kalerkantho


বিশেষজ্ঞ মত

স্বাগত জানাই তবে...

মো. বজলুর রহমান

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



স্বাগত জানাই তবে...

ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ করানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। যারা এই কারবারে জড়িত তারা যদি উপলব্ধি করতে পারে যে তাদের ভালো হওয়া প্রয়োজন, তাহলে সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে এটা প্রকৃত হতে হবে। সত্যি যদি তারা সমাজের মূলধারায় ফিরতে চায়, ইয়াবা কারবার বন্ধে ভূমিকা রাখতে চায়, তবে ভালো। এটাও দেখতে হবে যে তারা ভালো উদ্দেশ্যে আসছে, নাকি অভিযানের কারণে কৌশল হিসেবে আত্মসমর্পণ করছে। তাদের কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে, যেন কেউ আত্মসমর্পণের নাম করে নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে না পারে।

বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আমি ২০১৫ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি ছিলাম। সেই সময় আইন প্রণয়নসহ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক উদ্যোগ এখন বাস্তবায়িত হয়েছে। কিছু বাস্তবায়নের পথে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। নতুন আইনে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। নির্বাহী আদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই তদন্ত করতে পারবেন বলেও শুনেছি। এতে দ্রুত সময়ে যেমন বিচার শেষ হবে তেমনি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞরাই তদন্ত করার সুযোগ পাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ এমন একটি পদক্ষেপ হবে বলেই আশা করি। তবে এর যেন অপব্যবহার না হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকা জরুরি। আমি বলতে চাই, আত্মসমর্পণের পরও ইয়াবা কারবারিদের ওপর কড়া নজরদারি থাকা দরকার। সমাজের মূল স্রোতধারায় ফেরার পর তারা কী করছে তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে সব সময়। তাদের এই আত্মসমর্পণ যেন ফলপ্রসূ হয় সেটাই কামনা করি।

লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

অনুলিখন : এস এম আজাদ



মন্তব্য