kalerkantho


প্রথম সফরেই রোহিঙ্গা শিবির

সংকটের গুরুত্বের বার্তা দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সংকটের গুরুত্বের বার্তা দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরুর প্রথম সপ্তাহেই কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির সফর করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ সংকটের গুরুত্বের বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন দেশটির নতুন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। তাঁর তিন দিনের কক্সবাজার সফর শেষে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, ‘কক্সবাজারে এই সফর হচ্ছে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর (রাষ্ট্রদূত মিলার) প্রথম সফর, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুর গুরুত্বকেই তুলে ধরে।’

রাষ্ট্রদূত মিলার গত মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজার সফর করেন। সফরকালে তিনি নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে শরণার্থীদের সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকারকে স্বাগত জানান। রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও মিলার তাঁর সমর্থন জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাঁচ জেনারেল এবং সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিটের বিরুদ্ধে তাঁর দেশের নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শরণার্থী সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব  পাওয়ার সুযোগ, চলাফেরার স্বাধীনতা ও জীবিকা অর্জনের সুযোগসহ আনান কমিশনের প্রধান সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার গত ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন। বাংলাদেশকে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ শক্তিশালী সম্পর্কের পেছনে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত মিলার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি শিবির ও স্থানীয় জনপদ পরিদর্শন করেন। তিনি কোনারপাড়ায় গিয়ে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখেন। ওই রোহিঙ্গাদের অবস্থানস্থলের ঠিক পেছনেই উঁচু সীমান্ত বেড়া তৈরি করা হয়েছে। মিলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা শিবিরের বেশ কয়েকটি স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সেগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ক্লিনিক, খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, পাচার রোধ ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র এবং শিক্ষাকেন্দ্র অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আরো জানায়, রাষ্ট্রদূত মিলার সেখানে চলমান ত্রাণ তৎপরতার জটিলতা ও বিশালতা সম্পর্কে একটি ধারণা পান। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মর্মস্পর্শী কাহিনী শোনেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তিনি শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলার চলতি বিষয় ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে জাতিসংঘ এবং সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

কক্সবাজারে বৈঠকগুলোয় রাষ্ট্রদূত মিলার ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ যে অনন্য উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, গত বছর আগস্ট মাসে নতুন করে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে বার্ষিক ২০ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে।

 



মন্তব্য