kalerkantho


উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

পদে থেকেই প্রার্থী হতে পারবেন চেয়ারম্যানরা

বিশেষ প্রতিনিধি   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পদে থেকেই প্রার্থী হতে পারবেন চেয়ারম্যানরা

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী সদস্যরা প্রার্থী হতে চাইলে পদত্যাগ করতে হবে না। নিজ পদে বহাল থেকেই তাঁরা এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান/মেয়র এবং সদস্য বা কাউন্সিলররা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তাঁদের বর্তমান পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ইসির এ সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদের নির্বাচনী আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সংসদ সদস্যরাও নিজ পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন।

উপজেলা পরিষদের পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলায় আজ সোমাবার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর এক দিন আগে গতকাল নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিল। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের ১২৯টি উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ আইন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় কোথাও বলা নেই যে বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ পদে বহাল থেকে এ পরিষদের  নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সে জন্য কমিশন মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। তবে তাঁরা মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় থেকে ভোটগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত পরিষদের অফিস ও যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। উপজেলা পরিষদ বা এর আওতাধীন কোনো ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভার কোনো কার্যক্রম বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কোনো কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারবেন না।’

কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রিটার্নিং অফিসারদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘কমিশনের সিদ্ধান্তটি যেহেতু উপজেলা পরিষদের বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, সেহেতু রিটার্নিং অফিসারদের নতুন করে আর কিছু জানানোর প্রয়োজন নেই। তাঁরা বিদ্যমান আইন অনুসারেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন যে উপজেলা পরিষদের বিদ্যমান বিধি-বিধানে এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগ করতে হবে—এমন কথা কোথাও উল্লেখ নেই। বরং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার ২৬ বিধিতে পদে বহাল থেকে প্রার্থী হলে কী ধরনের আচরণবিধি তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, তা বলা আছে। কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা প্রার্থী হতে পারেননি। ওই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসাররা প্রথমে ৩২ জন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এ ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২১ ধারা এবং তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। দণ্ডবিধির ২১ ধারায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও মিউনিসিপ্যালের কমিশনারদের সরকারি কর্মচারী বলা হয়েছে। এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ ধারা সম্পর্কে ইসি ও আদালতের ব্যাখ্যায় সিটি করপোরেশন ও পৌর মেয়রের পদকে লাভজনক পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিষয়টি আগে স্পষ্ট ছিল না। 

একাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে কমিশন তাঁদের অনেকের আপিল মঞ্জুর করেন। এরপর কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট হলে আদালত তাঁদের প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দেন এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদকে লাভজনক বলে ঘোষণা দেন। এ অবস্থায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী সদস্যসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান, মেয়র ও কাউন্সিলর বা সদস্যরা পদত্যাগ না করে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না সে প্রশ্ন ওঠে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সব পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারসহ (টিআইএন) আয়কর রিটার্নের রসিদ দাখিল করতে হবে কি না সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত জারি করেনি। কমিশনের গতকালের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় সংসদের সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের আয়কর দাতা হওয়া বাধ্যতামূলক না হলেও বর্তমানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তা আইনত বাধ্যতামূলক। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদের চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে এটির বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু আয়কর অধ্যাদেশের ১৮৪-এর বিধান অনুসারে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৫ সালের ১১ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করা হয়। এটি প্রথম প্রয়োগ হয় ২০১৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের নির্বাচনে। সে সময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের কারো টিআইএন না থাকলে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে করে নিতে হবে (নিবন্ধন)। মনোনয়নপত্র ফরমের ক-৩-এর প্রথম খণ্ডের তৃতীয় অংশের ৪ নম্বর ক্রমিকে প্রার্থীকে অবশ্যই ১২ ডিজিটের টিআইএন লিখতে হবে। ২০১৫ সাল থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রার্থীদের টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, এ বিষয়েও রিটার্নিং অফিসারদের নতুন করে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে।



মন্তব্য