম আরো ব্যাপক হওয়া উচিত। এ দিবস উপলক্ষে আমরা অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। ’ তাঁর মতে, ‘পর্যটন মন্ত্রণালয়, পর্যটন বোর্ড, পর্যটন করপোরেশন—তিনটি সংস্থা থাকা সত্ত্বেও দেশে কী পরিমাণ আন্তর্জাতিক পর্যটক আসছে তার সঠিক হিসাব কেউ দিতে পারছে না। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে ভ্রমণের উদ্দেশে কতজন আন্তর্জাতিক পর্যটক আসছে তার সঠিক হিসাব আমরা পাচ্ছি না। ’ তিনি বলেন, ‘এর সংখ্যা এক লাখের ওপর হবে বলে আমার মনে হয় না। ’


মন্তব্য