kalerkantho

ভাইয়ের চাকরি হলো পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নুসরাত এক অনন্য দৃষ্টান্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নুসরাত এক অনন্য দৃষ্টান্ত

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে মারা ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মা, বাবা ও দুই ভাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের সান্ত্বনা জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিতের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘নুসরাতের হত্যাকারীরা রেহাই পাবে না।’

গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার, বাবা এ কে এম মুসা ও দুই ভাই। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রেসসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা ও আন্তরিক সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকারীদের কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করে নুসরাত এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

প্রেসসচিব আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় নুসরাতের মা-বাবা এই দুঃসময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন নিহত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত রাফির পরিবারের সদস্যরা।   ছবি : পিআইডি

সাক্ষাতের সময় নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের হাতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নিয়োগপত্র তুলে দেন শেখ হাসিনা। বেসরকারি এই ব্যাংকে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে যোগ দেবেন নোমান, যিনি স্নাতক পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন নুসরাত। গত ২৬ মার্চ নুসরাতের মা শিরিন আক্তার মামলা করার পরদিন সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। ঢাকা মেডিক্যালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে তার মৃত্যু হয়।

নুসরাতের মৃত্যুর পর ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্তব্য