kalerkantho


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান

রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনা সম্ভব

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনা সম্ভব

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশের আর্থিক খাতের নিরাপত্তা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভ ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছেন। জাতিসংঘের কনভেনশনের আওতায় পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা চুক্তি (এমএলএ) করে চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং দেশের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের সংগঠন সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমীকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তাঁরা এসব কথা বলেন

কয়েক বছর আগেও পাচার হওয়া কিংবা ব্যাংকিং চ্যানেলে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার করা খুবই জটিল ছিল, কিন্তু এখন তা কঠিন নয়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ ফেরত আনা যতখানি সহজ ছিল ফিলিপাইনের ক্ষেত্রে ততটা সহজ হবে না, তবে অসম্ভব নয়। এখন উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি যথাযথ অনুসন্ধান করছে। জাতিসংঘের কনভেনশনের আওতায় পারস্পরিক ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হ্যাকিং হওয়া অর্থ উদ্ধার সম্ভব বলে আমি মনে করি। এ জন্য আগে এমএলএ চুক্তি করতে হবে। ’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত আনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে প্রতিরোধে (এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং) এপিজি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে দুদকের সহযোগিতার মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়। আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন এপিজি সেক্রেটারিয়েটের কর্মকর্তা ডেভিড শিনন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। সিঙ্গাপুরে পাচার হওয়া অর্থ যে প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভও একই প্রক্রিয়ায় উদ্ধার সম্ভব। এ ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে। এ জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো এমএলএ চুক্তি করা। মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে এভিডেন্সগুলো যাতে আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। ’  বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘের আরো কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘একই সঙ্গে ইউনাইটেড ন্যাশন্স দ্য স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভের আওতায় আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সরকার যদি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে থাকে তাহলে এই অর্থ ফিরিয়ে আনা সময়সাপেক্ষ হলেও অসম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যাবে না। ’

ফিলিপাইনে ক্যাসিনোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অর্থ বেরিয়ে গেছে সেই টাকার দায়ও ফিলিপাইন এড়াতে পারে না উল্লেখ করে টিআইবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতিমধ্যে ফিলিপাইন এই অর্থের মুনাফার কিছু টাকা ফেরত দিতে চেয়েছে যেটা খুবই নগণ্য। রিজার্ভ ব্যাংকও দায় এড়াতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে ত্রিপক্ষীয় সহায়তা লাগবে। আমাদের যেহেতু ক্ষতি হয়েছে, আমাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য সময়ক্ষেপণ না করে এমএলএ করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। ’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বলেন, ‘যেটা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ হতে পারে, কিন্তু কিভাবে হ্যাকিং প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। যে ঘাটতির জন্য ঘটনাটি ঘটল সেগুলো চিহ্নিত করে তা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন অনেক ব্যাংকেই লেনদেন মনিটরিংয়ে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, যেটি ট্রানজেকশন হলেই সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন দেয়। কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকে কার্যকর থাকা উচিত ছিল। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার শেষ বলে কিছু নেই। আমরা যত অ্যাডভান্স হব, হ্যাকাররাও তত অ্যাডভান্স হবে, অপরাধ চালাতে থাকবে। সে জন্য একটা সিস্টেমের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পদ্ধতির ব্যবহার করতে হবে। আমাদের আইটি খাতে দক্ষ জনবলের এবং এ খাতে যথাযথ বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। সেদিকেও নজর দিতে হবে। ’


মন্তব্য