kalerkantho

ফেইসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফেইসবুক অফলাইন

ভালোবাসি

১২ মাসের মধ্যে একমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি! কারণ এই মাসে মাত্র ২৮ দিন কাজ করে ৩০ দিনের বেতন পাওয়া যায়!

রোহিত হাসান কিসলু

 

মশা

এবার মশাকে পাখির মর্যাদা দিতেই হবে। মশার কারণে বিমান আটকে ছিল দুই ঘণ্টা। এত দিন এই ক্ষমতাটা শুধু পাখিদেরই ছিল।

মিজান লিটন

অনেক দিন পর বাড়িতে এসেছি। পাশের ফ্ল্যাটের এক আন্টি এসে আগেই হাজির। বললেন, বাবা কোন সাবজেক্টে পড়াশোনা করছ?

আমি বললাম, আন্টি বস্ত্র্ত্র প্রকৌশলে।

আন্টি বলেন, ও মা! তোমার আম্মু বললেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। ভাবি! ছেলের দিকে একটু নজর দেন। খোঁজখবর রাখেন, বুঝেছেন?

আল মামুন সানি

 

রেস্ট ইন পিস

এক মেয়ে প্রশ্ন করেছে, ‘দাদা, কী করছেন?’

আমি বললাম, ‘রেস্ট নিচ্ছি।’

এরপর মেয়েটি বলল, ‘ওকে, দাদা। রেস্ট ইন পিস।’

দেব জ্যোতি ভক্ত

 

স্যার-ছাত্র

কম্পিউটার স্যার : বাসায় প্রতিদিন ল্যাপটপে বসে ইডিটিং শিখতে বলেছিলাম, বসো তো?

ছাত্র : এক দিন বসে আর বসিনি, স্যার।

স্যার : কেন?

ছাত্র : এক দিন বসেই পরদিন এইটা রিপেয়ার করতে দিয়ে আসছি। বুঝেনই তো, আমার ওজন ৭৫ কেজি।

তানভীর আহাম্মেদ

বেঁচে থাকলে

আজ রবিঠাকুর বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই লিখতেন—

ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার এফবির ওয়ালে।

সায়মন সাকিব হাসান

 

দেউলিয়া

বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, তবে না পড়লে হয়!

অনিন্দ্য মামুন

 

বই বের হয়েছে

আমার একটি বই বের হয়েছে! বইমেলায় নয়, আলমারি থেকে। পুরনো বই। অনেক দিন খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

মোজাম্মেল প্রধান

 

পলিটিকস

পলিটিকস মানেই নিজের পোস্টারে নিজের চেয়ে নেতাদের ছবি বেশি।

ফয়সাল দ্বীপ

 

বজ্রপাত

সারা বিশ্বের এক দিনের বজ্রপাত, জি-বাংলার সিরিয়ালে এক ঘণ্টায় শোনানো বজ্রপাত।

উল্লাস হোসাইন

 

নিউটনের সূত্রের ফেসবুকীয় ভার্সন

প্রথম সূত্র : বেশি বেশি ট্যাগ না করলে ছেলেদের ছবি চিরকালই  unliked থাকবে; কিন্তু মেয়েদের ছবিতে লাইকের পরিমাণ সুষম হারে বৃদ্ধি পাবে।

দ্বিতীয় সূত্র : কোনো ছাত্রের পরীক্ষার নম্বরের পরিমাণ তার ফেসবুকে ব্যয়িত সময়ের ব্যস্তানুপাতিক। ব্যয়িত সময় যত বেশি হবে, প্রাপ্ত নম্বর তত কম হবে। ব্যয়িত সময় ন্যূনতম হলে প্রাপ্ত নম্বর সর্বাধিক হবে।

তৃতীয় সূত্র : প্রত্যেক poke-এরই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়াবিশিষ্ট back poke আছে।

 

