kalerkantho


হঠাৎ কেন ‘তত্ত্বাবধায়ক’

বিশেষ প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হঠাৎ কেন ‘তত্ত্বাবধায়ক’

ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে সংবিধানের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা দেওয়ার কথা বলেও কৌশলগত কারণে শেষ মুহূর্তে সেটা দেয়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বরং এর বদলে ফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি রূপরেখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেন। ফলে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, কেন শেষ মুহূর্তে দেওয়া হলো না ওই প্রস্তাব।

গত ৭ নভেম্বর দ্বিতীয় দফা সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলে। সংলাপের শুরুতে ঐক্যফ্রন্টের চার দফা দাবিসংবলিত লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়। কিন্তু ফ্রন্টের দেওয়া নির্বাচনকালীন সরকারের এ প্রস্তাব ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকে নাকচ করে দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য হলো সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার আইনগত ও সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি নেই।

এর আগে গত ১ নভেম্বর প্রথম দফা সংলাপে আলোচনা প্রসঙ্গে সংবিধানের মধ্য থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। 

কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, মূলত আলোচনা বা সমঝোতা একটি জায়গায় পৌঁছানোর পরই ফ্রন্ট নেতারা ওই প্রস্তাব উপস্থাপন করতে আগ্রহী। আর এ জন্যই প্রস্তাবটি এখনো তাঁরা রেখে দিয়েছেন। যেটি এখনো বাতিল হয়নি। পর্দার আড়ালে বা অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় সমঝোতার পথ তৈরি হলে ঐক্যফ্রন্ট ওই প্রস্তাব দেবে—কালের কণ্ঠকে এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির পাশাপাশি ফ্রন্টের প্রভাবশালী একাধিক নেতা।

তাঁদের মতে, আগেই ওই প্রস্তাব দিলে এবং সেটি বাতিল হলে বিরোধী জোটের কাছে আর কোনো প্রস্তাব থাকবে না। কিন্তু কোনো আলোচনার আগে তা উপস্থাপন করলে সরকারের কাছে প্রথমত ‘নতি স্বীকার’ হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন। দ্বিতীয়ত, সরকার এমনিতেই কিছু মানছে না; তাই ফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন, আলোচনা হয়ে একটি স্তরে গেলে সংবিধানসম্মত ওই প্রস্তাব দেওয়া হবে।

গত ৬ নভেম্বর রাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে রেখেই নির্বাচনকালীন সরকারের একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়। যেখানে সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ, নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো থেকে মন্ত্রী করে তাঁদের স্বরাষ্ট্র বা জনপ্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি এবং তাঁর ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাজা স্থগিত করার প্রস্তাব ছিল।

গত ৫ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সুধীসমাজের তিন প্রতিনিধি ড. শাহদীন মালিক, ড. আসিফ নজরুল ও ড. বোরহান আহমেদ ওই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেন, যেটা নিয়ে ৬ নভেম্বর তাঁরা আলোচনা করেন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে। আর ওই দিন রাতেই স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে এটি স্থগিত করা হয়।

ওই দিন বৈঠকে উপস্থিত নেতারা মত প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা সাত দফার সঙ্গে সংবিধানসম্মত ওই প্রস্তাব সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে এখনই তা দেওয়া হলে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনমনেও এমন বার্তা ছড়িয়ে যাবে যে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দাবির ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট পিছু হটেছে বা নতি স্বীকার করেছে। কিন্তু সরকার যদি বলে যে, সংবিধানের ভেতর থেকে প্রস্তাব দিতে তখনই ওই প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

৬ নভেম্বরের বৈঠকে ওই প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পর উপস্থিত সব নেতাকে এ বিষয়ে মুখ না খোলার জন্য শীর্ষপর্যায়ের নেতারা নির্দেশনা দেন। ফলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির একাধিক নেতা এবং ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র কথা হলেও তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



মন্তব্য