kalerkantho


বন্ধুর জন্য চাপাবাজি

কাওসার আহমেদ

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বন্ধুর জন্য চাপাবাজি

আমার রুমমেট প্লাস বন্ধু প্রেম করে। ঐতিহাসিক প্রেম! দিনে ১০ মিনিট ভালো থাকলে ২৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট লেগে থাকে সাইক্লোন লেভেলের ঝগড়া! মানবতার খাতিরে আমাকেই দুজনের ঝগড়া মিটমাট করে দিতে হয়। আমার ভেতরে আবার মানবতা বেশি কি না!

উদাহরণ দিই। একদিন মোবাইলে যথারীতি রোমান্স থেকে হুট করেই দুজনের মধ্যে শিলাবৃষ্টির মতো পটাশ পটাশ ঝগড়া শুরু হলো। দুজনই খানিকক্ষণ চিল্লাপাল্লা শেষে ঠাস ঠাস করে ফোন রেখে দিল! বন্ধু আমাকে দুঃখভারাক্রান্ত মনে বলল—‘দোস্ত, আমি তো শ্যাষ! আজকের ঝামেলা একটু বেশি পেঁচিয়ে গেছে। আমারে বাঁচা!’

আমি গম্ভীর একটা ভাব নিয়ে বললাম, ‘প্রেম করিস তোরা, ঘুরে বেড়াস তোরা, আর প্যাঁচে পড়লেই আমি? যাহ্, পারুম না!’

বন্ধু বলল—‘দোস্ত, একটু দেখ না, প্লিজ! বিকেলে তোরে মোগলাই খাওয়ামু। সঙ্গে মাল্টা চা।’

বন্ধুর কথা শুনে আমার মন একটু নরম হলো। মানবতা বেড়ে গেল তরতর করে। বললাম, ‘কী মুশকিলে ফালাইলি! আচ্ছা, দেখি কী করা যায়; কিন্তু খবরদার, আর কখনো ঝগড়া করবি না! এবারই কিন্তু শেষ। নেক্সট টাইম এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবি না।’

রুমমেট ঘাড় বাঁকিয়ে সম্মতি দিল। আমি বললাম, ‘আচ্ছা, এক কাজ কর। ফোনটা অফ করে বাইরে থেকে ঘুরে আয়। দেখি কী করা যায়।’

বন্ধু আমার কথা শুনে বাধ্য বালকের মতো মোবাইলের সুইচড অফ করে বাইরে চলে গেল। আমি তখন আমার নিজের ফোন থেকে ওর গার্লফ্রেন্ডের নম্বরে একটা মেসেজ পাঠালাম, ‘কী ব্যাপার! এসব কী শুরু করেছেন আপনারা? এইভাবে ঝগড়া করে আমার বন্ধুটাকে না খাইয়ে রাখবেন? বেচারা খালি পেটে শুয়ে শুয়ে কাঁদতেছে!’ (ডাহা মিথ্যা কথা! অনেক আগেই দুজন খেয়েটেয়ে ঢেকুর তুলছি...)

মেসেজটা পাওয়া মাত্র বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড ওর নম্বরে ফোন দেয়, কিন্তু ওর ফোন তো বন্ধ করিয়ে রেখেছি। মেয়েটি এবার আমাকে কল করে...

—হ্যালো, ভাইয়া?

—জি, বলেন।

—ওর ফোন বন্ধ কেন? ও কোথায়?

—কোথায় আবার! ওই যে না খেয়ে ফোন বন্ধ করে পড়ে পড়ে কাঁদছে। আসলে ছেলেটা আপনাকে অনেক লাভ করে তো, তাই একটু ঝগড়া হলেই সহ্য করতে পারে না। না খেয়ে নিজেকে কষ্ট দেয়। রাতে নাকি অনেকগুলো স্লিপিং ট্যাবলেট খাবে। কী যে বিপদে পড়লাম ছেলেটাকে নিয়ে!

আমার কথা শুনে মেয়েটা যেন লাফিয়ে উঠল!

—হোয়াট! কী বলছেন? প্লিজ, ওকে একটু বোঝান। এখনই উঠে খেতে বলুন। এসব পাগলামি করতে না করুন! প্লিজ ভাইয়া, প্লিজ!

—অসম্ভব! কে আমি? ও তো আমার কোনো কথা শুনতেই চায় না। বেশি বোঝাতে গেলে ঝাড়ি মারে!

—প্লিজ! আমার জন্য এতটুকু করতে পারবেন না আপনি? আপনি একটু চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবেন। প্লিজ ভাইয়া, না করবেন না! আপনি কি চান আমিও ওর মতো কষ্ট পাই?

এবার আমার মনটা নরম হয়ে গেল। মানবতা বাড়তে শুরু করল। নরম গলায় বললাম...

—ইয়ে মানে, আচ্ছা দেখছি কী করা যায়। ও হ্যাঁ, একটা কথা মনে পড়ে গেল, বলব?

—জি জি, অবশ্যই বলুন!

—না, মানে...সেদিন আপনার পাঠানো বিরিয়ানিটা অনেক মজার ছিল। নারিকেলের নাড়ুগুলোও অনেক টেস্টি! সেই স্বাদটা এখনো যেন মুখে লেগে আছে! যে প্রশংসা প্রাপ্য তার প্রশংসা করতে হয়। সত্যি, আপনার হাতে জাদু আছে!

মেয়েটি কিছুটা লজ্জা পেয়ে বলল, আরে কী যে বলেন! আমি তো ভালো রাঁধতেই পারি না। আচ্ছা, ঠিক আছে। পরের সপ্তাহে আপনার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আসার সময় আরো মজা করে বিরিয়ানি রেঁধে আর নাড়ু বানিয়ে নিয়ে আসব। আপনি আগে কাইন্ডলি আমাদের ব্যাপারটা একটু দেখুন!

আমি গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বললাম, আরে এটা কোনো ব্যাপার হলো! আমি ওকে এখনই বিছানা থেকে উঠিয়ে খাওয়াচ্ছি! খাবে না কেন? ও পেয়েছেটা কী? না হয় আপনার জন্য ওর একটু ঝাড়ি শুনলাম, তাতে কী! ওকে আজ খাওয়ায়ে ছাড়ব! আর ওসব উল্টাপাল্টা ভূত ওর মাথা থেকে নামাবই নামাব! ২০ মিনিট পরই ও খেয়ে উঠে আপনাকে ফোন দেবে। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনি শুধু কলটা রিসিভ করে একটু সুন্দর করে কথা বলবেন। ব্যস!


মন্তব্য