kalerkantho


মন্ত্রীদের ‘পরীক্ষা’ শুরু

বাসে চড়ে স্মৃতিসৌধে, প্রথম দপ্তরে বসেই মন্ত্রীদের এক সুর—দুর্নীতি প্রশ্রয় দেব না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মন্ত্রীদের ‘পরীক্ষা’ শুরু

তারুণ্যোজ্জ্বল মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দেশের বীর সন্তানদের। ছবি : বাসস

বয়সে হয়তো তাঁরা সবাই তরুণ নন, কিন্তু চেতনায় তরুণ। বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নতির সোপানে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত ও অঙ্গীকারবদ্ধ। শপথ নেওয়ার পরদিন তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভার সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবস শুরু করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে।

তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ছিল তাঁদের এই শ্রদ্ধা জানানোর যাত্রাপথেও। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথমে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভার বাকি ৪৬ সদস্য নিজেদের পতাকাবাহী গাড়িতে না উঠে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চারটি মিনিবাসে চড়ে বসেন। গন্তব্য সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। আসন সংকুলান না হওয়ায় বাসের দুই সারি আসনের মাঝে ফাঁকা জায়গায় বাড়তি আসন জুড়েও বসতে হয় কয়েকজনকে। স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা সংসদ ভবনে ফেরেন ওই চারটি বাসেই। সেখান থেকে যাঁর যাঁর গাড়িতে ছোটেন মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে। সহযোদ্ধার মানসিকতায় একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে উঠে বসতে দেখা যায় একই গাড়িতে।

জানা গেছে, আজও বাসে চড়েই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবেন মন্ত্রীরা। সেখান থেকে বাসে করেই ঢাকায় ফিরবেন।

দুপুর তখন সাড়ে ১২টা। সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের নিচে গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিড়। চোখের সামনে এসে থামল ছাইরঙা জিপটি। জিপের সামনে বসে আছেন ডা. দীপু মনি, পেছনে মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। দীপু মনি এক মেয়াদে বিরতির পর মন্ত্রী হয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, নওফেল প্রথমবারের মতো উপমন্ত্রী হয়েছেন, একই মন্ত্রণালয়ে। দীপু মনি সাদা ও কমলা রঙের শাড়িতে আরো উজ্জ্বল। স্বভাবসুলভ হাসি সেই ঔজ্জ্বল্যে যোগ করেছে দীপ্তি। তিনি গাড়ি থেকে নেমে শুরুতেই বললেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। সহযোদ্ধা হিসেবে দিয়েছেন আমার প্রিয় ও যোগ্য ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে।’

সেখান থেকে লিফটে উঠে দুজনই গেলেন ১৯ তলায়। সেখানে তখন তাঁদের স্বাগত জানাতে ফুলের তোড়া হাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিড়। দপ্তরে নির্ধারিত আসনে বসে দীপু মনি এবং তাঁর পাশে বসে নওফেল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন নিতে থাকেন। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর বিকেল ৩টায় শিক্ষার সব দপ্তরপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁরা অফিস করেন।

গতকাল অন্য রকম আবহ ছিল সচিবালয় ও এর বাইরের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। ছিল নতুনের জয়গান। সৌরভ ছড়ানো প্রতিশ্রুতি।

সচিবালয়ে দীপু মনি ও নওফেলের আগে প্রথমে অবশ্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ শুরু করেন তাঁর রসালো বক্তব্য। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছার আয়োজন ছিল ৬ নম্বর ভবনের ১৬ তলায়। শুভেচ্ছা নেওয়ার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি একটু রস মিশিয়েই বললেন, ‘আমি অভিজ্ঞতায় পূর্ণ, রাজনীতি করছি ৫০ বছর ধরে। আশা করেছিলাম পূর্ণ মন্ত্রী হব, হয়েছি হাফ। তবে আমার অভিজ্ঞতা কিছুটা জমা রাখব, ভবিষ্যতে ফুল হলে কাজে লাগাব।’ তিনি হজ ব্যবস্থাপনায় আর কোনো বিতর্ক উঠবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নতুন মন্ত্রীরা। শিক্ষার মান বাড়াতে প্রতিশ্রুতি দেন শিক্ষার দীপু মনি, চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলতে চান তথ্যের হাছান মাহমুদ, পরিবেশের শাহাব উদ্দিন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী গ্রামকে শহরে রূপায়ণে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়ে সুবিচার নিশ্চিতে ভরসা দিলেন আনিসুল হক। মন্ত্রীদের বরণে অন্য রং ধরেছিল সচিবালয়। এর বাইরে রেলপথসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রীরা দুর্নীতিমুক্ত হয়ে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে এগোব : শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আস্থার বরখেলাপ হবে না। শিক্ষার সফলতা আরো সুসংগঠিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।’ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘ইশতেহার বাস্তবায়ন হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করব।’

দুর্নীতি ও ফাঁকফোকর বন্ধ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আধুনিক ও মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে পরিচিতিসভায় তিনি অংশ নেন। প্রথমবারের মতো তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। ছিলেন উচ্ছ্বসিত।

গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব : ডাকসাইটে আইনজীবী থেকে প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন শ ম রেজাউল করিম। তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে যান দুপুরে। তাঁর উপস্থিতির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী গ্রামেও শহরের সুবিধা দিতে মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে সরকারের বর্তমান মেয়াদেই দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সুবিচার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করব : দুপুর ১টা বাজার আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এলে নতুন আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয়। শুভেচ্ছা বিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মেয়াদে তাঁর অগ্রাধিকার হবে জনগণের জন্য সুবিচার ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গত সরকারের সময় অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। সেগুলো আরো জোরদার ও সুদৃঢ় করা হবে।’ আইনমন্ত্রী এটাও বললেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয়, তবে কঠিন হবে। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বাইরে পাঠানো হয়। দেশেও অনেককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়াও ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

