kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অফলাইন

অ্যাপার্টমেন্ট

Lake view, Garden view, River view টাইপ অ্যাপার্টমেন্টের দিন শেষ।

সেদিন একজন এসে আমাকে বোঝাচ্ছন, ‘বস, এই অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দা ফ্লাইওভার ভিউ।’

আমি বললাম, ‘ফ্লাইওভার দেখে আমার লাভ কী? তা ছাড়া এই অ্যাপার্টমেন্টের অন্য বারান্দা থেকে তো মহাখালীর কলেরা হাসপাতাল দেখা যায়, এটা বলেন না কেন?’

‘... বোঝেন অবস্থা, কত ভিউ এই অ্যাপার্টমেন্টের।’

...কলেরা ভিউ ভাইজানকে চা খাওয়ায়ে বিদায় করলাম। গত সপ্তাহে বনানীর একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এসেছে, গোরস্তান ভিউ নিয়ে। আমি বললাম, ‘গোরস্তান ভিউয়ের সুবিধা কী?’

‘মাটির কাছাকাছি ফিল হবে ভাইজান। প্রত্যেককেই মরতে হবে এই ক্ষণিকের দুনিয়ায়। মন খারাপ লাগলে বারান্দায় এসে দাঁড়াবেন, লাইফে অন্য রকম এক অনুভূতি হবে।’

ক্ষণিকের দুনিয়া ভাইজানকে খানিক্ষণ বসিয়ে রেখে চা না খাইয়েই বিদায় করলাম। কাল একজন এসে বলছে, ওনার অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দা থেকে সামনে যে মাঠ দেখা যায়, সেখানে পূজার সময় পুজোর মণ্ডপ বসে, আর ঈদের সময় গরুর হাট বসে।

আমি বললাম, ‘বাহ, পুরাই অসাম্প্রদায়িক ভিউ।’

‘ইয়েস, এই ওয়ার্ডটাই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বুক করবেন অ্যাপার্টমেন্টটি? চেক কাটব?’

আজকে আমাদের বাচ্চারা স্কাই ভিউই পাচ্ছে না, জ্যোত্স্না বা পূর্ণিমা দেখার জন্য মুন ভিউ কোনো জানালা নেই বললেই চলে। এগুলোর বদলে চলে এসেছে; ট্যানারি ভিউ, সিনেপ্লেক্স ভিউ। হ্যাঁ, আসলেই এ রকম অফার আমি পেয়েছি, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘সিনেপ্লেক্স ভিউ আইডিয়াটা চমত্কার... সুবিধা কী? বারান্দায় বসে মুভি দেখা যাবে?’

‘না, না, বারান্দা থেকে একটু উঁকি দিলে সিনেমা হল দেখা যাবে।’

‘তাতে লাভ?’

‘কালচারের কাছাকাছি ফিল হবে, ভাইজান। এই ক্ষণিকের দুনিয়ায় মন খারাপ লাগলে বারান্দায় এসে দাঁড়াবেন, লাইফে অন্য রকম এক অনুভূতি হবে।’

আমি ত্যক্ত-বিরক্ত। ট্যানারি ভিউ লেখা ব্রুশিয়ার নিয়ে আসা মার্কেটিং অফিসারের চামড়া যে আমি খুলে রেখে দিইনি, এটাই তার জীবনে বড় পাওয়া। লেখাটা শেষ করতে পারিনি, একজন সামনে বসে আছে, ওনার অফার হলো, ‘নেইবরস ভিউ অ্যাপার্টমেন্ট’।

‘এটা আবার কী?’

‘এই ক্ষণিকের দুনিয়ায় পাশের বাড়িতে কে আছে তা দেখা হয়েই ওঠে না। তাই আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের কিচেন থেকে পাশের বাসার কিচেনও দেখা যাবে। সোশ্যাল বন্ডিং সেই লেভেলের হবে।’

আমি ওনাকে বসিয়ে রেখেছি চা আসছে বলে। আজ ওনার খবরই আছে। শার্টের হাতা তো গুটালামই... এমনকি রুমের পর্দাগুলোও টানলাম, কী করতে যাচ্ছি নেইবররা যেন না দেখে। পরে হুট করেই মনটা খারাপ হয়ে গেল ভেবে, লাভ কী। এদের তো দোষ না। দোষটা কার বা কোথায় তা-ও জানি না। মনে আছে, ছোটবেলায় একটা অ্যাড দেখেছিলাম; মফস্বলের মাঠে বসে হাফ প্যান্ট পরা এক ছেলে তার বন্ধুকে বলছে, ‘জানিস, বাবা ঢাকায় বাড়ি কিনেছে ... আমরা চলে যাচ্ছি।’

বন্ধুটি বলল, ‘সেকি, সেখানে ফুটবল খেলবি কোথায় রে?’

