kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


এসএমই উদ্যোক্তাদের পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রয়োজন

দেশজুড়ে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করছে সরকার। এরই মধ্যে ১০টির উদ্বোধন হয়েছে। অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান বাড়াতে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদক ফারজানা লাবনীকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসএমই খাতের নানা দিক তুলে ধরেন

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এসএমই উদ্যোক্তাদের পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রয়োজন

নাসিব সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক, কারিগরি ও বিপণন সহায়তা দিয়ে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। অথচ পুঁজি সংকটে এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকে ব্যবসার পরিকল্পনা করেও বাস্তবায়ন করতে পারছেন না বলে জানালেন নাসিব সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন।

তিনি বলেন, অনেকে ধারদেনা করে ব্যবসা শুরু করে মাঝপথে অর্থের অভাবে আটকে যাচ্ছেন। এ সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিক হলেও ব্যাংকগুলো আন্তরিক নয়। এসএমই ঋণ বিতরণে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন অজুহাতে সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন নাসিব সভাপতি।

আসন্ন বাজেটে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এমএসই খাতের অন্যতম এই সংগঠনের নেতা আরো বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বল্প পুিঁজর ব্যবসা সম্পূর্ণ রাজস্ব মুক্ত ঘোষণা দিতে হবে। রাজস্ব সুবিধাসহ সব ধরনের সুবিধা দিয়ে এসএমই উদ্যোক্তাকে টিকিয়ে রাখলে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে। দেশব্যাপী একাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, যা সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ। শুধু এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য প্রত্যেক বিভাগে পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করলে দেশে এসএমই বিপ্লব হবে।

এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে মির্জা নুরুল গণি শোভন বলেন, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের অভাব, প্রযুক্তি ব্যবহারে সুবিধা না থাকা ও বিপণন দক্ষতার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া কোন ব্যবসা কোন মৌসুমে লাভজনক, কোন এলাকার জন্য কোন ব্যবসা সুবিধাজনক, কোন ব্যবসার জন্য কী ধরনের শিক্ষা প্রয়োজন, কী পরিমাণ পুঁজি থাকলে কতজন কর্মী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে—এসব বিষয়েও উদ্যোক্তারা সঠিক গাইডলাইন পান না। আবার অল্প পুঁজির মেধাবী ব্যবসায়ীদের আবিষ্কৃত প্যাটেন্টও অনেক সময় সঠিকভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না।  

মির্জা নুরুল গণি শোভন বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাত টিকে আছে এসএমই খাতের ওপর। অথচ মুষ্টিমেয় বৃহৎ শিল্পের প্রসারে যে যত্ন, যে সুবিধা দেওয়া হয় এসএমই খাতে তা নেই। এ জন্য শুধু সরকারের ওপর দায় চাপানো চলবে না। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, এখনকার তরুণ-তরুণীরা চাকরির চেয়ে ব্যবসায়ে আগ্রহী। তারা নিজে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়। আবার অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চায়। এসব তরুণ-তরুণীর বড় অঙ্কের পুিঁজ থাকে না।

নাসিব সভাপতি বলেন, ৭০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তা ঋণ পান না। নারী উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে বেশির ভাগ সময় বিবেচনা করাই হয় না। অথচ নারীরা ঋণ নিয়ে অর্থ লোপাট করেছেন এমন নজির নেই বললেই চলে। এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তারা বেশির ভাগই পরিশ্রমী।

নাসিব সভাপতি বলেন, গ্রামনির্ভর বাংলাদেশের গ্রামের অর্থনীতির উন্নয়ন হলেই সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব। তাই তৃণমূলের এসএমই উন্নয়নে নীতি কৌশল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সম্প্রতি সাউথ এশিয়া কান্ট্রিজ এসএমই ফোরামের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মির্জা নূরুল গণি শোভন। সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে এসএমই পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান মির্জা নুরুল গণি শোভন। তিনি বলেন, সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকা দরকার। প্রতিবেশী অনেক দেশের স্বল্প আয়ের উদ্যোক্তাদের চেয়ে কম সুবিধা পান এ দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা। নাসিব সভাপতি বলেন, পণ্য উত্পাদন করেও অনেক সময় বিপণনব্যবস্থা সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকায় কারখানার গুদামে ফেলে রাখায় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। তাই এসএমই উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে হলে মানসম্মত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করতে হবে।

রাজধানীর ধোলাইখালের উদাহরণ দিয়ে নাসিব সভাপতি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের এই উদ্যোক্তারা অনেক শিক্ষিত ব্যক্তির চেয়েও অল্প খরচে, অল্প সময়ে এত আধুনিক যন্ত্রপাতি বানাছেন। এসএমই উদ্যোক্তাদের প্যাটেন্ট সুরক্ষিত রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নাসিবের চুক্তি হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে নাসিব  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্যাটেন্ট সুরক্ষায় কাজ করবে, যাতে কোনো উদ্যোক্তার প্যাটেন্ট অর্থাভাবে হাতবদল না হয়ে যায়।


মন্তব্য