kalerkantho


একটি কাল্পনিক ঘোষণা

বাংলাদেশ বিমানের বেশির ভাগ উড়োজাহাজ এরই মধ্যে পুরনো হয়ে গেছে। এগুলো দিয়েই যদি সার্ভিস অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো বিমানের পাইলট বিমান ছাড়ার আগে এমন ঘোষণাই দেবেন। লিখেছেন আদিত্য রহিম

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



একটি কাল্পনিক ঘোষণা

সুপ্রভাত! আমি বিমানের পাইলট বলছি। বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এই বিমানে আপনাদের স্বাগত জানাই। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি টেক-অফ করতে চার ঘণ্টা দেরি হওয়ার জন্য। আগের ফ্লাইটে কিছু যন্ত্রপাতি খুলে পড়েছিল। সেগুলো লাগাতে বাড়তি সময়টা লেগে গেল।

এই ফ্লাইটটি ওয়াশিংটন যাবে। যদিও সেখানে এই পুরনো বিমান নামতে দেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তার পরও আমরা চেষ্টা করব সেখানে নামতে। এই এয়ারলাইনসের সেফটি রেকর্ড খুবই ভালো। আমাদের সেফটি স্ট্যান্ডার্ড এমন ভালো যে উগ্রপন্থীরাও আমাদের ফ্লাইটে চড়তে ভয় পায়! আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, এ বছর থেকে আমাদের ৫০ শতাংশ প্যাসেঞ্জার তাঁদের মালামাল এয়ারপোর্টে গিয়ে খুঁজে পাচ্ছেন।

আপনার যদি মনে হয় ইঞ্জিন প্রচণ্ড শব্দ করছে, তাহলে আমাদের অনুরোধ করলে আমরা ইঞ্জিন বন্ধ রাখব।

দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে আজকে আমরা কোনো সিনেমা দেখাতে পারছি না। কারণ প্রতিটি সিটের পেছনে লাগানো মনিটরগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।

সবাইকে অনুরোধ করছি, আপনারা সিটবেল্ট বেঁধে নিন। আমরা উড়াল শুরু করতে যাচ্ছি। যদি আপনাদের মধ্যে কেউ সিটবেল্ট খুঁজে না পান, দয়া করে নিজের বেল্ট দিয়েই নিজেকে সিটের সঙ্গে বেঁধে ফেলুন। আর যাঁরা সিট পাননি, তাঁরা আমাদের এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তিনি আপনাদের শিখিয়ে দেবেন, কিভাবে স্যুটকেসের সঙ্গে নিজেকে বাঁধতে হয়!

এই ভ্রমণে আমরা কোনো খাবার সরবরাহ করব না। যাত্রাবিরতির সময় দুবাই থেকে রুটি-কলা নিয়ে হকার উঠবে। তখন যাঁর যা ইচ্ছা কিনে নেবেন। সবার যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ।


মন্তব্য