kalerkantho


সিটিও ফোরামের সভাপতি বলেন

সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে আনতে হবে

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে আনতে হবে

ডিজিটাল নিরাপত্তায় বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে শুরু করে সরকার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সবাই একযোগে কাজ করছে। নিত্যনতুন প্রযুক্তির, সফটওয়্যারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে নজর দিচ্ছে উন্নত দেশগুলো।

ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে বিবেচনায় আনতে হবে বলে মনে করেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রধান তথ্যপ্রযুক্তিবিদদের সংগঠন সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা ‘তথ্যপ্রযুক্তির সমস্যা’ ভাবার এখন আর অবকাশ নেই। সাইবার যুদ্ধ এখন যেমন সায়েন্স ফিকশনের বিষয় নয়, তেমন সাইবার আর্মিও কোনো কল্পনার বিষয় নয়। ”

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে হ্যাকিং রোধে করণীয় প্রসঙ্গে তপন কান্তি সরকার আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে নিরাপত্তা বিভিন্ন স্তরে জোরদার করতে হয় এবং অবিরত অবলোকন আর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করতে হয়। এর মধ্যে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা হলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী পর্ষদ এবং একদল তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। হ্যাকিং রোধে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার কথা বললে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দলটি গঠনে তত্ত্বগত এবং ব্যবহারিক দুই ধরনের জ্ঞানকে বিবেচনায় আনতে হবে।

শুধু তত্ত্বগত জ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মূল্যহীন। সেবা অনুযায়ী নেটওয়ার্ক নকশা বিভাজিত হতে হবে এবং নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলো অ্যাপ্লিকেশন আর্কিটেকচার এবং নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে বাজেটের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে আরো কিছু উদ্যোগের কথা বললেন সিটিও ফোরামের এই অধিকর্তা। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে যত ধরনের ডিভাইস আছে, সব প্রয়োজন মতো শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিনিয়ত সিকিউরিটি আপডেট, প্যাচ আপডেট নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিষয়ে প্রযুক্তিগত এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রতিনিয়ত উন্নতমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

সিটিও ফোরামের উদ্যোগ তুলে ধরে সংগঠনটির এই নেতা বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমরা সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে ১৫টির মতো সেমিনার আয়োজন করেছি। তবুও সত্যি বলতে কী, আমাদের দেশে এ বিষয়ে বাস্তবায়ন পর্যায়ে বড় বাজেট একটা বিশাল বাধা হিসেবে কাজ করছে। ’

বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিং প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তুলে ধরে তপন কান্তি সরকার বলেন, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার ফসল ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং এর সফল বাস্তবায়ন। এ কথা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। দেশের আর্থিক খাত ডিজিটাইজড করতে অনেক জটিল উদ্যোগ যা অনেক দিন ধরে আটকে ছিল, সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাই এই সময়ে অটোমেটেড প্রসেস অ্যাডাপশনের জন্য শুধু যে প্রযুক্তির উন্নতিকরণ হয় তা কিন্তু নয়, প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রাখার জন্য কর্মপদ্ধতির পরিমার্জন করতে হয়। রূপান্তরের এই সময়টা খুব সংবেদনশীল এবং হ্যাকারদের এই সময়টা পছন্দনীয়। কারণ এই সময়ে তারা শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, নতুন কর্মপদ্ধতির ত্রুটিও কাজে লাগাতে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে আসলে কোনটা ঘটেছে তা আপাতত পরিষ্কার করে বলা যাবে না।


মন্তব্য