kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ

কৃষি খাতে নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি কয়েকটি বাজারে কেন্দ্রীভূত থাকা, মাঝারি ও বৃহৎ উত্পাদন শিল্পে অদক্ষতা এবং সেবা খাতের মন্থর সম্প্রসারণ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত করবে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের মাসিক প্রকাশনা ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা ২০১৬’-এর ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

কৃষি খাতে সাম্প্রতিক নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩৭ শতাংশ ছিল। যা ১.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট কমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩.০৪ শতাংশ হয়। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাসমান উল্লেখ করে সংস্থা জানায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৬.১৫ শতাংশ ছিল। যা ২০১০-১১ অর্থবছরে ৪.৪৬ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩.০১ শতাংশ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২.৪৬ শতাংশে নেমে আসে। উত্পাদন শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির অস্থিতিশীল প্রবণতা ব্যাখ্যা করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখায়, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে এই খাতে গড়ে ১.৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে উত্পাদন শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ১০.০১ শতাংশ ছিল, যা ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ৯.৯৬ শতাংশ, ১০.৩১ শতাংশ, ৮.৭৭ শতাংশ ও ১০.৩২ শতাংশ হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বৃহৎ এবং মাঝারি উত্পাদন শিল্পে ২০১০-১১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ১১.১১ শতাংশ অর্জিত হয়, যা পরবর্তী চার অর্থবছরেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি মন্তব্য করে প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ২০১১-১২ অর্থবছরে বৃহৎ ও মাঝারি উত্পাদন শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার ১০.৭৬ শতাংশ ছিল। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০.৬৫ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯.৩২ শতাংশ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০.২৪ শতাংশ হয়।

শিল্পোন্নয়নে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের গুরুত্ব বিবেচনা করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এই খাতে প্রবৃদ্ধির হারের নিম্নমুখী প্রবণতাকে আশঙ্কাজনক বলে মন্তব্য করে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২.৪৭ শতাংশ পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি ব্যতীত বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ খাতে ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে প্রবৃদ্ধির হার হ্রাসমান। ওই খাতে প্রবৃদ্ধির হার ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৩.৩৬ শতাংশ ছিল। যা ২০১১-১২, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ১০.৫৮ শতাংশ, ৮.৯৯ শতাংশ, ৪.৫৪ শতাংশ ও ৭.০১ শতাংশ হয়।

তৈরি পোশাক খাতের ওপর রপ্তানি আয়ের নির্ভরশীলতা আগের তুলনায় অধিকতর বেশি নিবিষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করে বলা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪.২ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে ৮২.৯ শতাংশ ছিল। রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্যতার অভাব দেশের বহিঃখাতের ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আশঙ্কা করে।

সেবা খাতের সম্প্রসারণের মন্থরগতির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ এবং আর্থিক প্রাতিষ্ঠানিক খাতের অসন্তোষজনক প্রবৃদ্ধিকে সেবা খাতের সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে। পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ক্রমহ্রাসমান।


মন্তব্য