‘বাবা বলেছে, কম্পিউটার কিনে দেবে’।

‘আর ঘুড়ি? সেটা উড়াবি কোথায়? কম্পিউটারেই।’

... তখন ভাবতাম, আসলেই তো। আজ তার থেকেও খারাপ সময় চলছে। মেয়েরা জোনাকি পোকা দেখে আইপ্যাডে, জ্যোত্স্না কী তা চেনে না। চেনাতে চাইলেও পারি না। বারান্দায় টুলের ওপর উঁকি দিয়ে দাঁড়িয়েও না।

আরিফ আর হোসেন

সিনেমা

স্ত্রী : কাল তুমি পাশের বাসার ভাবির সঙ্গে সিনেমা দেখতে গেলে কেন?

স্বামী : কী করব বলো, আজকাল যে সিনেমাগুলো হয়, সেগুলো কি পরিবার নিয়ে দেখা যায়?

শাহাদাত রাসেল

অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। একজন সমানে অ্যাঞ্জেলিনা জেলি জেলি বলে যাচ্ছেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, জেলির জামাইয়ের নাম জানি কী আছিল?

ব্রেড পিট।

ব্রেড পিট! হা হা হা। জবাব শুনে হেসে ওঠেন সেই লোক। আমার সঙ্গে রসিকতা করেন, ভাই?

জি না। রসিকতা করি না। আপনি যদি জোলিকে জেলি বানান, তাহলে সেই জেলি লাগানোর জন্য ব্রাডকে তো আমার ব্রেড বানাতেই হবে, তাই না?

পলাশ মাহবুব

 

সৌজন্য কপি

জনৈক ভাই : শুনলাম, তোমার বই বের হইছে। কই, সৌজন্য কপি তো পেলাম না!

আমি : আপনি জব করেন শুধু শুনলামই, কোনো দিন তো সেলারির ভাগ দিলেন না!

ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ

 

মিরপুর

মেট্রো রেল, বিপিএল, বাণিজ্য মেলা, আর একটু বৃষ্টি হলেই কোমর পানি! মিরপুর হচ্ছে বাংলা সিনেমার শাবানার মতো! এত কষ্টের মধ্যেও সবাইকে কী সুন্দর আগলে রেখেছে!

রোহিত হাসান কিসলু

 

যদি করতেন

‘খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে, বনের পাখি ছিল বনে—একদা কী করিয়া মিলন হলো দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে।’ কবিগুরু যদি তথার বার্থডেতে এই কবিতাটা ফেসবুকে আপ করতেন, তাহলে কী কমেন্ট আসত, চলুন দেখি—

—মিয়া, আপনার মনে কী ছিল সেটা আগে বলেন, সোনার তরি, সোনার খাঁচা আপনে দেখি পুরাই সোনা মিয়া কবি হয়ে গেছেন।

—আপনার কবিতা তো হেব্বি জোস, শেয়ার দিলাম।

—বনের পাখি কি গাঞ্জা খাইছে যে খাঁচার পাখির কাছে আসব, যত্ত সব লুলামি।

—কী পাখি ছিল, সেটাই তো বললেন না? আজকাল তো তেলাপোকাও একটা পাখি।

—খাঁচার ভেতর অচিন পাখি কেমতে আসে-যায়।

—প্লিজ! আহত সেলিব্রিটি পেইজটিতে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন।

—লেখাটা ভিডিওসহ দিলে ভালো হতো, আপনার গল্প, থুক্কু কবিতাটা নাইস হইছে।

—ভাই, ডায়মন্ডের খাঁচা হলে আরো জমত।

—অসাধারণ একটি ভালোবাসার পেইজ... খড়াব ণড়ঁ ঘুরে আসুন এবং লাইক দিয়ে পাশে থাকুন, হাসি না এলে লাইক ফেরত।

—মিয়া ভণ্ডামি ছাড়েন, পাখির কথা বলে আপনি যে পাখি ড্রেসের প্রচারণা করতাছেন—এটা জাতি ভালো করেই জানে।

—ঠিকই বলছেন, সুন্দরবন তো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, বনের পাখি তো এখন খাঁচায়ই আসবে।

—আপনার আইডিতে কোনো ছবি নেই কেন?

