kalerkantho


এলো বসন্তের দিন মন রাঙানোর মৌসুম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



এলো বসন্তের দিন মন রাঙানোর মৌসুম

‘এক ফাগুনের গান সে আমার আর ফাগুনের কূলে কূলে/কার খোঁজে আজ পথ হারাল নতুন কালের ফুলে ফুলে’—সেকালে কবিগুরু মধ্য চৈত্রে মন গহিনে এমন ফাগুনের আলোড়ন জাগিয়ে তুললেও আজ আমরা ঠিকই পহেলা ফাল্গুনেই সেই আলোড়নের বাসন্তী রঙে রাঙিয়ে দেব নিজেদের। আজ বুধবার পহেলা ফাল্গুনের মন-মাতানো দোলায় দুলে উঠবে পুরো বাঙালি মানুষ-জমিন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে অন্তরে অন্তরে গেয়ে উঠবে ‘আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়।’

ফিবছর ফাগুনের এই দিনে নতুন নতুন আঙ্গিকে জমে ওঠে নতুন নতুন আয়োজন, উৎসব-পার্বণ। পুরনো চিরায়ত ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে মিলে যায় নবীন-প্রবীণ, নারী-পুরুষ, জাত-কুল সব। এ কালের নতুন প্রজন্মের উথলে ওঠা ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে নগর-শহর-গ্রামে। বাসন্তী বাতাসে মন উড়িয়ে নানা রঙে সেজে ওঠে সব জনপদ; সব প্রজন্মের বাঙালি।

‘পহেলা ফাল্গুনের জন্য নিজের হাতে রং-তুলির কারুকাজ করে একটি শাড়ি আর একটি পাঞ্জাবি বানিয়েছি, নিজের আর বন্ধুর জন্য। সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়ব দুজন; ঘুরব যেমন মন চায়’—বনানীর এক রেস্তোরাঁয় সহপাঠী বন্ধুর সঙ্গে খেতে এসে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রহমান এভাবেই নিজের প্রস্তুতির কথা জানান কালের কণ্ঠ’র কাছে। বন্ধু সায়মন পাশ থেকে অনেকটা লাজুক ঢঙে বলেন, ‘এক সপ্তাহ পরেই আমরা বিয়ে করব, তাই এবারের পহেলা ফাল্গুনটা একটু অন্য রকমভাবেই পালন করতে যাচ্ছি।’

গুলশান-১ ডিসিসি মার্কেটের সামনে ফুলের দোকানেও দেখা যায় তরুণ প্রজন্মের অনেকের ভিড়।

ফয়সাল নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমি যে অফিসে কাজ করি সেখানে কাল পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে অনুষ্ঠান হবে। তাই ফুল নিতে এসেছি। ফুল দিয়ে সাজানো হবে আমাদের পুরো অফিস।’

বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, ‘বেশি চাহিদা গাঁদা ফুলের। অনেকেই অর্ডার দিয়ে রেখেছে। কিন্তু সব চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। রাতে আবার শাহবাগে যাব আরো ফুল আনতে।’

এরই মধ্যে পহেলা ফাল্গুনের জোয়ারে ভাসতে প্রস্তুত হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। বিভিন্ন সংগঠনের রকমারি আয়োজন তো রয়েছেই। ব্যক্তি-পরিবারেও নানা প্রস্তুতি ছিল যথারীতি। নতুন পোশাক কেনার যেমন হিড়িক চলছিল, তেমনি ফুল-উপহার কেনাকাটা-সংগ্রহ, আদান-প্রদানের ছোটাছুটি ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মানিক মিয়া এভিনিউ ধরে আশপাশের এলাকা, ধানমণ্ডি লেক, রবীন্দ্রসরোবর, রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, হাতিরঝিল, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় বরাবরের মতো এবারও বিপুল মানুষের উৎসবমুখর সমাগম ঘটবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে এসব এলাকার বিভিন্ন সূত্র। এ ছাড়া বইমেলায় আজ ভিড় অনেক বেশি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে আয়োজক ও প্রকাশকদের।

সে অনুসারে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকার জন্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে বরাবরের মতোই আমরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখছি। বিভিন্ন পর্যায়ের নজরদারি থাকবে সব জায়গায়, যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ কেউ না পায়।’

প্রতিবছরের মতো এবারেও ‘জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষৎ’ পহেলা ফাল্গুন ‘বসন্ত উৎসব’ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এবার রাজধানীর চার মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে বসন্ত উৎসবের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় দিনব্যাপী সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চ, লক্ষ্মীবাজারের বাহাদুর শাহ্ পার্ক এবং উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণির উন্মুক্ত মঞ্চে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক কর্মী মানজার চৌধুরী সুইট জানান, এ বছর বসন্তের উৎসবের ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ আয়োজন শুরু করেছিলেন দেশের অন্যতম রবীন্দ্র গবেষক, লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক প্রয়াত ওয়াহিদুল হক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থপতি সফিউদ্দিন আহমেদ, আবৃত্তিশিল্পী কাজী আরিফ, আরিফ হোসেন বনি ও মানজার চৌধুরী সুইট। প্রথম দিকে এ উৎসবের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দেশের অন্যতম প্রধান কবি প্রয়াত শামসুর রাহমান।

আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সেখানে আয়োজন থাকবে গীত, নৃত্য ও ছন্দে বসন্ত বরণের নানা পর্ব।

বসন্ত বরণ উপলক্ষে আজ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানের। ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সংগঠন মিলে এ আয়োজন করেছে, যা চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

 

 



মন্তব্য