kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

ডিজিটাল অর্থনীতি দেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ডিজিটাল অর্থনীতি দেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার

প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবন আর উত্কর্ষে দ্রুত ডিজিটাইজড হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। এতে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো।

ডিজিটাইজেশনের এই অগ্রগতি আগামী এক দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর (আসিয়ান) জিডিপিতে এক ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে। আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদের (আজিয়াটা) সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এটি কার্নি।

‘আসিয়ান ডিজিটাল রেভল্যুশন’ নামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় দিকগুলো তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে নীতিগতভাবে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করে টেলিযোগাযোগ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাবে এবং তা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়ক হবে, সে বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসিয়ান দেশগুলো ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বর্তমানে এ অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ। এখানে শিক্ষিত জনসংখ্যা ৬০ কোটির বেশি, যার ৫০ শতাংশের বয়সই ৩০ বছরের নিচে। এ অঞ্চলে উদ্ভাবনী দক্ষতার প্রমাণ রেখে এবং নতুন প্রযুক্তিতে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি মানসম্মত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এটি কার্নির পার্টনার ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের হেড অব কমিউনিকেশনস, মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি প্র্যাকটিস এবং প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক নবীন মেনন বলেন, ‘বাজারের আকার ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার দিক থেকে আসিয়ানের মতো সম্ভাবনাময় অঞ্চল কমই আছে, বিশেষ করে যখন ডিজিটাল অর্থনীতির প্রশ্নটি সামনে আসে। এ অঞ্চলের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যার বয়স ৩০ বা তার কম। আর তাদের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক বেশি থাকে বলে ডিজিটাল অর্থনীতিতে এই গ্রাহকরা তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী দক্ষতা, তরুণসমাজ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি আসিয়ানকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ’

আজিয়াটার প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামালউদ্দিন ইব্রাহিম বলেন, ‘উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে আসিয়ান ডিজিটাল অর্থনীতি এগিয়ে নিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা প্রস্তুত রয়েছে। এই অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, স্মার্ট সিটি, সর্বজনীন ডিজিটাল সেবা ও অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। তবে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে গণমানুষের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারি লক্ষ্য, শিল্পের সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও জোরালো ডিজিটাল এজেন্ডা প্রয়োজন। এই উন্নয়নের লক্ষ্যে এরই মধ্যে অপারেটরগুলো ও সরকারের এগিয়ে আসার বিষয়টি আশা জাগিয়েছে। ’

এ ছাড়া আসিয়ান অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিশ্রুত শুল্কমুক্ত পণ্য, সেবা, বিনিয়োগ, দক্ষ শ্রমিক ও মূলধনের অবাধ আদান-প্রদানও এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে যে বিষয়গুলো ও নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজন তা হচ্ছে একটি ডিজিটাল কর্মকৌশল তৈরি করা, যা দেশভিত্তিক নয়, হবে পুরো অঞ্চলভিত্তিক। ব্রডব্যান্ড ও ইন্টারেনট সেবার প্রসারে প্রতিটি দেশে প্রতিটি অপারেটরের জন্য ২০ মেগাহার্জ বাড়তি তরঙ্গ বরাদ্দ করতে হবে, প্রতিটি বাজারে চারটির বেশি মোবাইল ফোন অপারেটর না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা, স্থানীয় কম্পানির বিকাশে দেশীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণ, শুধু ডিজিটাল ব্যাংক চালুর মতো মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সেবায় উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা, প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার প্রসার ও গ্রাহক সৃষ্টির লক্ষ্যে ৩৫টি ‘স্মার্ট’ সিটি গড়ে তোলা এবং একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, শুরুতে দেশভিত্তিক এবং পরে তা হবে আসিয়ানভিত্তিক।


মন্তব্য