kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উচ্চমানের কাপড় তৈরি করছে স্কয়ার ডেনিম

এম সায়েম টিপু   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উচ্চমানের কাপড় তৈরি করছে স্কয়ার ডেনিম

কথায় আছে ভুল থেকে শিক্ষা নিলে যেমন সাফল্য আসে, তেমনি প্রতিযোগিতপূর্ণ বাজারে ব্যবসার দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করে সেই জায়গা উন্নত করা গেলে সাফল্য আসবেই। আর এর সঙ্গে থাকা চাই ব্যবসায়িক সততা ও সুনাম।

এসব কিছুকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপ। সম্প্রতি এই শিল্প গোষ্ঠীর নতুন সংযোজন রাজধানী ঢাকা থেকে ১৪০ কিলোমিটার দূরে হবিগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের ডেনিম ফেব্রিকস উত্পাদনের বিশাল কারখানা দেখে এমনটাই মনে হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে কারখানাটি। তুরস্কের কারিগরি সহায়তা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য শোধনাগার, নির্দিষ্ট তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থাসহ পুরো পরিবেশবান্ধব কারখানা। বস্ত্র উত্পাদনের বিভিন্ন ধাপে আধুনিক প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য রয়েছে আট মেগাওয়াটের ক্যাপটিভ জেনারেটর। বিদ্যুত্জনিত কারণে অগ্নিকাণ্ড থেকে সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক বাস বার ট্রানটিন্ট প্রযুক্তি।  

কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এ কারখানায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এত বড় বিনিয়োগ সাধারণ মানের ডেনিম কাপড়ের জন্য নয়। বরং তুলনামূলক উচ্চমূল্যের কাপড় এখানে তৈরি করা হয়। কারখানার বিশেষত্ব হলো কাপড়ের ফিনিশিং। এ জন্য উচ্চমূল্যের যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। তারা জানায়, ডেনিমের ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক দুর্বল। কর্মকর্তারা বলেন, ‘অন্যদের এ দুর্বলতা আমাদের সামনে সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্কয়ার ডেনিম সুতা উত্পাদন করে আসছে। ফলে নিজস্ব সুতা থেকে ফেব্রিকস বা কাপড় তৈরি আমাদের জন্য সহজ হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে উত্পাদনে আসা কারখানাটি থেকে ইতিমধ্যে নামকরা ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের গার্মেন্টের অর্ডার সরবরাহ করাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই কারখানা থেকে ডেনিমের কাপড় সংগ্রহ করছে। এ কারখানার তৈরি করা কাপড়ের প্রশংসা করেছে নামকরা ব্র্যান্ড নেক্সট ও সিঅ্যান্ডএ। ’

ডেনিমে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী মূলত চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। তবে এ ধরনের পণ্য ও কাপড় উত্পাদনে এশিয়ার অন্যতম ‘জায়ান্ট’ তুরস্ক। উচ্চমূল্যের ডেনিম কাপড় উত্পাদনে তাদের বিশেষ সুনাম রয়েছে। ডেনিমে তাদের ব্যবহার করা যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি কিংবা কারিগরি জ্ঞান উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতে দেশটির এ অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশও ধীরে ধীরে সেই পথে হাঁটছে। দেশের বেশ কিছু কারখানা এখন তাদের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নিচ্ছে। গার্মেন্ট তথা ডেনিম পণ্য উত্পাদনে চীন শীর্ষে থাকলেও দেশটি ধীরে ধীরে এ খাত থেকে সরে যাচ্ছে। দেশের উদ্যোক্তারা মনে করছে, এটি তাদের জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

আলাপকালে কারখানাটির মহাব্যবস্থাপক সাঈদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতি বর্গমিটার (ইয়ার্ড) ডেনিম কাপড়ের গড় দাম আড়াই থেকে তিন ডলার। কিন্তু স্কয়ারের তৈরি ডেনিম কাপড় এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। ধীরে ধীরে এখানকার তৈরি ডেনিম কাপড় শীর্ষস্থানীয় ডেনিমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। কারখানার উত্পাদন ক্ষমতা বছরে ২৫ লাখ মিটার। বর্তমানে ১৫ লাখ মিটার উত্পাদিত হচ্ছে। আগামী দুই বছরে কারখানাটি উত্পাদন ক্ষমতার পুরো ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া আগামী নভেম্বর নাগাদ সেখানে আরেকটি ইউনিট স্থাপন করা হবে।

সাঈদ আহমেদ আরো বলেন, তুলনামূলক জমির সহজলভ্যতা ও গ্যাসের সহজলভ্যতায় ঢাকা থেকে বেশ খানিকটা দূরে হওয়া সত্ত্বেও এখানে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এই কারখানায় প্রায় সাড়ে ৯০০ শ্রমিক কাজ করে। আর এর ৩০ শতাংশই নারী শ্রমিক বলে দাবি করেন তিনি।


মন্তব্য