kalerkantho


স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জামায়াতের

জোটে ২৫ আসন চাইতে পারে

এম বদি-উজ-জামান   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জামায়াতের

দল হিসেবে এখন আর জামায়াতের নিবন্ধন নেই। প্রতীক নেই। তবে তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক। জামায়াত নির্বাচনও করতে চায়। কিন্তু কোন প্রতীকে? এ প্রশ্নে দোটানায় পড়েছে রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা দলটি। দলে ব্যক্ত হচ্ছে দুই ধরনের মত। এক পক্ষ বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে এবং আরেক পক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কোনো প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের পক্ষে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করারই সিদ্ধান্ত হয়েছে জামায়াতে। এ সিদ্ধান্ত বিএনপিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। পাশাপাশি চলছে আসন ভাগাভাগি নিয়েও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে দর-কষাকষি। 

এক সূত্রে জানা গেছে, জোটের কাছে জামায়াত ৫৫টি আসন চাইতে পারে। তবে তাদের লক্ষ্য অন্তত ২৫টি আসন, কিছুতেই এর কম নয়। এরই মধ্যে যেসব আসনে নিজ দলের প্রার্থীরা এক বা একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন সেসব আসনই তারা ধরে রাখতে চায়। পাশাপাশি রাজধানীর ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসন চায় দলটি। এ আসনে দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেবে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন শফিকুর রহমান। আসন বিষয়ে আরো দু-এক দিন সময় নিতে চান দলের নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আসনবণ্টন এবং প্রতীক নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে যারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে তারা এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে। আর যাদের নিবন্ধন নেই এমন দলগুলোর প্রশ্নে বিএনপির দলীয় ফোরামে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। জামায়াতের নায়েবে আমির (ভারপ্রাপ্ত প্রধান) মিয়া গোলাম পরোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, জামায়াতের প্রার্থী তালিকা দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পথে। দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ কালের কণ্ঠকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর আসন বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা চূড়ান্ত করতে আরো দু-এক দিন সময় লাগবে।

১৯৭৯ সালের মে থেকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায় জামায়াত। ১৯৮৮ সালের নির্বাচন ছাড়া ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি। কিন্তু নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টে রায়ের পর সেই সুযোগ হারিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ কাউকে দেওয়া যাবে না—সুপ্রিম কোর্ট থেকে এটা ইসিকে জানানোর পর জামায়াত প্রতীকও হারিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় দলটির পাঁচ শীর্ষস্থানীয় নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সোবহান ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ সালে করা নাশকতার ঘটনায় দায়ের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক মণ্ডল (সাতক্ষীরা), হামিদুর রহমান আজাদসহ (কক্সবাজার) দলটির অনেক কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা কারাগারে বা পলাতক। পাশাপাশি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকে আগের মতো দাবি করার সুযোগ নেই। এসবের কারণে দলটির দাবির মাত্রা কমে গেছে। তার পরও কমপক্ষে ২৫টি আসনের জন্য জোটের সঙ্গে তারা দর-কষাকষি করবে বলে জানা গেছে।

যে ২৫ আসন চাইতে পারে : সিলেট-৫, সিলেট-৬, পিরোজপুর-১, পিরোজপুর-২, পটুয়াখালী-২, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫, ঝালকাঠি-২, খুলনা-৫, খুলনা-৬, সাতক্ষীরা-১, সাতক্ষীরা-২, সাতক্ষীরা-৩, সাতক্ষীরা-৪, যশোর-১, যশোর-২, যশোর-৫, যশোর-৬, কুষ্টিয়া-২, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩, বাগেরহাট-৪, মেহেরপুর-১, চট্টগ্রাম-১৫, চট্টগ্রাম-১৬, কক্সবাজার-২, কক্সবাজার-৩, কুমিল্লা-১১ ও ময়মনসিংহ-২।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি আসনে জোটগতভাবে এবং চারটিতে এককভাবে নির্বাচন করে দলটি। বিজয়ী হয় মাত্র দুটি আসনে। ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে ৩০টি এবং এককভাবে একটিতে নির্বাচন করে জামায়াত। বিজয়ী হয় ১৭টি আসনে। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ আসনে প্রার্থী দিলেও বিজয়ী হয় মাত্র তিনটি আসনে। এ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে চরম বিরোধের কারণেই তারা এত আসনে প্রার্থী দেয়, যার ফলে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিলেও ১০টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে জামায়াত। এ ছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছিল দলটি।



মন্তব্য