kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পর্যটক আকর্ষণে দেশ বিদেশে প্রচারণা বাড়বে

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পর্যটক আকর্ষণে দেশ বিদেশে প্রচারণা বাড়বে

আখতারুজ জামান খান কবির, সিইও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড

পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করার পর পর্যটক আগমন বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সিইও আখতারুজ জামান খান কবির। তবে পর্যটক যেভাবে বাড়বে আশা করা হয়েছিল, সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।

তিনি বলেন, দেশে সন্ত্রাসী হামলা ও জঙ্গি আতঙ্কসহ বিদেশি অনেক দেশে রেড অ্যালার্ট জারি করায় পর্যটক আগমন সেভাবে বাড়েনি।

আখতারুজ জামান খান আরো বলেন, “জাপান থেকে আমাদের দেশে অনেক পর্যটক আসত, আমরা এবার সেখান থেকে হোঁচট খেয়েছি হলি আর্টিজানের ঘটনায়। একইভাবে ইতালিসহ ইউরোপীয় অনেক দেশ এখনো সতর্কতামূলক অবস্থানে আছে। ফলে ব্যাপকভাবে পর্যটক টানা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে চীন। গত বছর চীন থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি ভিজিটর এসেছে এবং তা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। আগে চীনের পর্যটক সেভাবে না এলেও বর্তমানে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ইত্যাদির কারণেই পর্যটক আগমন বেড়েছে। তবে পর্যটক টানতে না পারার পেছনে আমাদের আর্থিক অপ্রতুলতাও একটি বড় কারণ। ‘ভিজিট বাংলাদেশ’ পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সেভাবে আর্থিক বরাদ্দ পাইনি, ফলে আমরা আমাদের বিশেষ কোনো প্রচারণা, কর্মকাণ্ড ইত্যাদি করতে পারিনি, রুটিন কাজই করছি, তার পরও আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। ” জঙ্গি হামলার পর বিটিবির পক্ষ থেকে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আখতারুজ জামান খান কবির বলেন, ‘দেশে সন্ত্রাসী ঘটনার পর আমরা বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছি। হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সঙ্গেই ট্যুরিজম বোর্ড ইউএনডাব্লিউটিওতে চিঠি পাঠিয়েছে এবং স্থানীয় পত্রপত্রিকায় আশ্বস্ত করে প্রেস রিলিজ দিয়েছে। এ ছাড়া আমরা দ্রুততার সঙ্গে জাপান ও ইতালির বাজারে যারা অপারেট করে তাদের নিয়ে এবং এ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। কী করলে দ্রুত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় এ ব্যাপারে পরিকল্পনা তৈরি করেছি ও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি এবং তা অনুমোদন করিয়েছি। ওখানে বেশ কিছু গাইডলাইন ছিল, সে অনুযায়ী আমরা কাজও করছি। ’

আখতারুজ জামান খান বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা পর্যটক বাড়ানোর জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ পাইনি, তার পরও আমরা আশাবাদী। আমরা বুঝি যে এক বছর পর্যটন বর্ষ রাখলে তা বাস্তবায়ন আমাদের জন্য কঠিন হবে, সে কারণেই আমরা এটিকে তিন বছরে বর্ধিত করেছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে আমরা কিছু কাজ করছি। কিন্তু মিডিয়ায় ক্যাম্পেইন বাড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও এখনো করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনা আছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাড়ানোর। ’

আখতারুজ জামান খান বলেন, ‘পর্যটক বাড়াতে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশে রোড শো করার ইচ্ছা আছে আমাদের, এমনকি দেশের সেলিব্রিটিদের বিভিন্ন দেশে পর্যটন প্রচারণার জন্য পাঠাব। এর পাশাপাশি বেকওয়াটার ট্যুরিজমকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছি আমরা। দেশের বিশাল জলাধারে পর্যটকরা নৌকায় ঘুরে বেড়াবে বা রাত্রি যাপন করবে, এমন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। ভারতের কেরালায় এমন রয়েছে। আমরা আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে এটি করতে চাই। যেমন স্বরূপকাঠিতে নৌকায় গিয়ে পেয়ারা, আমড়া পাড়ার সুযোগ রয়েছে। সেখানে একটি ফ্লোটিং মার্কেট রয়েছে, আবার নৌকার হাটও রয়েছে। সেখানে পুরনো গয়নার নৌকা বানিয়ে আমরা যদি ভেতরে দু-চারটা রুম করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দিতে পারি, তবে যেকোনো পর্যটক জলাশয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবে। কক্সবাজার, রাঙামাটি নিয়েও আমরা কাজ করছি। এ ছাড়া পর্যটক টানতে আমরা ভিসার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। যেমন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বা ভাষার মাস উপলক্ষে প্রতিবেশী ভারতের নাগরিকদের আমরা ভিসায় নানা অফার দিতে পারি, যেটি ভারতও দিচ্ছে। এ ছাড়া ই-ভিসা চালু এবং অন-অ্যারাইভাল ভিসার সম্প্রসারণ করলে প্রতিবেশী দেশ থেকে পর্যটক আগমন আরো বেড়ে যাবে। ’


মন্তব্য