kalerkantho


বিশেষজ্ঞ মত

বিআরটিএকেই ভাঙতে হবে সিন্ডিকেট

ড. ইফতেখারুজ্জামান

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বিআরটিএকেই ভাঙতে হবে সিন্ডিকেট

শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের স্বার্থ দেখার পরিবর্তে পদ-পদবি ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছান। পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটি দেখতে পাওয়া যায়। পদবি ব্যবহার করে বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কোনো পরিবহন নেতা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিচ্ছেন, ঘুষ নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে শুধু ওই ব্যক্তি দায়ী নন, তাঁর সঙ্গে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। এটা ভাঙার দায়িত্ব বিআরটিএর। ওই পরিবহন নেতার দুর্নীতির সঙ্গে বিআরটিএর স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে কারা কারা জড়িত তা নিশ্চয় বিআরটিএর অনেকে জানেন। কিন্তু তাঁদের মুখ বন্ধ। কেউ মুখ খুলতে চান না। নীরবে চলে দুর্নীতি। দুর্নীতি চলতে চলতে বিআরটিএর লোকজন এখন আর এটিকে দুর্নীতিই মনে করছে না। সাধারণ মানুষ বাধ্য হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন করার পরও বাড়তি অর্থ দিয়ে সেবা পেতে। এর ভেতরের হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতি হচ্ছে সুশাসনের অভাবে। এটা দেশের সার্বিক চিত্র। সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে গিয়ে যে ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে, হয়রানির শিকার হচ্ছে, তা আমাদের টিআইবির সর্বশেষ খানা জরিপেও উঠে এসেছিল। সর্বোচ্চ হয়রানি হচ্ছে এমন তিনটি সংস্থার মধ্যে বিআরটিএ ও ছিল। বিআরটিএতে দুর্নীতি প্রকট। সুশাসনের অভাবে দ্রুত বাড়তে থাকা দুর্নীতি বিআরটিএকে কলুষিত করছে। বিআরটিএতে সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির চিত্র আমরা বছরের পর বছর ধরে দেখছি। তার মধ্যে পরিবহন নেতার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের নাম লেখাতে হচ্ছে। অথচ এই সেবা সহজে তাদের পাওয়ার কথা। এটা তারা পাচ্ছে না।

কিন্তু তা কি বিআরটিএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানেন না? তাঁরা জানেন। সেখানে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা। বিআরটিএতে পরিবহন খাতের নেতাদের প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি বেশ পুরনো। এ থেকে বিআরটিএকে বের হতে হবে। সেজন্য বিআরটিএর উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় ভূমিকা রাখতে হবে।

বিআরটিএর সেবার মানের অবনতি ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ উৎকণ্ঠিত। বিআরটিএ জিম্মি পরিবহন নেতার কারণে। তার প্রমাণ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রার্থীদের জিম্মি করে ঘুষ নেওয়ার এই উদাহরণ। সাধারণ মানুষ আবেদন করে দিনের পর দিন লাইসেন্স পাচ্ছে না। এই দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে হবে।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

অনুলিখন : পার্থ সারথি দাস

 



মন্তব্য