kalerkantho

ফেইসবুক অফলাইন

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফেইসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

 

প্রশ্নফাঁস

প্রশ্নফাঁস সমাজের যে ক্ষতি করছে, তাতে না জানি কবে ব্রেকিং নিউজ আসে, ‘অমুক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করল আইএস।’

মো. আরজু

 

কারণ

আমার পেট মোটা এক বন্ধু কদিন ধরে জিম করতেছে। কারণ হিসেবে জানা গেল, সে ভুলে ৩২ সাইজের একটা জিন্স কিনে ফেলেছে, কিন্তু তার সাইজ ৩৬।

শেখ শাখাওয়াত সৌরভ

 

দুটি কারণ

শুধু দুটি কারণে এবারের বইমেলায় আমার উপন্যাসটি প্রকাশিত হচ্ছে না।

১) ছাপার কাজ শেষ হয়নি ২) লেখার কাজ শুরু হয়নি

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

 

সংজ্ঞা

অ্যাকাউন্ট অফিসার হইতেছে সেই ব্যক্তি, যে দুইয়ে দুইয়ে চার জানার পরও মালিকের কাছে জানতে চায়, দুইয়ে দুইয়ে তার কত দরকার!

জিনাত জোয়ার্দার রিপা

 

পার্থক্য

উন্নত বিশ্বের যুবকরা ২০ বছর বয়স হয়ে গেলে কোনো ইউনিক আইডিয়া বের করে ভাবে—কিভাবে আরো দশজনের কর্মসংস্থান করে ত্রিশের আগে কোটিপতি হতে হবে। তখন আমাদের দেশের ছেলেরা ভাবে, ৩০ বছর বয়স হলে একটা সরকারি চাকরি করে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে, আরো ১০ জনের চাকরি খেয়ে কেমনে কোটিপতি হবে! এ কেমন শিক্ষিত সম্প্রদায়!

আবদুর রব শরীফ

 

লোকাল বাসে যারা চড়ে, তাদের ক্ষমতাহীন ভাবা ঠিক না। একটু আগেই তার প্রমাণ পেয়েছি। আমার পাশের সিটে একজন মুঠোফোনে গলা তুলে বলছে, ‘শরীফের এত বড় কইলজা, আমার গাছ কাটে! আমি সামনের সপ্তায় বাড়ি আসতাছি। ওরে জিন্দা কবর দিমু!’

আমি পায়ের ওপর পা তুলে বসে ছিলাম। ভদ্রলোকের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে পা নামিয়ে ফেলি।

ইমন চৌধুরী

 

তরকারি

আজ আম্মু তরকারিতে এত হলুদ দিয়েছে, ভাত খেয়ে হাত ধোয়ার পরও মনে হচ্ছে আজ আমার ‘গায়েহলুদ’।

শিহাব রিপন

রিকশায়

প্রথম বন্ধু : কত ধরনের ভাষা পারো তুমি?

দ্বিতীয় বন্ধু : তিন ধরনের—বাংলা, ইংলিশ, অঙ্ক।

প্রথম বন্ধু : অঙ্কও ভাষা হয় নাকি?

দ্বিতীয় বন্ধু : হয়তো। আমি তো অঙ্ক ভাষাই বেশি লিখি।

প্রথম বন্ধু : মানে। উদাহরণ দাও তো।

দ্বিতীয় বন্ধু : Gd n8, Gd m9, Im fi9 etc.

তানভীর আহাম্মেদ

 

নতুন প্রেম

বান্ধবী : দোস্ত! প্রেমে পড়সি! পোলাডা জোস!

আমি : আইডি দে! ছবি দেখি।

বান্ধবী : দিমু না! তুই দেখলেই ক্রাশ খাবি!

আমি : না রে, দোস্ত! ডায়েটে আছি। আজেবাজে জিনিস খাই না এখন আর!

বান্ধবী পুরান দিনের নায়িকাদের মতো খট করে ফোন রেখে দিল।

নুসরাত জাহান চম্পা

 

গত সপ্তাহে এক মেয়ে আমার কাছে জানতে চাইল, ‘১০ টাকায় কোথায় বিরিয়ানি পাওয়া যায়?’

আমি তাকে বললাম, ‘খাবা নাকি?’

সে রাজি হলো। আমি গোসল করে গায়ে লোশন ও মুখে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মেখে তার বাসায় গিয়ে তাকে নিয়ে চানখাঁরপুল গেলাম। ১২০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ালাম; কিন্তু সে জানল, এই বিরিয়ানির দাম ১০ টাকা।

মুগ্ধ হয়ে বলল, ‘১০ টাকায় এত ভালো বিরিয়ানি? ওয়াও!’

আজ বিকেলবেলা সে ১৩ জন বান্ধবীসহ ১০ টাকার বিরিয়ানি খেতে গিয়েছিল। খাওয়া শেষে ফোন করে ১৪ জন মিলে গালাগাল করে আমার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করল।

দেব জ্যোতি ভক্ত

 

পাঠক

পাঠক বলল, গোসসা করেন ক্যা, বই-ই তো সৌজন্য কপি চাইছি, বউ তো না...।

খায়রুল বাবুই

এবারও

প্রতিবছরের মতো এ বছরও ১৪ ফেব্রুয়ারি আমি সিঙ্গল থাকব। কারণ, এ বছরও আমাকে কোনো মেয়ে পটাতে পারেনি।

মুকুল আহমেদ

 

টিপ

—গরুর মাংস কিনতেছি, তোমার আর কিছু লাগবে?

