kalerkantho

ফেসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

২০ জুন, ২০১৭ ০০:০০



ফেসবুক অফলাইন

ভাব

বালিকা, ভাব একটু কম নিয়ো, বুঝছ? ভাব কিন্তু আমারও কম ছিল না। জন্মের পর এক বছর পর্যন্ত কারো সঙ্গে কথাই বলি নাই।

ইশরাফিল শাহীন

 

চিকুনগুনিয়া

চিকুনগুনিয়া হয়েছে শুনে এক ছোটভাইকে দেখতে গেলাম। মাথায় হাত রেখে দেখি বেশ জ্বর। জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে হলো?

—মনে হয় ফেসবুকের মাধ্যমে হইছে ভাই।

—ফেসবুকের মাধ্যমে! কী বলিস?

—হ, ভাই। দুই দিন আগে এক বন্ধু পোস্ট দিছিল—চিকুনগুনিয়া হইছে। আমি সেই পোস্টে লাইক দিছিলাম। সেই রাইত থিকা আমারও জ্বর।

পলাশ মাহবুব

 

বিয়েবাড়িতে আশীর্বাদের নতুন ট্রেন্ড—দোয়া করি, তোমরা সাকিব-মাহমুদুল্লাহর মতো জুটি বেঁধে সংসার করো।

রাফিউজ্জামান সিফাত

 

মুদ্রাস্ফীতি

পাঁচ বছর আগে রিকশায় বইলেই পাঁচ টাকা দিতে হইত।

এখন ২০ টাকা। সে যত কম দূরত্বই হোক না কেন। দেশের অর্থনীতি আর মুদ্রাস্ফীতি ক্ষুদ্রাকারে (ম্যাক্রো লেভেলে) বোঝায় রিকশাওয়ালারা।

জিনাত জোয়ার্দার রিপা

 

বিজয়ের আনন্দ

বাংলাদেশের বিজয়ের আনন্দে আবুল কাসেম বাড়িতে এসে ছাতাটা বিছানায় রেখে তিনি দরজার চিপায় ঝুলে রইলেন! আবুল কাসেমের স্ত্রী এসে এই অবস্থা দেখে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘ও ময়নার বাপ! তোমার কী হইছে? শরীর খারাপ? কথা কও না ক্যান?’

আবুল কাসেম কোনো কথা বলছেন না। তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন স্ত্রীর দিকে। ভাবছেন, বউটা বুঝি পাগল হয়ে গেছে। তা না হলে স্বামীকে বিছানায় রেখে ছাতার দিকে তাকিয়ে কথা বলছে কেন!

শাকীর এহসানুল্লাহ

 

ছাগল

ছাগলের মাংসের যে দাম, কাউকে ছাগল বলে গালি দিতেও ভাবতে হয় কয়েকবার।

তানভীর মাহমুদুল হাসান

 

লাইসেন্স

ঢাকার রাজপথে নৌকা চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স কি BRTA দেয়, নাকি BIWTC?

অনুপম হোসাইন পূর্ণম

 

মানুষ

একটু প্যাঁচওয়ালা মানুষগুলোই ভালো হয়, সোজা তো তারের খাম্বাও হয়!

সুমন আহমেদ

 

আমার দেখার পরিধি খুবই ক্ষুদ্র। রাজপরিবারের অনেককে স্বচক্ষে দেখিনি। আমি সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্যকে দেখিনি। আমি রাজা সপ্তম লুসিয়াসকে দেখিনি। আমি সুলতান ইবরাহিম লোদিকে দেখিনি। আমি রাজা জিগমে খেছার নামগিলকেও দেখিনি। তবে আমি দেখেছি ঢাকা শহরের কতিপয় সিএনজিচালককে। আমার সবাইকে দেখার শখ পূরণ হয়ে গেছে।

আল নাহিয়ান

 

সাপোর্ট

যেভাবে ব্রিটিশগুলাকে এইবার সাপোর্ট দিলাম, মীরজাফরও এভাবে দেয় নাই।

ইশরাফিল শাহীন

 

আমি যেমন

কিছু মানুষের কাছে আমি ইংল্যান্ডের মতো। একদিনের জন্য তারা নিজের প্রয়োজনে ভালোবেসে ভুলে যায় আমাকে।

দেব জ্যোতি ভক্ত

 

সেলসম্যান

শার্টের দোকানে আমার পাশের একজনকে সেলসম্যান বলে যাচ্ছে, ‘আপনি ফর্সা, যা পরবেন সুন্দর লাগবে। ’

তার পরের কাস্টমার আমি। আমি আমার আফ্রিকান চেহারা নিয়ে তার সামনে দাঁড়াতেই সেও একটু লজ্জা পাচ্ছে আর বিব্রতবোধ করছে। আমাকে তো আর এই ডায়ালগ দিতে পারবে না। শার্টের বদলে কি আমাকে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী কিনতে বলবে?

কিন্তু তার পেশাদারিত্ব নিয়ে সে কামব্যাক করে—‘আপনি তো লম্বা, যা পরবেন সুন্দর লাগবে। ’

তানভীর মাহমুদুল হাসান

 

ভিক্ষুক

ট্রাফিক সিগন্যালে এক ভিক্ষুক এক গাড়ির গ্লাসের কাছে এসে ভিক্ষা চাইছে...