বুঝে নিলাম

মেয়েটি প্রথমে আমাকে আনফ্রেন্ড করল, তারপর ফলো করল। আমিও বুঝে নিলাম—মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়েছে।

দেব জ্যোতি ভক্ত

 

ভালোবাসা

বালিকা, আমি তোমাকে একনায়কতন্ত্রে ভালোবাসতে চেয়েছিলাম, আর তুমি কিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।

নিরব

 

বিশ্বাস

বিশ্বাস তো সেদিনই হারিয়ে গেছে, যেদিন দেখলাম কয়েলের ওপর মশা বসে আছে।

অরূপ রতন চৌধুরী

 

পরীক্ষার হলে

পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রশ্ন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহা আনন্দে লাফ দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। যে প্রশ্ন আসছে, তা বানিয়ে লিখতে পারব—এই ভেবে খুশিই লাগছিল। এমন প্রশ্ন অর্থনীতিতে আছে! ভেবেই পাই না।

পাশে বসে থাকা এক ছেলে আমার মহা আনন্দ দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে।

আমি দাঁত কেলিয়ে বললাম, কী ভাই, প্রশ্ন কমন পড়ে নাই?

সে মাথা নাড়িয়ে বলে—কিসের কমন, আপু! এই প্রশ্ন আমি আমার আব্বার জন্মেও দেখি নাই।

আমি হেসে বলি—আর কী করবেন, লিখতে থাকুন।

ছেলে : আপনার কমন পড়ছে, তাই না?

আমি : হুম, সারা রাত ধরে যা-ই পড়েছি, তা-ই এসেছে।

লিখতে যাব, এমন সময় স্যার বলেন, এক্সকিউজ মি, প্লিজ! স্টপ রাইটিং। একটা বিশাল ভুল হয়ে গেছে। আমরা ভুলে অর্থনীতির প্রশ্ন ইতিহাস বিভাগে দিয়ে দিছি, আর ইতিহাসেরটা অর্থনীতিকে। দয়া করে পাশের বন্ধুর সঙ্গে প্রশ্ন বিনিময় করে নিন।

পাশের ছেলেটি সঙ্গে সঙ্গে আমার হাত থেকে রীতিমতো প্রশ্ন ছিনিয়ে নিল। তারপর সে দাঁত কেলিয়ে বলল, আপু, সারা রাত ইতিহাস পড়ছেন?

আমি মুখ মলিন করে লজ্জা থেকে বাঁচার জন্য বললাম—ভাইয়া, প্রশ্ন আসলে এমন দেখে খুশি হইছিলাম। ভাবলাম, আমিও লিখতে পারব না আর বাকিরাও পারবে না। একসঙ্গে জাহান্নামে যেতেও মজা লাগে আর কি।

নিজের প্রশ্ন দেখে সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আমি আসলে এ প্রশ্ন আমার দাদার জন্মেও দেখি নাই। স্যারকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম—স্যার, এটা কি সত্যিই আমাদের প্রশ্ন?

স্যারও হাসছেন আর পাশে বসে থাকা ছেলেটিও হাসছে। এর জন্যই বলে—কারো পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ।

উম্মে নিপা

রুটি

তুমি কী দেখেছ বন্ধু,

রুটি কী করে হয়?

হাতের চাপে, আগুনের তাপে,

ফুলে ফুলে রুটি হয়।

ফুলে ফুলে রুটি হয়।

 

প্রতিদিন কত মানুষ আসে,

হোটেলে কিংবা ঘরে,

হালুয়া, তরকারি দিয়ে

রুটি খায় পেট ভরে,

রুটি খায় পেট ভরে।

 

কেউ তো জানে না কত কষ্টে,

আটা ছানতে হয়,

রুটি বানানোর মেশিন কিনে

করো সে কষ্ট লয়,

করো সে কষ্ট লয়।

আক্তার-উজ-জামান

মজুদ

পত্রিকায় পড়ার পর থেকে আমার এক দূরসম্পর্কের ফুফা এখনো বিশ্বাস করেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহটা এখনো আসবে।

সেদিন ওনার বাসায় গিয়ে দেখি, উনি ভেজা গামছা গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় বসে আছেন। আমি ফুফুকে ফিসফিস করে বললাম, ‘দেবদাসের কাহিনি কী?’

