kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মন্থর প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে ওঠার কৌশল খুঁজবেন বিশ্বনেতারা

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মন্থর প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে ওঠার কৌশল খুঁজবেন বিশ্বনেতারা

ব্রেক্সিট, ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকট এবং এশিয়ার শ্লথ প্রবৃদ্ধি। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্দার ঘরে ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন প্রবৃদ্ধির চাকা জোরালো করার কৌশল নির্ধারণে আজ রবিবার শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হ্যাংঝুতে শুরু হতে যাওয়া এ সম্মেলনে যোগ দিতে ইতিমধ্যে চীন পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা।

জি-২০ সম্মেলন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যাক ল্যু এক বিবৃতিতে জানান, সম্মেলনে বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানাবেন বারাক ওবামা। এ জন্য রাজস্বনীতি গ্রহণের পাশাপাশি সরকারগুলোকে ক্ষুব্ধ জনগণের প্রতি কর্ণপাত করার তাগিদ দেবেন তিনি। ওবামা ব্যাংকিং সেবায় জগণকে সর্বজনীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন।

২০১৫ সালের সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বলেছিলেন তাঁরা প্রবৃদ্ধি জোরালো করতে রাজস্ব নীতিকে ব্যবহার করবেন। একই সঙ্গে সরকারি ঋণ কমিয়ে আনার ব্যাপারেও তাঁরা জোর দেন। তবে এবারের সম্মেলনে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ইস্যুটি কত গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়ে আর্থিকসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যালিয়েঞ্জের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ আল-ইরিয়ান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অসুস্থতা তৈরি হয়েছে খুব দ্রুততম সময়ে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। ফিন্যানশিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক আর্টিকেলে তিনি বলেন, বিশ্ব প্রবৃদ্ধি জোরালো করার ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এবারের সম্মেলনে বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোকে বর্তমান সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির চেয়েও বিশ্ব রাজনীতি যখন ঘোলাটে তখন এ সম্মেলন কতটুকু অর্থনৈতিক থাকবে এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, সিরিয়া যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট এবং দক্ষিণ চীন সমুদ্রকে ঘিরে যখন যুদ্ধ উত্তেজনা তখন এবারের জি-২০ সম্মেলন রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

গত বছরের জি-২০ আলোচনায় ছায়া ফেলেছিল প্যারিসে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলা। এ কারণে তুরস্কের ওই সম্মেলনে মূল এজেন্ডার পাশাপাশি নেতারা ব্যস্ত ছিলেন সিরিয়া ইস্যুতে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে অর্থনৈতিক আলোচনাকে আড়াল করেছিল ক্রিমিয়া ইস্যু। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন জি-২০ সম্মেলনে উত্তেজনা যোগ করেছিল।

এবারের সম্মেলনও কিছু কারণে গুরুত্ববহ। বৈশ্বিক আর্থিক খাতে বহাল রয়েছে সর্বকালের নিম্নতম সুদহার। তারপরও অর্থনীতিকে টেনে তোলা যাচ্ছে না। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের ট্রান্স-প্যাসিফিক চুক্তির (টিপিপি) ভাগ্য আপাতত অন্ধকার দেখা যাচ্ছে। টিপিপি চুক্তির উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এটাই শেষ জি-২০ অংশগ্রহণ।

এবারের সম্মেলনে সিরিয়া ইস্যু নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে। সম্মেলনে প্রথমবারের মতো যোগ দিচ্ছেন সৌদি সিংহাসনের অন্যতম সম্ভাব্য উত্তরসূরি ডেপুটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম অর্থনীতিকে দেশটির তেলনির্ভরতা কাটাতে মোহাম্মদ বিন সালমান ভিশন ২০৩০ নামের রূপকল্প প্রণয়ন করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই তাঁর দেশের বিনিয়োগ নীতিমালাকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে সম্পর্কে শীতলতা নেমে আসে। চীনে জাস্টিন ট্রুডোর এটা প্রথম সরকারি সফর।

উত্তর এশিয়ার শক্তিশালী তিন অর্থনীতি চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ত্রিপক্ষীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পথে বহু দূর অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এসব দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে অবিশ্বাস যোগ হচ্ছে। পূর্ব চীন সাগরে দ্বীপ বিরোধ চলছে বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে। অন্যদিকে চীন সমুদ্রকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গেও চীনের উত্তেজনা কম নয়। রয়টার্স।


মন্তব্য