kalerkantho

বৈশাখ এসো দ্রোহের প্রত্যয়ে

সেলিনা হোসেন

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈশাখ এসো দ্রোহের প্রত্যয়ে

ফাইল ছবি

এ বছর আমরা নববর্ষকে স্বাগত জানাচ্ছি চোখের জলে, সঙ্গে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের উচ্চারণে। বছর শুরুর কয়েক দিন আগে দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ নুসরাতের মৃত্যু দেশবাসীকে ক্রোধে ক্ষিপ্ত করেছে।

তাই এ বছরের নববর্ষ বাংলাদেশের মানুষের জীবনে উৎসব মাত্র নয়। নুসরাতের মৃত্যুতে রাজপথে নেমে এসেছে প্রতিবাদী মানুষ। এর মধ্যে বলতে হচ্ছে ‘এসো হে বৈশাখ এসো’। এবারের বৈশাখে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক নুসরাতের মতো নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আর একটি প্রাণও এ দেশে ঝরবে না। আমরা প্রমাণ রাখতে চাই, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মূল্যবোধের উন্নয়ন ও মানবিক বোধোদয় হবে। আমরা জানি, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থারও অগ্রগতি হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা মানুষও পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানায়। প্রাণের উচ্ছ্বাসে ভরপুর করে উৎসবের আনন্দ। অথচ সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক এরূপ একটি জঘন্য অপরাধ এইসব সাধারণ মানুষের কাছে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তা সহজেই অনুমেয়।

যে মুহূর্তে আমরা বৈশাখ উদ্‌যাপনের ব্যস্ততায় সামগ্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক সেই মুহূর্তে নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের দেশের মুখেও কালিমা লেপন করল। শিল্পায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পদ্মা সেতু নির্মাণ, সামগ্রিকভাবে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদিকে ম্লান করে দিচ্ছে আমাদের দেশের নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং উত্যক্তকরণের বিষয়টি।

এবারের নববর্ষ আমরা উদ্‌যাপন করব নুসরাতের মতো মেধাবী, সাহসী, প্রতিবাদী ছাত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। এভাবে আর একটি প্রাণও ঝরবে না—এ প্রতিজ্ঞা হোক সবার।

টেলিভিশনে দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বলেছেন। গণমানুষের পক্ষে তাঁর অঙ্গীকার সীমাহীন।

টেলিভিশনে দেখেছি, পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. জাবেদ  পাটওয়ারীও  ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার নিশ্চয়তার কথা বলেছেন।

আমাদের প্রত্যাশা, এ বছরের পহেলা বৈশাখ শুধু বর্ষবরণ না হয়ে ন্যায়ের পক্ষে বিচারপ্রাপ্তির শতভাগ প্রত্যাশার নিশ্চয়তা নিয়ে আসবে।

জয় হোক বাঙালির শুভবোধের চেতনার। জয় হোক গণমানুষের অর্জিত লক্ষ্যের যাত্রাপথে শামিল হওয়ার প্রেরণার।

এবারও রমনার বটমূলে নতুন বছরকে গানে গানে বরণ করবে ছায়ানট। বাঙালি সংস্কৃতির চেতনাকে প্রদীপ্ত করতে ছায়ানট পালন করে চলেছে বিরামহীন দায়।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার সুরের ধারা ও চ্যানেল আই আয়োজন করবে বর্ষবরণ উৎসব। সহস্র কণ্ঠে শিল্পীরা গাইবে বাঙালির শাশ্বত চেতনার অবিনাশী সংগীত। দেশজুড়ে গীত হবে বাঙালি সংস্কৃতির নন্দিত বোধের সুরেলা তন্ময়তা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন, নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আইনে সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দেশবাসীকে স্বস্তির ফুল উপহার দিন। মানুষের বেঁচে থাকা সার্থক হয়ে উঠুক আপনার নির্দেশনায়।

প্রতিবাদের তীব্রতায় ১৪২৬ নেমে আসুক দেশবাসীর জীবনে। আবারও বলি, এসো হে বৈশাখ। ব্যক্তির আত্মচেতনা চিরজাগ্রত থাকবে বৈশাখের উত্তাল লহরিতে। সুস্বাগত ১৪২৬।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

 

আগুনপাখির মতো জেগে ওঠে বাঙালি

মন্তব্য