ভিক্ষুক : একটা পয়সা দে বাবা, সারা দিন কিছু না খেয়ে আছি।

গ্লাস নামিয়ে গাড়ির মালিক : খুচরা টাকা নেই, আরেক দিন নিয়ো। আজ মাফ করো।

সামনে আগাতে আগাতে ভিক্ষুক : আরেক দিন আরেক দিন করে মার্কেটে যে আমার কত টাকা আটকায়ে আছে। নুসরাত জারিন

 

স্ট্যাটাস

মাঝেমধ্যে নিউজফিডে কিছু মেয়ের ‘দুই’ লাইনের কিছু স্ট্যাটাস দেখে আমি মারাত্মকভাবে কনফিউজড হয়ে যাই! স্ট্যাটাসের আগা-মাথা কিছু না বুঝলেও আমার দুর্বল হার্টের বিট বাড়তে থাকে তরতর করে! ভয়াবহ উত্তেজনায় কাঁপতে থাকি থরথর করে!

তাদের সেই ‘দুই’ লাইনের স্ট্যাটাসগুলো অনেকটা এই রকম :

১. হায় হায়, এ আমি কী করলাম! এখন কী হবে আমার?

২. আমি তো এমনটা চাইনি, তবে কেন এমন হলো আমার সঙ্গে?

৩. সব সময় আমার সঙ্গেই কেন এমন হয়? হোয়াই অলওয়েজ উইথ মি!

৪. অবশেষে এই হলো আমার সঙ্গে? উফফ! ডিজগাস্টিং!

৫. অমুক কাজ করলে তমুক ফল পেতে হয়। আজ আমি তা হারে হারে টের পেলাম।

৬. ইয়াহুউউউউ আজ আমি অন্নেক খুশি! এত্তগুলা লাভিউ! উম্মাহ!

৭. শেষ পর্যন্ত এই দেখার বাকি ছিল? হুহ, মনে রাখিস!

৮. আজ থেকে সব কিছু শেষ হয়ে গেল আমার! সব কিছু! সব!

আমি তখন গভীর আতঙ্ক ও প্রচুর কিউরিসিটি নিয়ে তাদের সেই স্ট্যাটাসগুলোর কমেন্টবক্সে প্রবেশ করি।

সেখানে অনেকেরই কমেন্ট থাকে এ রকম—

কী হয়েছে আপু?

কী রে, তোর আবার কী হলো?

প্লিজ! বলুন, আপনার কী হয়েছে?

আমি আপনার লিস্টের নতুন ফ্রেন্ড, প্লিজ! একজন ভালো বন্ধু ভেবে বলুন কী হয়েছে।

Ke hoysa apo? ganta pare?

স্ট্যাটাসদাতা ঘণ্টা দুয়েক পর এসে জাস্ট একটা কমেন্ট করে, ‘কিছু না। ’

...এসব দেখে রাগে-দুঃখে কিংবা টাস্কিত হৃদয়ে আমারও তখন স্ট্যাটাস দিতে মনে চায়, ‘এ কী হয়ে গেল আমার নিউজফিডে?’

কাওছার আহমেদ

 

মহাপ্রাণ ধ্বনি

একবার লুল স্যারের ক্লাসে ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে ব্যাপক জ্ঞান পেলাম। স্যার শেখালেন, ইংরেজি বেশ কিছু বর্ণের উচ্চারণ শব্দে প্রয়োগভেদে অল্পপ্রাণের বদলে মহাপ্রাণ ধ্বনিতে উচ্চারিত হবে। এই যেমন—‘ক’-এর উচ্চারণ হবে ‘খ’! আরো কত কী হাবিজাবি।

সেদিনের ক্লাস শেষে বিকেলে বাসায় ফেরার পথে বিংবিংয়ের সঙ্গে দেখা। আক্ষরিক অর্থেই দারুণ একটা শাড়ি পরে এসেছিল বিংবিং।

আমাকে জিজ্ঞেস করে : শাড়িটা কেমন, বলো তো?

আমি রীতিমতো Cool শাড়িটা দেখে বললাম : খুল!

তত্ক্ষণাৎ খুলতে শুরু করেছিল ঠিকই, তবে শাড়ি নয়, ডান পায়ের জুতাখানা! আর আমি? ওই সব মুহূর্তে আমার তুলনা শুধু একজনই—উসাইন বোল্ট!

অনিক দেবনাথ

 

বউকে দিয়ে টা টা

তোমাকে আর ভয় পাই না বউ

সাহস গেছে বেড়ে,

যতই তুমি চোখ রাঙ্গাও আর

আসতে থাকো তেড়ে।

 

দুদিন আগে খুব ভুগেছি

তোমার দেওয়া ঘা-এ,

এখন আমি আগের মতো

বল পাচ্ছি পায়ে।

 

থাকলে সবল পা টা

ভয় পাই না ঝাঁটা

পেছন দরজা দিয়ে ভাগব

তোমায় দিয়ে টা টা।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল


মন্তব্য