kalerkantho


বিশেষজ্ঞ মত

শঙ্কা নয় সতর্ক হতে হবে

ডা. শাহ মো. মনির হোসেন

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



শঙ্কা নয় সতর্ক হতে হবে

দুধ নিয়ে জরিপটির ফলাফলে ঝুঁকিপূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে এটি কিন্তু সারা দেশের চিত্র বলেই এখনই ধরা যাবে না। কারণ জরিপটি আপাতত ছোট পরিসরে শুধু ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় করা হয়েছে। এটি আরো বড় পরিসরে করতে পারলে পুরো চিত্র উঠে আসবে। তবে ছোট পরিসরে বলে এই ফলাফলকে গুরুত্বহীন ভাবার কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে, যেসব উপাদান পাওয়া গেছে, তা মানুষের শরীরের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর, যদি তা সহনীয় মাত্রার বেশি হয়; যেমনটা কিছু ক্ষেত্রে তো পাওয়াই গেছে।

এসব ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান নিয়ে আমাদের উদ্বেগের মূল কারণ হচ্ছে এই ক্ষতিকর দুধ মানুষের শরীরে গিয়ে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে। যেমন—ক্রোমিয়াম থেকে ধীরে ধীরে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে, সিসা থেকে কিডনি-লিভারে সর্বনাশ ঘটতে পারে, জীবাণু থেকে টাইফয়েডসহ নানা ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

তাই বলে আমরা শঙ্কিত হয়ে এখন দুধ খাওয়া ছেড়ে দেব? আমাদের দেশের শিশুরা কি দুধ ছাড়া পুষ্টির সহজ ও পর্যাপ্ত জোগান অন্য কিছুতে পাবে? সম্ভব না। তাই এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হলো, কোনোভাবেই গবাদি পশুর কোনো দুধই কাঁচা খাওয়া যাবে না। ভালোভাবে ফুটিয়ে খেতে হবে। শঙ্কা নয়, বরং সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এই জরিপের ফলাফল সামনে নিয়ে জরুরিভাবে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এসব দুধ উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় যারা জড়িত আছে তাদের সচেতন করা, সতর্ক করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় মনিটরিং জোরালো করতে হবে।

আমার কাছে একটি বিষয় খুবই জটিল মনে হচ্ছে, সেটি হলো পাস্তুরিত দুধে কেন ক্ষতিকর উপাদান থাকবে, মারাত্মক জীবাণু থাকবে? সেটি তো থাকার কথা না। তবে কি এই পাস্তুরিত দুধ প্রক্রিয়াকরণে কোনো ঘাটতি-ঘাপলা-ত্রুটি থেকে যাচ্ছে, সেগুলো দেখতে হবে। অন্য সব ক্ষেত্রেও মাঠপর্যায় থেকে পর্যবেক্ষণ ও মনিটর করতে হবে নিয়মিত।

শাহ মো. মনির হোসেন

পরামর্শক, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগার এবং সাবেক মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।



মন্তব্য