—হেতার চুল সাদা হইয়া গেছে, তাই ছবি দেয় না, সুন্দরী মেয়েদের লাইক কমে যাবে বলে।

—এটা কোনো কবিতা হলো, পাখির কাছে পাখি আসবে না তো আপনার মতো টাকলুর কাছে আসবে, যত্ত সব।

—আমার গার্লফ্রেন্ডের ট্যাগ দিলাম।

—প্লিজ! ২টা মিনিট খরচ করে আমার পেইজের পোস্ট পড়ে যান।

—এটা একটা ফেইক আইডি, আসল কবি তো আমার দোস্ত-বন্ধু, যাঁরা বন্ধু হতে চান, ইনবক্স করেন, লিংক দিই।

—দিন দিন কবিতা রেখে মনোবিজ্ঞানী হওয়ার চেষ্টা করছেন নাকি? বিধাতার মনে কী ছিল, সেটা জেনে আপনার কী কাম।

—আপনার সব কবিতা আমি ডায়েরিতে লিখে রাখি, ইউ আর সো কিউট কবি।

—শালার দেশটা একেবারে ভুয়া কবিতে ভইরা গেছে।

—পাখি দুটির ডিএনএ টেস্ট করান, সব বেরিয়ে আসবে।

—এই কবিতাটা নকল নকল মনে হচ্ছে।

—প্লিজ! কারো কাছে এই কবির ফোন নম্বর থাকলে একটু দিন, আমার বাবুটার বার্থডে উপলক্ষে একটা কবিতা লেখাব।

—সুন্দরবন নিয়ে একটা কবিতা লেখেন মিয়া, বন না থাকলে পাখি আসব কোথা থেকে।

সোহানূর রহমান অনন্ত

হাতিরঝিলের বাসে করে বাসায় ফিরছি। পাশে বসা এক লোক একজনকে ফোন দিয়ে ঝাড়ি দেওয়ার মুডে বলছে, ‘আই ফোন দিলা না কেন? আই ফোন দিলা না কেন?’

কথা শুনে তো চিন্তায় পড়ে গেলাম! কেউ কারো কাছে আই ফোন চাওয়ার সুর তো সফট হয়। অনুরোধের হয়, মাঝেমধ্যে লুতুপুতুও হয়। এ রকম ঝাড়ি হবে কেন!

কিছুক্ষণ পর বুঝলাম। আই ফোন দিলা না কেন টা র-ঢ়যড়হব দিলা না কেন না, ‘এই, ফোন দিলা না কেন’ হবে।

অনামিকা মন্ডল

বই

আমাদের বাসায় কেয়ারটেকার মামার পর এবার আমার বই নিয়ে কথা বলল আমাদের বাসার কাজের সহকারী সাদিয়া।

বয়স দশ-বারো হওয়াতে দুনিয়া এখনো বুঝে উঠতে পারেনি। তার ধারণা, পৃথিবীর যাবতীয় বই হাতে লেখা হয়। সে বাসায় বলে, মামার হাতের লেখা কী সুন্দর! কেমুন ছোট ছোট কইরা লিখছে!

মেলা সম্পর্কে তার ধারণা আরো বিস্ময়কর। সে মনে করে, মেলায় আমি বই বিক্রি করি। বাসায় রাখা বই দেখিয়ে সে বলে, মামা কিন্তু এইগুলি নিয়া বেইচা দিলেও পারে।

ইশতিয়াক আহমেদ

 

আপনার লেখা মজার স্ট্যাটাস অফলাইন পাতায় ছাপাতে চাইলে নাম-ঠিকানাসহ স্ট্যাটাসটি মেইল করুন ghorardim@kalerkantho.com-এই ঠিকানায়

 



মন্তব্য