kalerkantho

প্যারোলে আগ্রহী নন খালেদা!

শফিক সাফি   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্যারোলে আগ্রহী নন খালেদা!

প্যারোল নিয়ে নিজেকে মুক্ত করার কোনো ইচ্ছা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেই। তিনি শর্ত দিয়ে মুক্ত হওয়ার চেয়ে বন্দি থাকাকে সম্মানের মনে করেন। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে তিনি মুক্ত হওয়ার পক্ষে। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র মতে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ‘প্যারোলে খালেদা জিয়া মুক্ত হচ্ছেন’ এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে চারদিকে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলা নববর্ষের দিন বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয় ছাড়াও রাজনৈতিক ইস্যুতে কিছু আলোচনা হয়। তবে ওই আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি তিন নেতার কেউই।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নেত্রীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা যে ওঠেনি, তা নয়। তবে প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশে ও বিদেশে খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি রয়েছে।  তাই কোনো শর্ত দিয়ে তিনি মুক্তি নিতে রাজি হবেন, এটি তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় না।’  

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শারীরিকভাবে চেয়ারপারসন খুবই দুর্বল হলেও মানসিকভাবে তিনি সেই নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মনোবল ধরে রাখছেন।’ ওই নেতা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে প্যারোলের বিষয়টি এলে খালেদা জিয়া জানান, প্যারোল নিয়ে মুক্ত হওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। অন্যায়ের সঙ্গে তিনি আপস করবেন না।’ ওই নেতা আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া নিজেও নানাভাবে প্যারোলের কথা শুনতে পেরেছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এমনকি দলের সিনিয়র দু-একজন নেতাও তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এই সুযোগ নেওয়ার পক্ষে—এমন কথাও তাঁকে বলা হয়েছে। কিন্তু নেত্রী এ ধরনের প্রস্তাবে রাজি নন।’ এই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব গত রবিবার বিকেলে বিএসএমএমইউ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ আছেন। আগের চেয়ে খুব বেশি ইম্প্রুভ করেছেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি।’

প্যারোল ও সংসদে বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘না। এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। আমরা তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে আসছিলাম, তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ একই কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন গতকাল সোমবার সকালে শেরেবাংলানগরে জিয়াউর রহমানের কবরে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর।

গত রবিবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে প্যারোল নিয়ে বাইরে যে গুঞ্জন রয়েছে সে বিষয়ে কোনো কিছু আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘প্রথম হচ্ছে, প্যারোল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। প্যারোল আমাদের দলের বিষয় নয়। এটা খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের বিষয়। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করি নাই।’

সংসদে শপথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়নি। আমরা তো এই সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।’

গত মার্চের শেষ দিকে হঠাৎই খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। বলা হতে থাকে, ঈদের আগেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে কারাগার থেকে তাঁকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। ৬ এপ্রিল জামালপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।

গত রবিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী দলে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার আগ্রহ দেখান। কিন্তু তাঁরা ভাবলেন না আপসহীন নেত্রী আপস করেন কিভাবে? বরং বেগম জিয়া তাঁদের বলেছেন, যেসব মামলা হয়েছে, তা জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়া আরো জোরালো করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দেখা করার মধ্য দিয়ে অন্তত এতটুকু বোঝা যাচ্ছে, প্যারোল তিনি নিচ্ছেন না।

মন্তব্য