‘তোর ফুফা শৈত্যপ্রবাহ আসবে শুনে সঙ্গে সঙ্গে নীলক্ষেতের সামনে থেকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এক হাজার ১০০ লেপ কিনে মজুদ করে ফেলেছে।’

‘ওহ, নো...তারপর?’

‘তারপর আর কী? কেনার পরের দিন থেকেই গরম। সে লেপের শোকে সারা দিন বারান্দায় বসে থাকে। কেউ কথা বলতে গেলে ধমক দেয়।’

‘ওহ, শিট...আমি যাই গা।’

‘না, না! তার সঙ্গে একটু আলাপ করে যা। একটু সান্ত্বনা দিয়ে যা।’

আমি ফুফার সঙ্গে বারান্দায় বসে আছি। ফুফা আমার দিকে তাকিয়ে গামছা দিয়ে বুক ঢাকলেন। ব্যবসায় লস খেলেও ইজ্জতের খেয়াল ঠিকই আছে। আমি বললাম, ‘ফুফা, সামনের বছর অনেক শীত পড়বে, ইনশাআল্লাহ।’

উনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘এক হাজার ১০০ লেপ মজুদ রাখতে ঘরভাড়া দিতে হচ্ছে প্রতি মাসে ২৪ হাজার টাকা। ১২ মাসে কত হবে টাকার পরিমাণ?’

‘ফুফা চব্বিশের নামতা শিখে নাই।’

...উনি আমার দিকে সরু চোখে তাকিয়ে আছেন। আমি বলা শুরু করলাম, ‘লেপের সুতা কেটে তুলা বের করে সেই তুলা কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া যায় না?’

‘তুলার কেজি কত বর্তমানে?’

(আমি আন্দাজে বলে দিলাম ৯০ টাকা। কারণ আমি ৯-এর নামতা পারি। এখন কী জিগাবি জিগা)।

উনি কিছুটা আশার আলো পেলেন আমার কথায়। চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললেন, ‘আর কোনো আইডিয়া আছে?’

‘তোশক বা জাজিম হিসেবে লেপগুলো বিক্রি করে দিতে পারেন। এমনভাবে ব্র্যান্ডিং করতে হবে যে এটা টু-ইন-ওয়ান জিনিস। গরমকালে জাজিম, শীতকালে লেপ।’

ওনার চোখ চকচক করে উঠল।

‘শরিফ না, কী জানি নাম তোমার?’

‘আরিফ।’

‘ইয়েস, আরিফ। গুড বয়! আরো বলো তো কী করা যায়।’

‘মামলা করে দেন পত্রিকার নামে।’

‘কোন পত্রিকা?’

‘যে পত্রিকাগুলো লিখেছিল যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আসছে।’

‘এই মর্মে মামলা হবে?’

‘অবশ্যই হবে। কোর্টে গিয়ে হাঁটেন কিছুক্ষণ। উকিল পেয়ে যাবেন। আমাকে তো একবার এক উকিল কনভিন্স করে ফেলেছিল, কেন সকালের নাশতায় প্রতিদিন পরোটা না বানানো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে বউয়ের নামে রুল জারি করে দেওয়ার জন্য।’

‘সিরিয়াস?’

‘হুঁ, ফুফা। বাংলাদেশে সব সম্ভব! ল্যান্ড অব পসিবিলিটি।’

...ফুফা উঠে আলমারির দিকে গেলেন, গামছা ছেড়ে সাফারি পরছেন। খবর আছে আজকে। ভেজা বাঘ ডাঙায় উঠেছে। খবর তো আছেই।

আরিফ আর হোসাইন


মন্তব্য