kalerkantho


অস্ত্র মাদক মামলায় এক মাসের মধ্যে চার্জশিটের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অস্ত্র মাদক মামলায় এক মাসের মধ্যে চার্জশিটের নির্দেশ

অস্ত্র ও মাদকের মামলায় এক মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে কী কারণে এই ব্যর্থতা তা সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা যাতে যথাসময়ে তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেন তা তদারকির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শক ও সব এসপির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নরওয়েপ্রবাসী বাংলাদেশি ড. নুরুল ইসলাম শেখকে ইয়াবা মামলায় আসামি করায় মামলার বাদী জয়দেবপুর থানার এসআই আবদুল হালিমকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজউদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এক রায়ে এ আদেশ দেন। নরওয়েপ্রবাসী বাংলাদেশি ড. মো. নুরুল ইসলাম শেখকে একটি ইয়াবা মামলায় জড়ানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মামলায় এ রায় দেন আদালত। নুরুল ইসলাম শেখের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফারুক আলমগীর চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মো. আবদুল কুদ্দুস বাদল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, অনেক সময় দেখা যায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে যায় কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদকসহ আটকের মামলায় অভিযোগপত্র দিতেও দেরি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে বিলম্বের কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। এ কারণেই অস্ত্র ও মাদকের মামলায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত তদন্ত হলে তাড়াতাড়ি বিচার সম্পন্ন হয়। আদালত বলেন, তদন্তে বিলম্বের কারণেই মামলার বিচার সম্পন্ন হতে দেরি হয়। সাক্ষী পাওয়া যায় না। কিন্তু মামলা হওয়ার পরপরই যদি অভিযোগপত্র দেওয়া যায় তবে মামলার সাক্ষীও পাওয়া যায়। মামলাও দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। আদালত ড. নুরুল ইসলাম শেখের প্রসঙ্গে বলেন, একজন প্রবাসী ব্যক্তি সমাজসেবা ও দেশপ্রেম থেকে দেশে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই ব্যক্তি কোনোভাবেই ১০ পিস ইয়াবা বহনের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। ভবিষ্যতের জন্য পুলিশকে সতর্ক করে দিয়ে আদালত বলেন, একজন নিরীহ মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো নিন্দনীয়। আর যাতে কোনো নিরীহ মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা না হয় সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেন আদালত। 

গত বছর ২৯ নভেম্বর জয়দেবপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় ১০ পিস ইয়াবাসহ রাজু আহমেদ নামের এক আসামিকে আটক দেখানো হয়। আর আটক ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই রাজেন্দ্রপুরের ড. মো. নুরুল ইসলাম শেখের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। তবে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ অবস্থায় ড. মো. নুরুল ইসলাম শেখ হাইকোর্টে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট গত বছর ৬ ডিসেম্বর তাঁকে জামিন দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ইয়াবার মামলায় আসামি করার ঘটনা তদন্তের জন্য গাজীপুর এসপিকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পর এসপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এরই মধ্যে নুরুল ইসলাম শেখকে বাদ দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে এসপির করা তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে ইয়াবা আটকের ঘটনার সঙ্গে নুরুল ইসলাম শেখের কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজু আহমেদের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেই ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে নুরুল ইসলাম শেখকে। এ অবস্থায় গতকাল হাইকোর্টে ওই মামলায় শুনানি শেষে উল্লিখিত আদেশ দেন আদালত।  



মন্তব্য