kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ফলন বেশি, দামও ভালো

আলু চাষে লাভে রংপুরের চাষিরা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আলু চাষে লাভে রংপুরের চাষিরা

বিগত বছরগুলোতে আলু চাষে লোকসান গুনলেও এবার আশানুরূপ দাম পাওয়ায় লাভে ফিরেছে রংপুরের চাষিরা। বাম্পার উত্পাদনের পরও ভালো দাম পাওয়ার স্বস্তিতে রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা। তাঁরা জানান, অন্য বছরের মতো এবার আলু চাষ মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক-ছত্রাকনাশকের সংকট ছিল না। কৃষি বিভাগও বলছে, একই ধরনের কথা। সব মিলে এবার চলতি বোরো আবাদের খরচ জোগাতে আলুই এই অঞ্চলের চাষিদের সম্বল হয়ে গিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের পাঁচ জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় ৯১ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আলু উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৮ লাখ ৬ হাজার ২৪৮ মেট্রিক টন। পরবর্তীতে কৃষকরা নিজেরাই তা বাড়িয়ে নিয়ে যায় ৯৪ হাজার ১৬০ হেক্টরে। উত্পাদন হয়েছে ২০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম জানান, যা আলু উত্পাদনে অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।

রংপুরের সবচেয়ে বেশি আলু উত্পাদনকারী এলাকা নব্দীগঞ্জ, কল্যাণী, দেউতি, বড়দরগা, পীরগাছা, নজিরেরহাট, মমিনপুর ও গঙ্গাচড়া এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে আলু উত্তোলনের উৎসবে মেতে উঠেছে। আলু উত্তোলন প্রায় শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করে চাষি রওশন আলী, জয়নাল আবেদীন জানান, এবারে আলুর দাম ভালো। তাই হিমাগারে সংরক্ষণের ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে তাঁরা ক্ষেতেই আলু বিক্রি করছেন। চাষি কমলকান্ত ও আহাদ আলী জানান, বর্তমান সময়ে বোরো চাষে ব্যাপক টাকা দরকার হয়। অন্য বছরের তুলনায় আলুর ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় আলু বিক্রির টাকা তাঁরা বোরো চাষে ব্যয় করছেন। আলু চাষিরা জানান, অন্য বছর ৮০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আলু জাত ভেদে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও এবারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে বড় চাষিরা মৌসুম শেষে আরো দাম বাড়ার আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করছেন। এ বছর কোনো কারণে আলুর বাজারে ধস না নামলে চাষিরা লাভবান হবেন এবং আগামীতে আলু আবাদে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন তাঁরা।


মন্তব্য