ইশতেহার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ঢোকার আগে পথে পথেই ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে হয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে। তিনি ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ছিলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ে ঢোকার পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নন তিনি। গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাগত জানিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহান কাজে দেশের সকল গণমাধ্যমকে সঙ্গে চাই।’ দীর্ঘ ছয় বছর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর তাঁকে তথ্যের যে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা সফলভাবে পালনের জন্য গণমাধ্যমের সহায়তা কামনা করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন তথ্যসচিব আবদুল মালেক। এর পরপরই তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও এর সব সংস্থার প্রধানরা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রখ্যাত অভিনেতা হাসান ইমাম হঠাৎ এ সময় হাজির হন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আসেন। চিত্রপরিচালক সালাউদ্দিন লাভলুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডিরেক্টরস গিল্ড, রুহুল আমিন আকন্দের নেতৃত্বে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বন্ধন, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী রফিকুল আলম ও চলচ্চিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যম সংগঠন তথ্যমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।

রেলকে দুর্নীতিমুক্ত করব : নতুন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন দুপুর ২টায় রেল ভবনে যান। তিনি প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন। রেল ভবনের সভাকক্ষে পরিচিতি সভায় জানান, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সেই অনুযায়ী তিনি রেলকেও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন। অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো মোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো রফিকুল আলমসহ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিক। তাঁকে দেখতে এলাকা থেকেও লোকজন এসেছিল। মৌলভীবাজারের বড়লেখা থেকে আসা শরীফ উদ্দিন বললেন, ‘ভাইরে দেখার লাগি আইছি।’ একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দুপুরেই মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। মন্ত্রী বর্তমানে পরিবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’

অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার হবে : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবালয়ের বাইরে। সংসদ সদস্য হয়েই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. এ কে আবদুল মোমেন। প্রথম দিনে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তিনি সক্রিয় অংশীদারির মাধ্যমে পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্যগুলো অর্জনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবার সক্রিয় সহযোগিতা, অংশীদারি প্রয়োজন। সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতাও আমাদের প্রয়োজন।’ সাংবাদিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, বঙ্গবন্ধুর কয়েকজন খুনিকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, হেয় করার চেষ্টা—এ ধরনের ব্যক্তিকে আমরা অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করব।’

কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করব : কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক কৃষি মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমার মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ দানাদার খাদ্য উৎপাদনে বিশ্বের রোল মডেল। কৃষিপণ্য বাজারজাত, প্রক্রিয়াজাত ও সঠিক মূল্য নির্ধারণ করার মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক ও বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করতে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

বিমানকে পরিপাটি করে তুলব : বিকেল ৩টায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। অনুষ্ঠানে ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। নতুন মন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দরকে একটি দেশের ড্রয়িং রুম ও গেটওয়ে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি এ দুটিকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিপাটি করে তুলব।’

আস্থার মূল্য দিতে হবে : পুরনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বেশির ভাগই বাদ পড়লেও সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্থা রেখেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলকের ওপর। দুজনেই টিকে রইলেন একই মন্ত্রণালয়ে একই দায়িত্বে। এ কারণেই অন্য মন্ত্রণালয়ের মতো ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বিদায়ের সুর বাজেনি। গতকাল প্রথম কার্যদিবসেও তাই সবার মধ্যেই ছিল আনন্দ। সকালে আইসিটি বিভাগে কার্যালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এলে ফুল দিয়ে পুরনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নতুনভাবে বরণ করে নেন আইসিটি সচিব জুয়েনা আজিজ এবং এর সংস্থা ও দপ্তরের প্রধানরা। এরপর বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে নিজ দপ্তরে কাজ শুরু করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় শিল্প মন্ত্রালয়। সচিবালয়ে যখন নতুন মন্ত্রীদের বরণের উচ্ছ্বাস, তখন সেখানে বরণ ও বিদায়ের উভয়মুখী আবহ। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টায় নতুন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে স্বাগত জানান কর্মকর্তারা। সভা হয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে। সভার পর নূরুল মজিদ বিদায়ী শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

নতুন শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন বলে জানান। বিকেলে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার মন্ত্রণালয়ে যান।

মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স : নতুন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর আসাদুজ্জামান খান গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রণালয়ে যান। দপ্তরে যাওয়ার আগে নিচতলায় সাংবাদিকদের তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

উন্নয়নে চমক দেখাবে স্থানীয় সরকার : স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম দুপুর সোয়া ১টায় সচিবালয়ের নিজ কক্ষে ঢোকেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এ এস গোলাম ফারুক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামালউদ্দিন ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে বরণ করেন। সাংবাদিকদের তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গুণগত কাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা দেশে আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নে চমক দেখাতে চাই। সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা কাজ করব।’ প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ‘নিষ্ঠার সঙ্গে সবাই মিলে কাজ করলে, আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারব।’

ভূমিতে আসবে স্বচ্ছতা : সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরীর বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বিগত মন্ত্রিসভার একমাত্র সদস্য, যিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের সম্পদের হিসাব গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। গতকাল দুপুরে তিনি মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে আসেন। এ সময়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান পাটোয়ারী মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা বিগত সরকারের আমলেই ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছি, এখন এটাকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

শ্রমিকবান্ধব মন্ত্রণালয় : শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান তাঁর মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকবান্ধব মন্ত্রণালয় হিসেবে এগিয়ে নিতে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

 



মন্তব্য