kalerkantho


ইন্টারনেট গতিতে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, পিছিয়ে ভারত

এক বছরে বিশ্বে গতি বেড়েছে ২৩ শতাংশ

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



প্রযুক্তিগত সেবার পাশাপাশি ইন্টারনেট গতির দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। আর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে ভারত। সম্প্রতি বৈশ্বিক ইন্টারনেট সেবা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আকামাই টেকনোলজিস।

প্রতিবেদেনে বলা হয়, বিশ্বে ইন্টারনেট গতি গত এক বছরে বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বিশ্বে গড় ইন্টারনেট গতি ২৩ শতাংশ বেড়ে হয় ৫.৬ এমবিপিএস। তবে আগের প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) চেয়ে গতি বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ।

‘ফোর্থ কোয়ার্টার, ২০১৫, স্টেট অব দ্য ইন্টারনেট রিপোর্ট’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে সর্বোচ্চ ইন্টারনেট গতি দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬.৭ এমবিপিএস। আর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সর্বনিম্ন গতি ভারতে ২.৮ এমবিপিএস। তবে এক বছর আগের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে ইন্টারনেট গতি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া এশিয়ায় ইন্টারনেট গতির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান। দেশটির ইন্টারনেট গতি ১৭.৪ এমবিপিএস।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে হংকং, দেশটির গড় ইন্টারনেট গতি ১৬.৮ এমবিপিএস। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে ইন্টারনেট গতি গড়ে ১৩.৯ এমবিপিএস। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান, এই দেশটির ইন্টারনেট গতি ১২.৯ এমবিপিএস।

এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, এ দেশে যখন আকামাই টেকনোলজিস ইন্টারনেট গতি হিসাব করছিল তখন হঠাৎ করেই সরকার নিরাপত্তাগত কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেয়। এর ফলে ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর ইন্টারনেট গতি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ শতাংশ কমে যায়, ফলে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের ইন্টারনেট গতি সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে একটি পেজ লোড করতে গড়ে সময় লাগে তিন হাজার ৯৪৬ মিলিসেকেন্ড। মোবাইলে প্রয়োজন হয় তিন হাজার ৬১৯ মিলিসেকেন্ড। এর বিপরীতে প্রতিবেশী ভারতে একটি পেজ লোড করতে ব্রডব্যান্ডে সময় লাগে তিনি হাজার ৯৯২ মিলিসেকেন্ড, আর মোবাইল ফোনে এ সময় লাগে ছয় হাজার ৯২৩ মিলিসেকেন্ড।  

প্রতিবেদনের সম্পাদক ডেভিড বেলসন বলেন, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ইন্টারনেট সংযোগের গড় গতি ছিল আশাব্যঞ্জক। সার্বিক ব্রডব্যান্ডের পরিসরও বেড়েছে। তিনি জানান, ভোক্তাদের প্রত্যাশা বাড়ছে। সেই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন খেলার মতো উচ্চমানের ইভেন্টের আয়োজনও হচ্ছে প্রচুর। এ দুটো কারণে ইন্টারনেট সংযোগ গতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায়, এক বছর আগের তুলনায় গড় সংযোগ স্পিড বেড়েছে ২৩ শতাংশ, তবে আগের প্রান্তিকের চেয়ে বেড়েছে ৮.৬ শতাংশ। যদিও বিশ্বে গড় পিক সংযোগ স্পিড প্রান্তিক হিসাবে মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে এবং এক বছর আগের চেয়ে ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩২.৫ এমবিপিএস।

বিশ্বে ইন্টারনেট গতিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইডেন, দেশটিতে বর্তমানে ইন্টারনেট গতি ১৯.১ এমবিপিএস। তৃতীয় অবস্থানে থাকা নরওয়েতে গড় ইন্টারনেট গতি ১৮.৮ এমবিপিএস, চতুর্থ অবস্থানে থাকা জাপানে ইন্টারনেট গতি ১৭.৪ এমবিপিএস, পঞ্চম অবস্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসে ইন্টারনেট গতি ১৭.০ এমবিপিএস। ইন্টারনেট গতির দিক থেকে বিশ্বে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে হংকং। এ দেশটির ইন্টারনেট গতি ১৬.৮ এমবিপিএস, সপ্তম অবস্থানে থাকা লাটভিয়ার ইন্টারনেট গতি ১৬.৭ এমবিপিএস, অষ্টম অবস্থানে থাকা সুইজারল্যান্ডে ইন্টারনেট গতি ১৬.৭ এমবিপিএস, নবম অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড, দেশটির গড় ইন্টারনেট গতি ১৬.৬ এমবিপিএস। দশম অবস্থানে থাকা ডেনমার্কের ইন্টারনেট গতি ১৬.১ এমবিপিএস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হংকংয়ে ব্রডব্যান্ড গ্রহণের পরিমাণ আশানুরূপ বাড়েনি। তবে নরওয়ে ও ডেনমার্কের অবস্থা এ ক্ষেত্রে খুবই ভালো। বৈশ্বিকভাবে গত বছরের শেষ তিন মাসে ব্রডব্যান্ড গ্রহণের হার ২০১৪ সালের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৭০ শতাংশ। কিন্তু জুলাই-অক্টোবরের চেয়ে এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। বিশ্বের ৪৩টি দেশে আইপিভি৪ অ্যাড্রেস গ্রহণ অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে বেড়েছে ১০ শতাংশ। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্মার্টফোনে ইন্টারনেট সংযোগের গতি বৃদ্ধিতে এ সময় এগিয়ে ছিল ব্রিটেন।


মন্তব্য