kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ই-ভিসা চালু জরুরি

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ই-ভিসা চালু জরুরি

রেজাউল একরাম, সভাপতি বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল একরাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একক গন্তব্যের দেশ হয়ে উঠতে না পারায় বিদেশি পর্যটকের জন্য আমাদের প্রতিবেশী দেশের সহযোগিতা নিতে হবে।

’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘নেপাল, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, চীন কিংবা অন্য কোনো দেশে পর্যটক ভ্রমণে এসে বাংলাদেশও ঘুরে যেতে পারে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ওই সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ট্যুর অপারেটরদের পর্যটক বিনিময় জোরালো করতে হবে। আমরা নেপালে পর্যটক পাঠাতে পারি, তেমনি নেপালের ট্যুর অপারেটররা তাদের দেশে আসা পর্যটকদের বাংলাদেশে পাঠাতে পারে। এ ক্ষেত্রে যৌথভাবে প্রোডাক্ট ডিজাইন ও মার্কেটিং করা যেতে পারে। ’

সরকার পর্যটনশিল্পের প্রচার ও বিপণন কার্যক্রমকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ বা ভিজিট বাংলাদেশ ইয়ার-২০১৬ হিসেবে উদ্যাপনের ঘোষণা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে রেজাউল একরাম বলেন, ‘পর্যটন বর্ষের প্রস্তুতি অন্তত তিন বছর আগেই শুরু করা দরকার ছিল। তবে সরকার অন্তত শুরুটা করেছে, এটি ভালো। সরকার আঞ্চলিক পর্যটনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে গত বছরের অক্টোবরে ঢাকায় বুড্ডিস্ট ট্যুরিজম সার্কিট কনফারেন্সে করেছিল। সেখানে আমরা আমাদের বিভিন্ন বৌদ্ধ স্থাপনাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছিলাম। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় ও ময়নামতিসহ পাঁচ শর বেশি গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় পর্যটন স্থাপনা আমাদের আছে। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মেরও বিভিন্ন স্থাপনা এখানে আছে। এগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটন পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে পারলে আরো পর্যটক পেতাম। কিন্তু এই সম্মেলন শেষে এ বিষয়ে আর ফলোআপ হয়েছে বলে আমার জানা নেই। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভিসা ব্যবস্থা সহজ হলে এবং চার দেশীয় সড়ক যোগাযোগ সক্রিয়ভাবে চালু হলে বাংলাদেশে পর্যটক আগমন আরো বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের এখনই ই-ভিসা চালু করতে হবে। ’

চলতি বছরের শেষের দিকে আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত পর্যটন বর্ষ-২০১৬ বাস্তবায়নে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে একটি আঞ্চলিক সম্মেলন করা হবে। এতে সাতটি দেশের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ইনবাউন্ড ট্যুর যারা অপারেট করে, তাদের আয়ের ওপর একটি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে হোটেল ও রিসোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ঘোষণায় বাংলাদেশমুখী ট্যুর অপারেটররা কিছুটা আশাবাদী হয়েছে। তবে আমরা পর্যটন নিয়ে শুধু আশার বাণী শুনে আসছি। আমাদের ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটররা এসব আশার সফল বাস্তবায়ন দেখতে চায়। ’


মন্তব্য