—এক পাতা টিপ।

—গরুর মাংসে কেউ টিপ দেয় নাকি?

—তোমার লগে প্রেম করাই ঠিক হয় নাই।

তানভীর মাহমুদুল হাসান

স্মৃতিশক্তি

এক মেয়ে মেসেজ পাঠিয়েছে, ‘দাদা, কেমন আছেন? আমাকে চিনতে পেরেছেন? নাকি ভুলে গেছেন?’

আমি দ্রুত মেয়েটার প্রফাইলে ঢুকে ছবি দেখে চেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তাকে লিখলাম, ‘ঠিক চিনতে পারছি না, কোথায় যেন দ্যাখা হয়েছে?’

মেয়েটি লিখল, ‘কোথাও দ্যাখা হয় নাই, দাদা।’

আমি কিছুটা বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলাম, ‘তাহলে?’

মেয়েটি খুব আক্ষেপ নিয়ে লিখল, ‘এত সহজে ভুলে গেলেন, দাদা?’

আমি অপরাধীর ভঙ্গিতে লিখলাম, ‘দুঃখিত! আমার কিছুই মনে পড়ছে না।’

এরপর মেয়েটি লিখল, ‘আমি সুমাইয়া আপুর ফেসবুক ফ্রেন্ড। আপনি গত বছর তাঁর ছবিতে কমেন্ট করেছিলেন, সুন্দর লাগছে, আমি আপনার কমেন্টে লাইক দিয়েছিলাম। মনে পড়েছে, দাদা?’

মেয়েটির স্মৃতিশক্তির প্রখরতা আর আমার স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কথা ভেবে কান্না পাচ্ছে খুব।

দেব জ্যোতি ভক্ত

ধারাভাষ্য

বাসে বসে রেডিওতে খেলা শুনছিলাম। ধারাভাষ্যকার বলছেন, আমরা এখন বড় দল। আমরা এখন জেতার চিন্তা করি না, জিতব তো অবশ্যই। আমরা এখন চিন্তা করি, আমাদের মধ্যে কে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হবে? সাকিব নাকি তামিম?

কী মনে হয়, আমরা আজকে কত বড় ব্যবধানে জিতব?

তিনজন ধারাভাষ্যকারের মধ্যে একজন বললেন, ১৫০ রানের ব্যবধানে। আরেকজন বললেন, ২০০ রানের ব্যবধানে। আর প্রশ্নকর্তা ধারাভাষ্যকার তো আরো বড় কোনো ব্যবধান বলতে যাচ্ছিলেন—এমন সময় এনামুল হক বিজয় আউট!

ধারাভাষ্যকার আপসেট হন নাই। এবার তাঁর বক্তব্য, এনামুলকে তো আমরা হিসাবেই ধরি নাই। সে দুধ-ভাত। এবার সাকিব আসবে। আপনারা বলেন, সাকিব আর তামিম আজকে কত রানের পার্টনারশিপ গড়বে?

একজন বলল, ১০০। আরেকজন বলল, এই দুজনের মধ্যে একটা কম্পিটিশন হচ্ছে। কে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হবে। সুতরাং আজকে দুজনের কেউই আউট হওয়ার সম্ভাবনা নাই। প্রশ্নকর্তা ধারাভাষ্যকার বললেন, পাড়ার ক্রিকেট হলে একজন আরেকজনকে রান করে দিতেন, কিন্তু এনারা প্রফেশনাল, এনারা এই কাজ করবেন না।

বলতে না বলতেই সাকিব রান আউট। নামলেন মাহমুদুল্লাহ।

ধারাভাষ্যকারের বক্তব্য—মাহমুদুল্লাহ এমন একজন ব্যাটসম্যান, যিনি সব সময় ক্রাইসিস মোমেন্টে রান করেন। চিন্তার কিছু নাই, আপনারা নিশ্চিত থাকেন, আজ মাহমুদুল্লাহ একটা বড় ইনিংস খেলবেন। তা ছাড়া উনি যেহেতু এই সিরিজে এক দিনও ভালো ব্যাটিং করেন নাই, সেহেতু ওনাকে আজকে রান করতেই হবে।

মাহমুদুল্লাহ আউট। ধারাভাষ্যকারের বক্তব্য, কোনো ব্যাপার না। আমরা বড় দল। আমরা ঘুরে দাঁড়াব।

এরপর সাব্বির আউট। তারপর আবুল আউট। তারপর ধারাভাষ্যকারের বক্তব্য, বড় দল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো যথেষ্ট খেলোয়াড় আমাদের এখনো আছে। নাসির সেই ব্যাটসম্যান।

নাসির আউট। মাশরাফি আউট।

এখনো ধারাভাষ্যকাররা আশা করতেছেন, মোস্তাফিজ একটা বড় ইনিংস খেলবেন। বাংলাদেশ বড় স্কোর পাবে।

লিখতে না লিখতেই রুবেল আউট!

ক্রিকেটে এমন দিন আসতেই পারে। কিন্তু পা সব সময় মাটিতে রাখাই ভালো। এত এত প্রত্যাশা করাটা সব সময় যুক্তিযুক্ত মনে হয় না।

ভাগ্যিস, আমরা বিশ্বের এক নম্বর দল না।

আপেল মাহমুদ



মন্তব্য